বারাণসী ভ্রমণে শিল্পা শেট্টী, কী দেখলেন আর কী দেখলেন না? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
গলির পর গলি, তস্য গলি! কোনও একটি গলিতে ঢুকে বেশ খানিকটা গিয়ে হয়তো হঠাৎ চোখে পড়ল পতিতোদ্ধারিণী গঙ্গা। আবার কোনওটা এনে ফেলল বেলোয়ারি চুড়ির বাজারের সামনে। কোনওটা দিয়ে হয়তো বেরোতেই পারলেন না। কারণ, সেখানে রাস্তা আটকে দাঁড়িয়ে বাবা বিশ্বনাথের বাহন! কখনওবা দশাশ্বমেধ ঘাটের সিঁড়িতে একটু ফাঁকা জায়গা খুঁজে পড়ন্ত বিকেলে স্রোতের দিকে তাকিয়ে বসে থাকা, এক ফাঁকে পুজো দেওয়া বিশ্বনাথের মন্দিরে কিংবা সন্ধ্যায় গঙ্গাবক্ষে ভ্রমণ। বারাণসীএসে শহর দেখতে বেরিয়ে এ-সব অনেকেই করেন। বাঙালি পর্যটকেরা গেলে সেখানে সত্যজিৎ রায়ের তৈরি খলচরিত্র ‘মগনলাল মেঘরাজ’-এর ঘাঁটিতেও ঘুরে আসতেন এক বার, যেটি এখন আর নেই। কিন্তু সে তো সাধারণের বারাণসী ভ্রমণ। তারকারা, বিশেষ করে বলিউডের তারকারা বারাণসী ভ্রমণে এলে কী করেন? অভিনেত্রী শিল্পা শেট্টী সেই অজানা প্রশ্নের জবাব দিলেন।
শিল্পা সম্প্রতি বেড়াতে এসেছিলেন বারাণসী। বেড়ানোর বিভিন্ন মুহূর্তের ছবি, তিনি ভাগ করে নিয়েছেন সমাজমাধ্যমের অনুরাগীদের সঙ্গে। তা থেকেই আন্দাজ মিলেছে তারকার বারাণসীর ‘ইটিনারি’ বা ভ্রমণসূচির।
প্রথমেই খানাপিনা
লস্যি চেখে দেখেছেন শিল্পা। ছবি: ইনস্টাগ্রাম।
ট্রে-তে থরে থরে সাজানো সাদা চিনেমাটির প্লেটে একটি করে মাটির ভাঁড়। তাতে উপচে পড়া লস্যি। উপরে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে বাদামি রঙের পুরু মালাই। তেমনই একটি ছবি পোস্ট করেছেন শিল্পা। হ্যাশট্যাগে লিখেছেন ‘বেনারসি লস্যি’। বারাণসীর চাটের মতোই লস্যিও বিখ্যাত। আর সেই লস্যি সব সময় পরিবেশন করা হয় মাটির ভাঁড়ে। খেতে যেমন সুস্বাদু, তেমনই ক্রিমের মতো ঘন তার অনুভব। এক ভাঁড় খেলে এক বেলার খিদে মিটে যাবে। এর মধ্যে রাম ভান্ডারের পালোয়ান লস্যির সবচেয়ে বেশি ঘন বলে নামডাক আছে।
বেনারসি শাড়ি
বেনারসি শাড়ির দোকানে শিল্পা। ছবি: ইনস্টাগ্রাম।
ফ্রান্সের কান চলচ্চিত্রোৎসবে নায়িকারা বেনারসি শাড়ি পরে হাজির হচ্ছেন। আর যে শহরে সেই শাড়ি তৈরি হচ্ছে, সেখানে সশরীরে এসে অভিনেত্রী শাড়ি কিনবেন না, তা কি হতে পারে? শিল্পা বারাণসীতে এসে প্রাণ ভরে বেনারসি শাড়ি কিনেছেন শিল্পা। সেই ছবিও ভাগ করে নিয়েছেন সমাজমাধ্যমে। কোথাও তাঁকে দেখা যাচ্ছে উজ্জ্বল নীল আর গোলাপি রঙের ক্রেপ বেনারসি দেখতে। তার পাড়ে রুপোলি সুতোর নকশা। জমি জুড়ে নকশাদার আড়াআড়ি লাইন প্রতিটি লাইনে সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম জরির ফুল-লতাপাতার ঠাসা কাজ। আরও একটি ভিডিয়োয় শিল্পাকে দেখা যাচ্ছে বেনারসি শাড়িতে হাত দিয়ে পরখ করতে। শেষে মুগ্ধ হয়ে বলছেন, “খুব সুন্দর।” গোটা দুনিয়া বেনারসি শাড়ির সূক্ষ্ম নকশায় মুগ্ধ। নীতা অম্বানী বেনারসি পরে গিয়েছিলেন হোয়াইট হাউসের আমন্ত্রণে। তা ছাড়াও মাঝেমধ্যেই তাঁকে দেখা যায় নানা ধরনের বেনারসিতে। বারাণসীতে এলে বেনারসি কিনুন বা না কিনুন, অন্তত বেনারসি শাড়ির নকশা দেখতে আসতে পারেন রথযাত্রা এলাকা অথবা চক মার্কেট চত্বরে।
মন্দিরে পুজো দেওয়া
পুজো দিয়েছেন বিন্ধ্যবাসিনীর মন্দিরে। ছবি: ইনস্টাগ্রাম।
আধ্যাত্মিকতায় মন শিল্পার বরাবরই। কিছু দিন আগে মহারাষ্ট্রের কোলহাপুরে মহালক্ষ্মী মন্দিরে পুজো দিতে গিয়েছিলেন। তার পরে গিয়েছিলেন ত্রিপুরার শক্তিপীঠ ত্রিপুরেশ্বরী মন্দিরে। আর এ বার তাঁকে দেখা গেল... নাহ্, বিশ্বনাথের মন্দিরে নয়। বারাণসী থেকে শিল্পা গিয়েছিলেন বিন্ধ্যাচলের বিন্ধ্যবাসিনী মন্দিরে। সেখান পুজো দেওয়ার ছবিও শেয়ার করেছেন অভিনেত্রী। তবে বারাণসী এলেই বিশ্বনাথের মন্দিরে পুজো দেন ভক্তেরা। শিল্পা বিশ্বনাথের মন্দিরে পুজোর কোনও ছবি দেননি।
আর কী কী?
ছবিতে না দিলেও বারাণসী এলে যে কাজগুলি না করলেই নয়, সেই সব কিছু নিশ্চয়ই করেছেন শিল্পা।
গঙ্গার ঘাটে আরতি। ছবি: সংগৃহীত।
১। আরতি দেখা: অসি ঘাটে গঙ্গা আরতির আকর্ষণই আলাদা। বিভিন্ন সিনেমাতেও সেই দৃশ্য দেখা গিয়েছে। প্রতি সন্ধ্যায় ওই আরতি দেখতে ভিড় জমে। শিল্পা বারাণসীতে গিয়ে যদি ওই দৃশ্য চর্মচক্ষে না দেখে থাকেন, তবে মিস করবেন।
২। গঙ্গাবক্ষে ভ্রমণ: পড়ন্ত বিকেলের সোনালি রোদে লালচে হয়ে থাকা পরের পর ঘাট। তাতে নানা রকম ব্যস্ততা, অদ্ভুত দেখতে ছাতার সারি সব। মাঝগঙ্গায় বড় ডিঙি নৌকার পাটাতনে বসে সেই দৃশ্য দেখতে দেখতে মনে হতে পারে কয়েক যুগ পিছনে চলে এসেছেন। মাথার উপর দিয়ে তখনই উড়ে যেতে পারে সার দেওয়া বকের পাল বা ঘরে ফেরা পাখিরা। এমন মুহূর্ত রোজ রোজ আসে না।
মহাদেব লাল পেঁড়া ভান্ডারের পেঁড়া। ছবি: সংগৃহীত।
৩। পেঁড়া কেনা: এ দেশে যত রকম পেঁড়া জনপ্রিয়, তার মধ্যে সবার আগে থাকবে কাশীর লাল পেঁড়া। ক্ষীরকে পাক দিয়ে দিয়ে লালচে রং করে ফেলে তৈরি হয় সেই পেঁড়া। বারাণসীর ভোজুবীরের মহাদেব লাল পেঁড়া ভান্ডার বা ভেলুপুরের প্রায় দেড়শো বছরের পুরনো দোকান শ্রী রাজবন্ধুতে সেই পেঁড়া দেখাও অভিজ্ঞতা
৪। চাট খাওয়া: লস্যি খেয়েছেন, কিন্তু বারাণসীর ‘টমাটর চাট’ খেয়েছেন কি শিল্পা? কিংবা পালংপাতা চাট বা আলু টিক্কি চাট। বারাণসীর গোদৌলিয়া চকের কাশী চাট ভান্ডারে চাট খেতে এসেছিলেন অম্বানী-গৃহিনী নীতা। এ ছাড়া গোল ঘরের দিনা চাট ভান্ডারের গোলগাপ্পাও বিখ্যাত। যা খেতে শিল্পা দারুণ ভালবাসেন বলে বহু বার জানিয়েছেন।
বেনারসি পানের খ্যাতি দেশজোড়া। ছবি: সংগৃহীত।
৫। পান এবং মশলা: বলিউডের নায়িকা। ফলে ‘পান বনারসওয়ালা’-র সঙ্গে তাঁর বহুকালের পরিচয়। বারাণসীর লস্যি খেয়েছেন যখন পান কি খাননি শিল্পা? বারাণসীর পানের মশলাও বিখ্যাত। বারাণসীর বিশ্বনাথের মন্দিরের সামনেই সার দিয়ে রয়েছে মশলার দোকান। অনেকে ‘মশলা গলি’ও বলেন। এ ছাড়া বিশ্বেশ্বরগঞ্জের বাজারে এবং গোলা দীননাথ বাজারেও মশলা পাওয়া যায়।