—প্রতীকী ছবি।
আনুষ্ঠানিক ভাবে বাজারে আসার আগেই দেদার বিক্রি। আজকাল স্মার্টফোনের দুনিয়ায় আকছার দেখা যাচ্ছে এই ছবি। তবে সারা পৃথিবীতে একটি সংস্থা রয়েছে, যাদের ফোন কখনওই আগে থেকে কিনতে পারেন না গ্রাহক। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও এই নীতি বজায় রাখতে সক্ষম হচ্ছে তারা। শুধু তা-ই নয়, এ ব্যাপারে দক্ষিণ কোরিয়া ও আমেরিকার দুই জনপ্রিয় বহুজাতিক টেক জায়ান্ট স্যামসাং এবং অ্যাপ্লকেও টেক্কা দিয়েছে ওই কোম্পানি।
একটা উদাহরণের সাহায্যে বিষয়টি বুঝে নেওয়া যাক। চলতি বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিক ভাবে ‘গ্যালাক্সি এস-২৬’ সিরিজ়ের স্মার্টফোন বাজারে আনে স্যামসাং। যদিও তার আগেই সংযুক্ত আরব আমিরশাহির দুবাইয়ের শপিং মলে বিক্রি হতে শুরু করে ওই ডিভাইস। ফলে খুব সহজেই ‘গ্যালাক্সি এস-২৬’ সিরিজ়ের স্মার্টফোন হাতে পেয়ে যান বাংলাদেশ ও আফ্রিকার বহু নেটপ্রভাবী, যা ব্যবহার করে ভিডিয়ো নির্মাণ শুরুও করে দিয়েছেন তাঁরা।
অতীতে এই প্রবণতা শুধুমাত্র চিনা স্মার্টফোন সংস্থাগুলির ক্ষেত্রেই লক্ষ্য করা যেত। আগে কখনও স্যামসাঙে এই ধরনের ঘটনা ঘটেনি। একই পথের পথিক অ্যাপ্ল। তবে দু’-এক বার আনুষ্ঠানিক ভাবে বাজারে আসার আগেই দুবাইয়ে মার্কিন টেক জায়ান্টটির আইপ্যাড বিক্রি হতে দেখা গিয়েছে, যাকে ব্যতিক্রমী ঘটনা হিসাবেই বর্ণনা করেছেন বিশ্বের তামাম গ্যাজেট বিশ্লেষকেরা।
তবে এ ব্যাপারে এখনও পর্যন্ত এক নম্বর স্থানটি ধরে রেখেছে চিনা সংস্থা হুয়াওয়ে। আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আগে কখনওই খোলা বাজারে বিক্রি হয় না তাদের কোনও ডিভাইস। বিশেষজ্ঞদের দাবি, নিজেদের তৈরি গ্যাজেট নিয়ে মারাত্মক আত্মবিশ্বাস রয়েছে হুয়াওয়ের। সেই কারণেই এই ধরনের নীতির উপর জোর দিতে পারছে সংশ্লিষ্ট চিনা সংস্থা।
একসময় স্মার্টফোন বিক্রির নিরিখে মার্কিন টেক জায়ান্ট অ্যাপ্লের তৈরি আইফোনকে পেরিয়ে গিয়েছিল চিনের হুয়াওয়ে। পাশাপাশি, প্রায় ছুঁয়ে ফেলেছিল দক্ষিণ কোরিয়ার বহুজাতিক বৈদ্যুতিন সরঞ্জামের সংস্থা স্যামসাংকে। এর পরই বেজিঙের কোম্পানিকে কোণঠাসা করা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র-সহ গোটা পশ্চিমি দুনিয়া। সেখানে যোগ দেয় ভারত-সহ এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশ। এর পরই নিম্নমুখী হয় হুয়াওয়েইর বৃদ্ধির সূচক।
চিনা স্মার্টফোন নির্মাণকারী সংস্থাটির উপর নিষেধাজ্ঞা চাপানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্য দোষ দেওয়া ঠিক নয়। কারণ, হুয়াওয়েইয়ের বিরুদ্ধে একসময় জমে উঠেছিল অভিযোগের পাহাড়, যার মধ্যে অন্যতম হল প্রযুক্তি চুরি। তা ছাড়া সস্তায় বিক্রি করা ওই ফোনগুলির মাধ্যমে বেজিঙের গুপ্তচরেরা আড়ি পাততে পারে বলেও জল্পনা ছড়িয়েছিল। এর পরই হুয়াওয়েইকে বাজারছাড়া করতে দৃঢ় সংকল্প নেয় আমেরিকা-সহ পশ্চিমি বিশ্ব।