FIFA World Cup 2026

মায়ামি বিমানবন্দরে ১১ ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ, রাখা হয় বন্দিদের ঘরে, আমেরিকার অসহনীয় অভিজ্ঞতার শিকার ‘স্বপ্নপূরণ’ না হওয়া রেফারি

স্বপ্ন ছিল, দেশের প্রথম রেফারি হিসাবে বিশ্বকাপে ম্যাচ খেলাবেন। কিন্তু আমেরিকার অভিবাসন দফতরের কড়াকড়িতে সেই স্বপ্ন পূরণ হল না ওমর আব্দুলকাদির আর্তানের। তিনি আমেরিকায় কাটানো অসহনীয় অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়েছেন।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১০ জুন ২০২৬ ১৩:২৫
football

সোমালিয়ার সেই রেফারি। — ফাইল চিত্র।

স্বপ্ন ছিল, দেশের প্রথম রেফারি হিসাবে বিশ্বকাপে ম্যাচ খেলাবেন। সেই সুযোগও এসেছিল। কিন্তু আমেরিকার অভিবাসন দফতরের কড়াকড়িতে সেই স্বপ্ন পূরণ হল না ওমর আব্দুলকাদির আর্তানের। সোমালিয়ার সঙ্গে আমেরিকার কূটনৈতিক সমস্যার কারণে দেশে ফেরানো হল ওমরকে। তিনি আমেরিকায় কাটানো অসহনীয় অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়েছেন।

Advertisement

ওমর জানিয়েছেন, মায়ামি বিমানবন্দরে তাঁকে ১১ ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। বন্দিদের জন্য রাখা একটি ঘরে তাঁকে অনেকক্ষণ বসিয়ে রাখা হয়। এর পর বিমান ধরে ফেরত পাঠানো হয় ইস্তানবুলে। ওমর জানিয়েছেন, ফেরত পাঠানোর কোনও কারণ দেখানো হয়নি আমেরিকার তরফে। কেন তাঁকে আমেরিকায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হল না সে সম্পর্কেও কিছু বলা হয়নি।

ওমর আফ্রিকা মহাদেশের সেরা রেফারির মর্যাদা পেয়েছেন। তিনি বলেছেন, “আমি খুব, খুব হতাশ। আমি সাধারণ একজন রেফারি, যে নিজের স্বপ্ন নিয়ে বাঁচতে চেয়েছিল। বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলানোই আমার স্বপ্ন ছিল। আমার কাছে সব কাগজপত্র সঠিক ছিল। সঠিক ভিসা ছিল। মনে হয় আমার দেশের সঙ্গে সমস্যার কারণেই ঢুকতে দেওয়া হল না।”

সংবাদসংস্থা এএফপি জানিয়েছে, আরতানের কাছে আমেরিকার বৈধ ভিসা এবং সোমালিয়ার কূটনৈতিক পাসপোর্ট ছিল। তা-ও তাঁকে মায়ামি বিমানবন্দর থেকেই ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তিনি ইস্তানবুল চলে গিয়েছেন। স্বাভাবিক ভাবেই বিশ্বকাপ শুরুর আগেই এই ঘটনায় তৈরি হয়েছে বিতর্ক।

ঘটনায় ক্ষুব্ধ সোমালিয়ার প্রাক্তন ফুটবল অধিনায়ক সিসে আদেন আবশির বলেছেন, ‘‘ওমর আরতান আফ্রিকার সবচেয়ে সম্মাননীয় রেফারি। গোটা ফুটবল বিশ্বের উচিত ওঁর পাশে দাঁড়ানো। আমেরিকায় ঢুকতে বাধা দেওয়া এবং বিশ্বকাপের ম্যাচ পরিচালনার সুযোগ কেড়ে নেওয়া শুধু তাঁর ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়। এটা ফুটবলের ন্যায্যতা, যোগ্যতা এবং ফেয়ার প্লে-র প্রতি অঙ্গীকারকেও ক্ষুণ্ণ করে।’’ উল্লেখ্য, আরতান সোমালিয়ার যুব এবং ক্রীড়া মন্ত্রকের অন্যতম প্রধান পরামর্শদাতাও।

ফিফা অবশ্য দায় ঝেড়ে ফেলেছে। তারা জানিয়েছে, আয়োজক দেশের অভিবাসন নীতির ব্যাপারে তাদের কোনও হাত নেই। কেন ওমরকে কানাডা বা মেক্সিকোয় ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হল না, সে সম্পর্কেও স্পষ্ট করে জানানো হয়নি।

Advertisement
আরও পড়ুন