রাতে গাড়ি নিয়ে সফর? ঘুম তাড়াতে কোন প্রস্তুতি জরুরি? ছবি:সংগৃহীত।
গন্তব্য পৌঁছোনোয় যত না আনন্দ, পথচলায় তার চেয়ে আনন্দ কিছু কম নয়। গাড়ি নিয়ে যাঁরা লম্বা সফরে যান তাঁরাই জানেন এর আনন্দ কতখানি। কেউ মজা পান গাড়ি চেপে, আর কেউ গাড়ি চালিয়ে।
সফর লম্বা হলে, অনেকেই রাতটি যাত্রার জন্য বেছে নেন। কারণ, রাতে রাস্তা ফাঁকা পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তা ছাড়া, হাতে সময় কম থাকলে রাতটিও কাজে লাগানো যায়। তবে রাত-সফরের সমস্যাও কম নয়। গাড়িচালক যত দক্ষই হোন না কেন, গভীর রাতে এক মুহূর্তের জন্যও ঘুমে দু’চোখের পাতা এক হলে বিপদের শেষ থাকবে না। শরীর যেহেতু দিনরাতের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলে, তাই রাতে ঘুম আসাটাও স্বাভাবিক। সফরও এড়ানো যাবে না। তা হলে ঘুম তাড়াতে কী কী করবেন?
রাত-সফরের প্রস্তুতি
· রাতভর গাড়ি নিয়ে লম্বা রাস্তা পাড়ি দেওয়ার পরিকল্পনা থাকলে, চালকের অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা ভাল করে ঘুমিয়ে নেওয়া দরকার। সফর শুরুর আগে বিশ্রাম খুব জরুরি। ঘুমিয়ে নিলে শরীর ঝরঝরে থাকবে।
· রাতের খাওয়া এবং পোশাক, দুই-ই হালকা হওয়া প্রয়োজন। পোশাক যেন আরামদায়ক হয়। খাওয়াটি হওয়া দরকার হালকা। বেশি ভারী খাবার খেলে চট করে ঘুম আসবে।
· গাড়িতে শোনার জন্য নিজের মতো প্লে লিস্ট বানাতে পারেন। কিছু ছন্দের গান থাকলে, ঘুম ছাড়াতে কাজে আসবে। রাখতে পারেন পছন্দের পডকাস্টও।
· ঘুমিয়ে নিলেও রাত-সফর চোখ জুড়িয়ে আসতেই পারে। ঘুম তাড়ানোর কৌশল হল ঘণ্টা ২ অন্তর কিছু ক্ষণের বিরতি। চা বা কফি পাওয়া যাবে রাস্তার ধারের ছোট দোকান বা ধাবায়। মাঝে মাঝে দাঁড়ালে ঘুম এলেও কেটে যাবে।
· গাড়িতেই ফ্লাস্কে কালো কফি বা লাল চা রাখা যায়। তবে বেশি কফি খেলে জলশূন্যতার সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষত দুধ-চিনি দিয়ে তৈরি কফি বা চা বদহজমের কারণ হতে পারে, যা কাম্য নয়। বেশি কফি যেমন খাওয়া যাবে না, তেমনই মাঝেমধ্যেই জলে চুমুক দিতে হবে। শরীরে জলের ঘাটতি তৈরি হলে ক্লান্তিও আসবে তাড়াতাড়ি।
· গাড়িতে যদি সঙ্গী থাকে তাঁর সঙ্গেও গল্প করতে করতে যেতে পারেন। কথা বললেও, ঘুম কাটানো যায়।
·মাঝরাতের পর যদি চোখ ঘুমে ভারী হয়ে আসে, তবে ধাবা বা রাস্তার ধারেরকোনও অতিথি-আবাসে বিশ্রাম নিন। প্রয়োজনে গাড়ি দাঁড় করিয়ে সিট এলিয়ে ঘণ্টাখানেক ঘুমিয়ে নিন। আধঘণ্টার ঘুমও ক্লান্তি কাটাতে সাহায্য করবে।