আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নৈশভোজে হামলাকারী বন্দুকবাজ কোল টমাস অ্যালেন। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
ওয়াশিংটন হিলটন হোটেলে হামলার ১০ মিনিট আগেই পরিবারের সদস্যদের কাছে নিজের লিখিত বিবৃতি পাঠিয়ে দিয়েছিলেন কোল টমাস অ্যালেন। ক্যালিফর্নিয়ার ৩১ বছর বয়সি এই যুবক জানিয়েছিলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তাঁর প্রশাসনের সকল উচ্চপদস্থ কর্তাকেই তিনি মেরে ফেলতে চান। কেবল এক ভারতীয় বংশোদ্ভূত কর্তাকে ‘হিটলিস্ট’ থেকে বাদ রেখেছিলেন অ্যালেন। তিনি মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান কাশ পটেল। কেন কাশকে ছাড় দিয়েছেন, তার ব্যাখ্যা নেই। তবে বাকিদের উপর কিসের ক্ষোভ, বিবৃতিতে তা বিস্তারিত জানিয়েছেন অ্যালেন।
ওয়াশিংটন হিলটন হোটেলে শনিবার রাতে হোয়াইট হাউসের নৈশভোজের আয়োজন করা হয়েছিল। বহু সাংবাদিক, উচ্চপদস্থ কর্তাব্যক্তি সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ট্রাম্পের সঙ্গে ছিলেন তাঁর স্ত্রী তথা আমেরিকার ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। এ ছাড়া, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্সও সেখানে ছিলেন। ২৫০০-র বেশি অতিথিতে ঠাসা হিলটন হোটেলে একাধিক অস্ত্র নিয়ে আচমকা ঢুকে পড়েন বন্দুকবাজ যুবক। ট্রাম্পরা যেখানে ছিলেন, নিরাপত্তারক্ষীরা সেখানে পৌঁছোনোর আগেই অ্যালেনকে আটকে দিয়েছিলেন। তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মার্কিন আধিকারিকদের উদ্ধৃত করে নিউ ইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে, হামলার ১০ মিনিট আগে পরিবারকে লিখিত ‘ইস্তাহার’ পাঠিয়েছিলেন এই যুবক। পরে তাঁর আত্মীয়ই তা পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন।
বিবৃতিতে অ্যালেন জানান, কাশ ছাড়া ট্রাম্প প্রশাসনের আধিকারিকেরা পদমর্যাদা অনুযায়ী তাঁর নিশানায় রয়েছেন। তবে যাঁরা ওই নৈশভোজে যোগ দিয়েছিলেন, তাঁদের সকলকেই তিনি অপরাধী বলে মনে করেন। কারণ সকলে এক ‘বিকৃতমনস্ক, ধর্ষক এবং বিশ্বাসঘাতকের বক্তৃতা শোনার জন্য সেখানে জড়ো হয়েছেন। অ্যালেন লেখেন, ‘‘যখন তুমি নিজে বঞ্চিত, তখন এক গালের বদলে অন্য গাল পেতে দেওয়া যায়। কিন্তু শরণার্থী শিবিরে আমাকে কেউ ধর্ষণ করেনি। আমি সেই মৎস্যজীবী নই, যাঁকে বিনা বিচারে মেরে ফেলা হয়েছে। অন্যেরা যখন নির্যাতিত, নিপীড়িত হয়, তখন অন্য গাল পেতে দেওয়ার কথা বলে না খ্রিস্টিয় আচরণবিধি। সেটা আসলে অপরাধে সহায়তা করার শামিল।’’ নাম না করে তিনি ট্রাম্পকেই ‘নিপীড়ক’ বলে উল্লেখ করেছেন বলে অনেকে মনে করছেন। প্রশাসনের বাকিরা তাঁকে সেই কাজে সহায়তা করছেন বলে তাঁরাও অ্যালেনের চোখে সমান অপরাধী।
ওয়াশিংটন হিলটন হোটেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও ব্যঙ্গ করেছেন অ্যালেন। নৈশভোজের এক দিন আগে থেকেই তিনি ওই হোটেলে ছিলেন। দাবি, নৈশভোজের অতিথিদের উপরেই নিরাপত্তারক্ষীদের নজর ছিল। আগে থেকে হোটেলে যাঁরা ছিলেন, তাঁদের গুরুত্বই দেওয়া হয়নি। তাই সহজেই তিনি একাধিক অস্ত্র নিয়ে ট্রাম্পদের সামনে চলে যেতে পেরেছিলেন। অ্যালেন লিখেছেন, ‘‘যদি আমি আমেরিকার নাগরিক না হয়ে কোনও ইরানি এজেন্টও হতাম, আমার সঙ্গে বড় কোনও মারণাস্ত্রও থাকত, তবু কেউ কিছু দেখতে পেত না। আশা করি, আমার দেশ যোগ্য শাসক পাওয়ার পর এই পরিস্থিতি বদলাবে।’’
দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার একজন শিক্ষক এবং ভিডিয়ো গেম ডেভেলপার হিসাবে অ্যালেন কাজ করতেন। ক্যালিফর্নিয়া ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক তিনি। তার পর ক্যালিফর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে স্নাতকোত্তর করেন। নাসায় গবেষণাও করেছেন। এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে কাশ পটেলের এফবিআই।