জুটি: তানিশার সঙ্গে ডাবলসে জয়ের পথে সিন্ধু। এ বার তাঁদের সামনে চিন। ছবি: ব্যাডমিন্টন ফটো।
উবের কাপে ডেনমার্কের কাছে প্রথম টাইয়ে হারের পরে গ্রুপের দ্বিতীয় ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ালেন ভারতের মেয়েরা। পি ভি সিন্ধুরা ৪-১ ফলে হারালেন ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে ব্রোঞ্জ পদকজয়ী ইউক্রেনকে। ফলে কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার আশা এখনও রয়েছে ভারতের মেয়েদের।
শনিবার রাতে ডেনমার্কে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় ভারতের জয়ে প্রধান ভূমিকা নেন সিঙ্গলসে উন্নতি হুডা, তন্বি শর্মা এবং দেবিকা সিহাগ। পাশাপাশি ডাবলসে সিন্ধু এবং তানিশা ক্রাস্টোর জুটিও স্ট্রেট সেটে জয় পায় ২১-১৮, ২১-১৫ ফলে। তবে আর একটি ডাবলসে হারে কবিপ্রিয়া সেলভাম এবং সিমরন সিংঘির জুটি।
বিশ্বের ২৩ নম্বর উন্নতি প্রথমে জেতেন ইউক্রেনের মেয়েদের সিঙ্গলসে এক নম্বর ও বিশ্ব ক্রমপর্যায়ে ৪১ নম্বরে থাকা পলিনা বুরোভার বিরুদ্ধে। ফল ২১-১৯, ২২-২০। এর পরে বিশ্বের ৩৫ নম্বর তন্বি, যিনি গত বছর বিশ্ব ব্যাডমিন্টন সংস্থার জুনিয়র বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে রুপো জিতেছিলেন ইয়েভহেনিয়া কান্টেমিয়ারকে ২১-১২, ১৭-২১, ২১-১০ ফলে হারিয়ে। দু’বারের অলিম্পিক্স পদকজয়ী সিন্ধুকে এই টাইয়ে সিঙ্গলস থেকে বিশ্রামে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল দল। বদলে এ বছরের তাইল্যান্ড মাস্টার্স চ্যাম্পিয়ন দেবিকা সিঙ্গলসে নামেন। তিনি হারান মারিয়া স্টোলিয়ারেঙ্কোকে ২৩-২১, ২১-১৩ ফলে। তবে প্রথম ডাবলসে কবিপ্রিয়া এবং সিমরন ১১-২১, ১৭-২১ ফলে বুরোভা-কান্টেমিয়ার জুটির কাছে হারেন। এর পরে সিন্ধু এবং অলিম্পিয়ান তানিশার জুটি ৪-১ জয় সম্পূর্ণ করেন স্টোলিয়ারেঙ্কো ও সোফিয়া লাভরোভাকে হারিয়ে।
সোমবার সিন্ধুদের কঠিন পরীক্ষা। তাঁদের সামনে শীর্ষবাছাই চিন। এই ম্যাচে জিতলেই কোয়ার্টার ফাইনালের পথ পরিষ্কার হবে ভারতের মেয়েদের। ১৬টি দলকে চারটি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে। প্রতি গ্রুপ থেকে প্রথম দুটি দল শেষ আটে যাবে। এই অবস্থায় ভারত প্রথম টাই হারায় সিন্ধুদের উপরে চাপ বেশি। এর আগে উবের কাপ থেকে দু’বার ব্রোঞ্জ জিতেছে ভারত ২০১৪ ও ২০১৬ সালে সেমিফাইনালে উঠে। পাশাপাশি টমাস কাপে লক্ষ্য সেনরা গ্রুপের প্রথম ম্যাচে শুক্রবার কানাডাকে ৪-১ হারানোর পরে সোমবার মুখোমুখি হবে অস্ট্রেলিয়ার।
এ দিকে টমাস, উবের কাপ চলার মধ্যেই ডেনমার্কে বার্ষিক সভায় ব্যাডমিন্টনের স্কোরিং পদ্ধতিতে বড়সড় বদল আনল বিশ্ব ব্যাডমিন্টনের নিয়ামক সংস্থা। এত দিন ২১ পয়েন্টের সর্বাধিক তিনটি গেমে সিদ্ধান্ত হত ম্যাচে জয়-হারের। নতুন নিয়মে ২১ পয়েন্টের বদলে সিদ্ধান্ত হবে ১৫ পয়েন্টের সর্বাধিক তিনটি গেমে। আগামী বছর ৪ জানুয়ারি থেকে এই নিয়ম চালু হবে। বিশ্ব ব্যাডমিন্টন সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, ‘‘৩x১৫ স্কোরিং পদ্ধতি আনা হয়েছে গেমগুলিতে আরও বেশি উত্তেজনা বাড়াতে, সূচিতে আরও উন্নতি এবং খেলোয়াড়দের পরিশ্রম এবং দ্রুত ক্লান্তি কাটিয়ে ওঠার কথা ভেবে।’’ এই সিদ্ধান্তে ৩x২১ স্কোরিং পদ্ধতি বিদায় নিল। যা আধুনিক ব্যাডমিন্টনে প্রায় দু’দশক জুড়ে দেখা গিয়েছে।
তবে অনেকেই এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আগেই কথা বলেছেন। যেমন প্রাক্তন বিশ্বসেরা সাইনা নেহওয়াল স্পষ্ট নিজের আপত্তির কথা জানিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘‘পরিবর্তন যদি আনতেই হয় তা হলে দেখতে হবে তাতে যেন খেলার মান, ভারসাম্য ও ন্যায্য প্রতিদ্বন্দ্বিতার উপরে কোনও প্রভাব না পড়ে।’’