ছবি: ফেসবুক থেকে নেওয়া।
অজান্তেই একটি ২,০০০ বছরের পুরনো মুদ্রা বাসভাড়া হিসাবে চালিয়ে দিয়েছিলেন এক যাত্রী। পরে গবেষণায় উঠে আসে যে সেটি একটি অমূল্য প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদ। সাধারণ বাসভাড়া লেনদেন এক বিস্ময়কর ঐতিহাসিক আবিষ্কারে পরিণত হয়েছে সম্প্রতি। নিউ ইয়র্ক পোস্টের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে ইংল্যান্ডে অজান্তেই কেউ বাসভাড়া দেওয়ার সময় এই মুদ্রাটি ব্যবহার করেছিলেন। এই প্রত্নবস্তুটি সম্প্রতি লিডস মিউজ়িয়ামস অ্যান্ড গ্যালারিজ়ে দান করা হয়েছে। সেখানকার বিশেষজ্ঞেরা মুদ্রাটি পরীক্ষা করে জানিয়েছেন, ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্র কার্থেজে ব্যবহার করা হত এই ধরনের মুদ্রা।
উত্তর আফ্রিকার প্রাচীন সভ্যতা কার্থেজ আনুমানিক ৮০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে ১৪৬ খ্রিস্টপূর্বাব্দ পর্যন্ত বিকশিত হয়েছিল। এই মুদ্রাটি খ্রিস্টপূর্ব প্রথম শতাব্দীর বলে মনে করছেন প্রত্নতত্ত্ববিদেরা। ৫০-এর দশকে লিডসের বাসিন্দা জেমস এডওয়ার্ডস প্রথম এই মুদ্রাটি আবিষ্কার করেন। তিনি লিডস সিটি ট্রান্সপোর্টে বাস ও ট্রামচালকদের কাছ থেকে ভাড়া আদায় করতেন। বিদেশি বা জাল মুদ্রা-সহ অব্যবহারযোগ্য মুদ্রাগুলিকে আলাদা করে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার শখ ছিল তাঁর। পরে তিনি মুদ্রাটি তাঁর নাতি পিটার এডওয়ার্ডসকে দিয়ে দেন। পিটার বহু বছর ধরে এটি একটি কাঠের বাক্সে সংরক্ষণ করে রেখেছিলেন। ৭৭ বছর বয়সি পিটার সম্প্রতি আবার মুদ্রাটি খুঁজে পান। এডওয়ার্ড পরিবারের কেউই মুদ্রা সংগ্রাহক ছিলেন না, তবুও মুদ্রাটির আকৃতি পিটারকে আকৃষ্ট করে। এর পর পিটার মুদ্রাটি লিডস ডিসকভারি সেন্টারে দান করেন। এটি একটি বিনামূল্যের জাদুঘর, যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন সভ্যতার হাজার হাজার বছর পুরনো মুদ্রা ও নোট সংরক্ষণ করা হয়।
এই কার্থেজীয় মুদ্রাটিতে দেবতা মেলকার্টের চিত্র রয়েছে। ফিনিশীয় ঐতিহ্য অনুসারে তাঁকে হারকিউলিসের সমতুল্য বলে মনে করা হয়। মুদ্রা সংরক্ষক ও বিশেষজ্ঞদের মতে, শহরে ফিরে আসা কোনও সৈনিক হয়তো মুদ্রাটি সঙ্গে করে এনেছিলেন। যদিও এর সঠিক উৎস নিয়ে নিশ্চিত নন তাঁরা। এর আগেও একই ধরনের মুদ্রা পাওয়া গিয়েছিল। বিশেষজ্ঞেরা জানান, বণিকদের কাছে মুদ্রাগুলিকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলার জন্য সে সময়ের কিছু ফিনিশীয় মুদ্রায় গ্রিক চিত্রও ব্যবহার করা হত।