আফ্রিকা কাপ অফ নেশনস ট্রফি নিয়ে মাঠ প্রদক্ষিণ সেনেগাল দলের। ছবি: রয়টার্স।
কেড়ে নেওয়া খেতাবের ট্রফি নিয়ে প্যারিসের স্টেডিয়ামে প্যারেড সেনেগালের ফুটবলারদের! মরক্কোর হুঁশিয়ারি উড়িয়ে জাতীয় দলের জার্সিতেও নতুন তারা যোগ করেছে আফ্রিকার দেশটি। নিজেদের অনড় অবস্থান আরও এক বার প্রকাশ্যে বুঝিয়ে দিল সেনেগালের ফুটবল সংস্থা।
আফ্রিকা কাপ অফ নেশনস ফাইনালে মরক্কোকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় সেনেগাল। ফাইনালের দু’মাস পর কনফেডারেশন অফ আফ্রিকান ফুটবল (সিএএফ) সেনেগালের খেতাব কেড়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানায়। একই সঙ্গে মরক্কোকে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করে আফ্রিকার ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা। তার পর হুঁশিয়ারি দিয়ে মরক্কোর ফুটবল সংস্থা জানায়, সেনেগাল প্রকাশ্যে আফ্রিকা কাপ অফ নেশনস ট্রফি প্রদর্শন করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেই হুঁশিয়ারিকে আগ্রাহ্য করে ট্রফি প্রদর্শন করে বিতর্ক জিইয়ে রাখল সেনেগাল।
সেনেগাল-পেরু ম্যাচের আগে স্তাদ দ্য ফ্রান্সে একটি অনুষ্ঠান হয়। সেই অনুষ্ঠান শেষ হলে অধিনায়ক কালিদু কুলিবালির নেতৃত্বে ট্রফি নিয়ে মাঠে নেমে পড়েন সেনেগালের ফুটবলারেরা। প্রায় বিজয় উৎসবে সামিল হন তাঁরা। গোটা মাঠ ঘুরে ঘুরে দর্শকদের ট্রফি দেখান তাঁরা। শনিবার পেরুর বিরুদ্ধে যে জার্সি পরে সেনেগালের ফুটবলারেরা খেলতে নামেন, তাতেও ছিল দু’টি তারা। অর্থাৎ নিজেদের দু’বার আফ্রিকা কাপ অফ নেশনস হিসাবে দেখাতে চেয়েছে সেনেগাল। উল্লেখ্য, ২০২১ সালে প্রথম বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল তারা।
গত ১৮ জানুয়ারি ফাইনালের শেষ মুহূর্তে মরক্কোকে পেনাল্টি দেওয়ার প্রতিবাদে মাঠ থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন সেনেগালের কয়েক জন ফুটবলার। পরে সাদিয়ো মানের অনুরোধে মাঠে ফেরেন তাঁরা। মরক্কো অবশ্য পেনাল্টি থেকে গোল করতে পারেনি। চ্যাম্পিয়ন হয় সেনেগাল। কিন্তু ফুটবলারদের মাঠ ছাড়ার শাস্তি হিসাবে সেনেগালের খেতাব কেড়ে নেওয়া হয়েছে। সিএএফ জানিয়েছে, মরক্কোর আবেদন বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে সেনেগাল ম্যাচটি ‘পরিত্যাগ’ করে। তাই ফাইনালের ফল মরক্কোর অনুকূলে ৩-০ নথিভুক্ত করা হয়েছে। মরক্কোকে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হয়। যুক্তি হিসাবে বলা হয়, খেলা শেষ হওয়ার আগে রেফারির অনুমতি ছাড়া কোনও দলের ফুটবলারেরা মাঠ ছাড়তে পারেন না। এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ সেনেগাল আগেই আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তা নিয়ে আফ্রিকার ফুটবলের নাটক এখনও অব্যাহত।