Direct-to-Mobile TV

বিগড়ে যাবে ফোন, ধ্বংস হবে ৫জি, ইন্টারনেট ছাড়া টিভি দেখা বন্ধ করতে ভুয়ো খবর ছড়াচ্ছে একাধিক টেলি সংস্থা?

নেটওয়ার্ক ছাড়াই টিভি দেখার ‘ডিরেক্ট টু মোবাইল’ প্রযুক্তি কি শেষ পর্যন্ত চালু করতে দেবে না জিয়ো বা এয়ারটেলের মতো বেসরকারি টেলি পরিষেবা সংস্থা? সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিটি নিয়ে একাধিক ভুয়ো খবর বাজারে ছড়িয়ে পড়তেই এই নিয়ে তুঙ্গে উঠেছে জল্পনা।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫:১৫
Representative Picture

—প্রতীকী ছবি।

আগামী দিনে কোনও নেটওয়ার্ক ছাড়াই কি মোবাইল ফোনে দেখা যাবে টিভি? না কি সেটা কখনওই চালু করতে দেবে না জিয়ো বা এয়ারটেলের মতো টেলি পরিষেবা সংস্থা? ‘ডিরেক্ট টু মোবাইল’ বা ডিটুএম প্রযুক্তির পরীক্ষামূলক সাফল্য মিলতেই এই নিয়ে তুঙ্গে উঠেছে জল্পনা। সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে নানা ধরনের ভুয়ো খবরও বাজারে ছড়ানো হচ্ছে বলে একাধিক অভিযোগও সামনে এসেছে। যদিও এ ব্যাপারে প্রশাসনিক স্তরে কোনও ব্যবস্থা নেয়নি সরকার।

Advertisement

সাম্প্রতিক সময়ে ডিটুএম নিয়ে মূলত দু’টি গুজব বাজারে ছড়িয়েছে। এর মধ্যে একটি হল, সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থাটি চালু হলেই নাকি রাতারাতি ধ্বংস হয়ে যাবে ৫জি নেটওয়ার্ক। কেউ কেউ আবার বলছেন দীর্ঘ সময় ধরে কখনওই মোবাইল ফোনে টিভি দেখতে পারবেন না গ্রাহক। কারণ, সে ক্ষেত্রে মারাত্মক ভাবে তাপমাত্রা বৃদ্ধির জেরে নষ্ট হতে পারে মুঠোবন্দি ডিভাইস। এর কোনওটাই সত্যি নয় বলে জানিয়েছেন গ্যাজেট বিশ্লেষকেরা।

বিশেষজ্ঞদের দাবি, সম্প্রতি ডিটুএমের ল্যাব পরীক্ষার রিপোর্ট প্রকাশ করে প্রসার ভারতী। সেখানে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিতে টানা তিন ঘণ্টা মোবাইল ফোনে টিভি দেখেছেন তারা। কিন্তু, তার পরেও ওই গ্যাজেটের তাপমাত্রা ছিল স্বাভাবিক। তা ছাড়া মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক রিসিভারের সেনসিটিভিটিরও কোনও সমস্যা হয়নি। অর্থাৎ, ডিটুএম নিয়ে ভয় যে অমূলক, তাতে কোনও সন্দেহ নেই।

গত বছরের ডিসেম্বরে দিল্লি ও বেঙ্গালুরুতে পরীক্ষামূলক ভাবে ডিরেক্ট টু মোবাইল প্রযুক্তি চালু করে কেন্দ্র। এতে কৃত্রিম উপগ্রহ এবং ব্রডকাস্টিং টাওয়ারের মাধ্যমে আমজনতার মোবাইল ফোনের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে ইন্টারনেট বা ওয়াইফাই ছাড়াই ফোনে ভিডিয়ো বা পছন্দের টিভি চ্যানেল দেখতে পাবেন গ্রাহক। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিটি খেলা, সিনেমা এবং সংবাদ সম্প্রচারও করতে পারবে।

সূত্রের খবর, আগামী দিনে দেশের আরও ২০টি শহরে এই প্রযুক্তি চালু করবে সরকার। এর মাধ্যমে দেশের দূরবর্তী এলাকাগুলিতেও ডিজিটাল পরিষেবা ছড়িয়ে দেওয়া যাবে বলে আশাবাদী প্রশাসন। ‘ডিরেক্ট টু মোবাইল’ প্রযুক্তিটির সবচেয়ে বড় সুবিধা হল ইন্টারনেট রিচার্জের খরচ থেকে অব্যাহতি পাবেন ফোন ব্যবহারকারী।

‘ডিরেক্ট টু মোবাইল’ প্রযুক্তিটির পারফরম্যান্স বুঝে নিতে একটি ওটিটি প্ল্যাটফর্মও চালু করেছে কেন্দ্র। এর জন্য যে ফোনের প্রয়োজন বর্তমানে সেটা বানাচ্ছে লাভা এবং এইচএমডি গ্লোবালের মতো সংস্থা। মুঠোবন্দি ডিভাইসের দাম খুব কম রেখেছে তারা। সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিটির মাধ্যমে দেশের প্রতিটি প্রান্তে যে কোনও গুরুত্বপূর্ণ খবর পৌঁছে দিতে পারবে সরকার।

তবে সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিটি চালু হলে জিয়ো বা এয়ারটেলের মতো টেলি পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলির যে কপাল পুড়বে তা বলাই বাহুল্য। ফলে ডিটুএম চালু হোক কখনওই চাইবে না তারা। এই পরিস্থিতিতে টেলি পরিষেবা সংস্থাগুলির চাপ কাটিয়ে উঠে ডিরেক্ট টু মোবাইল প্রযুক্তিকে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত কেন্দ্র নেয় কি না, সেটাই এখন দেখার।

Advertisement
আরও পড়ুন