—প্রতীকী চিত্র।
ইনস্টাগ্রাম বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে শিশুদের যৌন হেনস্থা সংক্রান্ত বিষয়বস্তু প্রচারের অভিযোগে মেটার কর্তাদের তলবের জন্য কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব মন্ত্রকের আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছেন বলে সূত্রের খবর। সরকারের তরফে মেটার কাছে এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা চাওয়া হবে। অন্য দিকে, কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি সচিব এস কৃষ্ণন জানান, সাইবার হানার আশঙ্কায় মন্ত্রক ফোন নম্বর ছাড়াই শুধু নাম ব্যবহার করে বার্তা বিনিময়ের পদ্ধতির ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে। চলতি সপ্তাহে নোটিস দেওয়া হয়েছে ওয়টস্যাপ, টেলিগ্রাম, সিগন্যালের মতো মেসেজিং অ্যাপকে। সূত্রের খবর, এ নিয়ে আজ মেটার প্রতিনিধি দল তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের কর্তাদের সঙ্গে দেখা করে। সরকারের দেওয়া সময়সীমার মধ্যেই রিপোর্ট জমা দেবে বলেও জানায়।
সম্প্রতি বিবিসি-র অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ইনস্টাগ্রামে অর্থের বিনিময়ে দেওয়া বিজ্ঞাপনে ‘রেপ ভিডিয়ো’ ও ‘চাইল্ড ভিডিয়ো’-র মতো শব্দ ব্যবহার করা হচ্ছিল। সেই বিজ্ঞাপনে ক্লিক করলেই সরাসরি খুলছিল কিছু টেলিগ্রাম চ্যানেল। যাতে ৯৯ টাকার বিনিময়ে এই ধরনের বেআইনি সামগ্রী কেনা যাচ্ছিল।
নিয়ম অনুযায়ী যথাযথ যাচাই পেরিয়ে বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হওয়ার কথা। এই আবহে বিবিসি উদ্যোগী হয় ইনস্টাগ্রামের স্বয়ংক্রিয় পছন্দ-নির্ধারণ ব্যবস্থার কার্যকারিতা পরীক্ষা করতে। তারা ভারতে একটি ছদ্মনামী অ্যাকাউন্ট তৈরি করে যৌন উত্তেজক পোস্ট করা ১০টি প্রোফাইল অনুসরণ করে। এক সপ্তাহের মধ্যে প্রাপ্তবয়স্কদের যৌন উস্কানিমূলক বিজ্ঞাপন ও কিছু দিন পরে শিশুদের সঙ্গে প্রাপ্তবয়স্কদের আপত্তিকর অবস্থার বিজ্ঞাপন আসতে শুরু করে। শিশুদের নিয়ে এমন প্রায় ৩০টি আলাদা বিজ্ঞাপন এসেছিল। তেমনই একটির কথা জানানোয় ইনস্টাগ্রামের প্রাথমিক বক্তব্য ছিল, সেটিতে তাদের সামাজিক নিয়মাবলি বা ‘কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ডস’ লঙ্ঘন হয়নি।
তবে প্রশ্ন ওঠায় বিজ্ঞাপনগুলি সরিয়ে দেওয়ার কথা জানিয়ে মেটা বলেছে, অভিযুক্ত অ্যাকাউন্টগুলি নিষ্ক্রিয় ও নিয়ম লঙ্ঘনকারী লিঙ্ক ব্লক করা হয়েছে। তাদের দাবি, ২০২৫ সালে এমন সন্দেহজনক আচরণের কারণে স্বয়ংক্রিয় ভাবে ৪০ লক্ষেরও বেশি অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় করেছে। তবে তাদের পর্যালোচনা পদ্ধতি অনেক সময়ে নিয়ম লঙ্ঘন ধরতে ব্যর্থ হয় বলে স্বীকার করেছে মেটা। বলা হয়েছে, শিশু-নির্যাতনের ঘটনা নজরে এলে আইন মেনে তা ‘ন্যাশনাল সেন্টার ফর মিসিং অ্যান্ড এক্সপ্লয়টেড চিলড্রেন’-কে জানানো হয়।
সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি মদন লোকুর জানিয়েছেন, সামাজিক মাধ্যমগুলি আইনি রক্ষাকবচের অজুহাতে দায়িত্ব এড়াতে পারে না এবং শীর্ষ কোর্ট এ বিষয়ে স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ করতে পারে। অন্য দিকে, ফেসবুকের প্রাক্তন ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্রায়ান বোল্যান্ড দাবি করেছেন, ইনস্টাগ্রামের অ্যালগরিদম ব্যবহারকারী ধরে রাখার জন্য ক্রমাগত বিকৃত ও উস্কানিমূলক বিষয়বস্তুকে অগ্রাধিকার দেয় এবং সংস্থার অন্দরে সুরক্ষার চেয়ে বাণিজ্যিক স্বার্থ বেশি গুরুত্ব পায়। তাই তিনি ২০২৫ সালে নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলেছিলেন বলে দাবি বোল্যান্ডের।
ভারতে প্রায় ৫০ কোটি মানুষ ওয়টস্যাপ ব্যবহার করেন। সম্প্রতি মেটা জানায়, বছর শেষে এতে ফোন নম্বর ছাড়াই বার্তা বিনিময়ের সুবিধা আসবে। ব্যবহারকারী এখনই নাম বাছাই করে নথিভুক্ত করতে পারেন। এতে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নাম নকল করে প্রতারণার শঙ্কায় তৎপর হয়েছে কেন্দ্র। বলা হয়েছে, শঙ্কার অবসান না হওয়া পর্যন্ত এই ব্যবস্থা আনা যাবে না ভারতে।