—প্রতীকী চিত্র।
এলপিজি সিলিন্ডার না কি ইন্ডাকশান অভেন, কোনটায় বেশি সস্তায় করা যায় রান্না? এই প্রশ্নের উত্তর কিন্তু মোটেই সহজ নয়। গড়পরতা অঙ্কের হিসাবে কেউ কেউ এগিয়ে রাখেন ইন্ডাকশান অভেনকে। কারও আবার বেশি পছন্দ এলপিজি সিলিন্ডার। আর তাই সাশ্রয়ী রান্নার হিসাবের হালহকিকত রইল আনন্দবাজার ডট কম-এর এই প্রতিবেদনে।
বর্তমানে কলকাতায় ১,০০০ টাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করছে ঘরোয়া এলপিজি সিলিন্ডারের দাম। ছোট পরিবারের ক্ষেত্রে এতে দৈনিক রান্নার জ্বালানি খরচ মেরেকেটে ৩০-৩৫ টাকা। সেখানে ২,০০০ ওয়াটের ইন্ডাকশান অভেনে খাবার তৈরি করলে দিনে ১৫-২০ টাকা পর্যন্ত পুড়বে বিদ্যুৎ। ফলে সাদা চোখে এলপিজির থেকে বৈদ্যুতিন উনুনটিকে বেশি সস্তা মনে হওয়াটাই স্বাভাবিক।
কিন্তু, ইন্ডাকশান অভেনে রান্না করার বেশ কিছু অসুবিধা রয়েছে। প্রথমত, বাড়িতে কোনও কারণে বিদ্যুৎসংযোগ না থাকলে কাজ করবে না এই যন্ত্র। দ্বিতীয়ত, অনেক লোকের জন্য বেশি পরিমাণে রান্না করা বৈদ্যুতিন উনুনে সম্ভব নয়। জলখাবারের ম্যাগি বা দু’-তিন জনের ভাত এতে দিব্যি ফুটিয়ে নেওয়া যেতে পারে। তা ছাড়া ইন্ডাকশান অভেনে রান্না করার কতগুলি সুনির্দিষ্ট বাসন রয়েছে। সেগুলি ছাড়া যন্ত্রটি পুরোপুরি অচল।
অন্য দিকে পরিবারের সদস্যসংখ্যা বেশি হলে এলপিজি সিলিন্ডারের কোনও বিকল্প নেই। তা ছাড়া এতে যে কোনও ধরনের রান্না করতে পারেন গ্রাহক। সেটা সর্ষে ইলিশ থেকে শুরু করে কষা মাংস পর্যন্ত যা খুশি হতে পারে। ভাপা থেকে পাতুরি, পিঠে-পুলি-পায়েস কিংবা পুজোর ভোগ, সব ধরনের রান্নার সুবিধা রয়েছে এলপিজি সিলিন্ডারে। তবে এতে দ্রুত তৈরি করা যায় না খাবার।
বিশেষজ্ঞদের কথায়, ইন্ডাকশান অভেনে অনেক তাড়াতাড়ি খাবার তৈরি করা যায়, এ ছাড়া এটি পরিচ্ছন্ন এবং কেতাদুরস্ত। যদিও রান্নার জ্বালানির ক্ষেত্রে এখনও রাজার আসন ধরে রেখেছে এলপিজি। ফলে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে দুটোই ব্যবহার করতে পারেন ছোট মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্যরা। তাতে বিদ্যুতের বিল যেমন বেশি আসবে না, তেমনি আবার বাঁচবে এলপিজি জ্বালানিও।