Cold Weather Travel Essentials

গরম পোশাক নিতে হবে, ব্যাগেও ধরাতে হবে! বরফের জায়গায় গেলে কী ভাবে গোছগাছ করবেন?

শীতকালে শীতের জায়গায় বেড়াতে যাচ্ছেন? ঠান্ডার কামড় থেকে বাঁচতে, সোয়েটার, টুপি, জ্যাকেট সবই নিতে হবে। এত জিনিস কী ভাবে একটি স্যুটকেস বা ট্রলিতে ধরাবেন?

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৬ জানুয়ারি ২০২৬ ১৬:৫৬
ঠান্ডার জায়গায় বেড়াতে গেলে কী কী সঙ্গে রাখলে সুবিধা হবে?

ঠান্ডার জায়গায় বেড়াতে গেলে কী কী সঙ্গে রাখলে সুবিধা হবে? ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

ঠান্ডা যতই তীব্র হোক না কেন, ভ্রমণপিপাসুদের কাছে বরফ দেখতে যাওয়ার এটাই আদর্শ সময়। শীতের মরসুমে কাশ্মীরের গুলমার্গ, উত্তরাখণ্ডের আউলি, হিমাচলের সোলাং ভ্যালি, দার্জিলিঙের সান্দাকফু-সহ নানা জায়গাতেই বরফ পড়ে। ভ্রমণসূচি তৈরি, এ বার শুধু বেরিয়ে পড়ার পালা।

Advertisement

কিন্তু শীত ভ্রমণের বড় ঝক্কি ব্যাগ গোছানো। যে কোনও মরসুমে বেড়াতে গেলেই গোছগাছ জরুরি। কিন্তু ঠান্ডার জায়গায় গেলে গরম পোশাক নিতেই হবে। সেই পোশাকে ট্রলি ব্যাগটি ঢাউস হয়ে গেলে, বাকি জিনিস ধরবে কোথায়? তা ছাড়া, খুব ঠান্ডার জায়গায় ঘোরার অন্যতম শর্ত হল, পোশাকের লেয়ারিং। পরতে পরতে পোশাক থাকলে শীত ততটাও কাবু করতে পারে না। তা ছাড়া, বরফের জায়গায় যেতে হলে যে কোনও জ্যাকেট বা জুতো পরলেও চলে না। তাই এমন জায়গায় বেড়ানোর পরিকল্পনা থাকলে কী কী সঙ্গে নেবেন, কী ভাবেই বা প্যাক করবেন?

পোশাক

পোশাকের পরিকল্পনা খুব জরুরি। বিশেষত যদি নিশ্চিত হওয়া যায়, গন্তব্যে বরফ থাকবে বা পড়তে পারে।

প্রথম স্তর: থার্মাল অন্তর্বাস সঙ্গে রাখুন। গা গরম থাকবে এমন গেঞ্জি, প্যান্ট পরতে পারেন প্রথমে। মহিলারা পরতে পারেন বিশেষ ধরনের থার্মাল ব্রেসিয়ার, স্প্যাগেটি টপ। এগুলির উপরে গলাবন্ধ থার্মাল গেঞ্জি এবং ফুল প্যান্ট পরে নিন।

দ্বিতীয় স্তর: দ্বিতীয় স্তরে থাক টি-শার্ট, শার্ট বা পছন্দের কোনও পোশাক। যে হেতু আগেই থার্মাল পরা হয়েছে, এটি বিশেষ মোটা হলে অসুবিধা হবে। কিন্তু এটি পরে তার উপর জ্যাকেট পরলে ঠান্ডা আরও কিছুটা কম লাগবে।

তৃতীয় স্তর: বরফে নষ্ট হবে না, এমন পাফার জ্যাকেট, ট্রেঞ্চ কোট পরতে পারেন।

শীতের জায়গায় যে হেতু ভিতরের শার্ট বা টি-শার্ট ততটা দেখা যায় না, তাই জোর দিন বাইরের পোশাক বাছাইয়ে। অতিরিক্ত কেতাদুরস্ত পোশাকের বদলে বরং দু’টি জ্যাকেট নিতে পারেন। ভিতরে কী পরছেন তা দেখা যাবে না, তবে বাইরের জ্যাকেট দৃশ্যমান হবে। আবার ঠান্ডা কম থাকলে, গলাবন্ধ সোয়েটারের সঙ্গে হালকা ট্রেঞ্চ কোটও পরতে পারেন। আরামদায়ক, কেতাদুরস্ত দুই-ই হবে।

তাই দিনের হিসাবে গুছিয়ে নিন জিনিসপত্র। সপ্তাহখানেকের ভ্রমণসূচি থাকলে নিতে পারেন—

২ জোড়া করে থার্মাল প্যান্ট-টপ, ৫ টি টপ যার মধ্যে একটি হতে পারে ডেনিমের, ১টি হুডেড সোয়েটশার্ট, ২টি সুতির টি-শার্ট বা টপ, ১টি পাফার জ্যাকেট এবং একটি ট্রেঞ্চ কোট।

প্যান্ট: বরফের জায়গায় হুটোপাটি করার পরিকল্পনা থাকলে ওয়াটার প্রুফ স্কি ট্রাউজার্স সঙ্গে নিতে পারেন সঙ্গে। থার্মালের উপর এটি ‌অনায়াসে পরা যাবে। বরফে চট করে এগুলি ভেজে না। এগুলি হালকা কিন্তু পা গরম রাখতে সাহায্য করবে। এর সঙ্গে শীতে পরার আরও একটি ট্র্যাক প্যান্ট রাখুন। থাকুক একটি জিন্‌স।

জুতো: জল বা বরফ লাগলেও ভিতর পর্যন্ত ভিজবে না এমন জুতোই বেছে নিন। এ ছাড়া, ঘরে পরার হাওয়াই চটি বা ফার দেওয়া চটি সঙ্গে রাখুন।

আনুষঙ্গিক জিনিস: অবশ্যই শীত ভ্রমণে ৩-৪ জোড়া মোজা সঙ্গে রাখুন। থার্মাল মোজা পাওয়া যায়, যা পা গরম রাখে। বরফে ভিজবে না, জিনিসপত্র ধরতে গেলে হড়কে যাবে না, এমন দস্তানাও নিতে হবে ২ জোড়া। উলের ব্যান্ডানা সঙ্গে রাখুন ২টি, এতে যেমন কান ঢাকা যায় তেমন গলাতেও ব্যবহার করা যায় বা খুব ঠান্ডায় নাক-মুখও ঢেকে ফেলা যায়। ফারের টুপিও রাখা দরকার। সঙ্গে রাখুন একটি মাফলারও। সানগ্লাস অন্তত ২ জোড়া। সানগ্লাস ঠান্ডা থেকে বাঁচাবে আবার বরফে রোদ প্রতিফলিত হলে তাকাতে অসুবিধা হবে না।

ত্বকের যত্ন: প্রচণ্ড শীতের জায়গায় গেলে ত্বক ঠান্ডায় ফেটে যাওয়ার ভয় থাকে। তাই সাধারণ ময়েশ্চারাইজ়ার নয়, শিয়া বা কোকো বাটার যুক্ত একটু মোটা ধরনের শীতের ক্রিম সঙ্গে রাখুন। হাত-পায়ে মাখার জন্যও বডি ক্রিম জরুরি। ঠান্ডায় জমাট বাঁধে না ,গায়ে মাখার এমন তেলও রাখতে পারেন। মুখ পরিষ্কারের জন্য রাখুন ক্নিনজ়ার। সঙ্গী হোক হ্যান্ড স্যানিটাইজ়ার, টিস্যু পেপার।

ওষুধ এবং খাবার: দৈনন্দিন ওষুধ খেলে সেগুলি রাখতেই হবে। পাশাপাশি, হাতের কাছে রাখা দরকার জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য ওষুধপত্র। জ্বর, বমি, পেট খারাপ, পেট ব্যথা—এই ধরনের ওষুধ সঙ্গে রাখতেই হবে। তা ছাড়া, কখন কী খাবার পাওয়া যাবে তার ঠিক নেই। আবার বরফে রাস্তা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে অন্তত কয়েকটি ঘণ্টা কাটানোর জন্য কিছু শুকনো অথচ পুষ্টিকর খাবার সঙ্গে রাখা দরকার।

প্যাকিংয়ের কৌশল: ব্যাগে সব কিছু ধরাতে হলেও, প্রয়োজনের জিনিস বাদ দিলে চলে না। এ জন্য ব্যবহার করুন কম্প্রেসন ব্যাগ এবং প্যাকিং কিউব, পাউচ। কম্প্রেসন ব্যাগে দু’টি চেন চেপে বন্ধ করে দিলে ফোলা জিনিসও ছোট হয়ে স্যুটকেসে এঁটে যায়। প্যাকিং কিউব বা পাউচে প্রতিটি জিনিস আলাদা করে ভাঁজ করে রাখলে, সেগুলি হাতের কাছে পেতেও সুবিধা হয়।

এ ছাড়াও সঙ্গে রাখতে হবে নগদ এবং জরুরি নথি। সেগুলি সাবধানেও রাখতে হবে। স্যুটকেসের বদলে নিজের সঙ্গে থাকা ছোট ব্যাগে টাকা, নথি রাখুন যাতে সহজেই মেলে।ব্যাগ বা স্যুটকেস খানিক হালকা করতে একটি থার্মাল বড় জ্যাকেট গায়ে পরে নিন। এতেও ব্যাগের ভার খানিক হালকা হবে।

Advertisement
আরও পড়ুন