ছবি: সংগৃহীত।
পাকিস্তান রেলওয়ে তাদের প্রিমিয়াম ট্রেনের প্রচারমূলক ভিডিয়ো পোস্ট করতেই বয়ে গেল ট্রোলিংয়ের বন্যা। সমাজমাধ্যমে একটি বিলাসবহুল ট্রেনের জমকালো অভ্যন্তরীণ সজ্জা এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধা তুলে ধরতে একটি ভিডিয়ো পোস্ট করা হয় সরকারি পরিবহণ দফতরটির এক্স হ্যান্ডলে। ভিডিয়োটির ঝলক সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই প্রশংসার পরিবর্তে সমালোচনা ও বিদ্রুপের ঝড় বয়ে গিয়েছে। ভাইরাল হয়েছে ভিডিয়োটি। যদিও এই ভিডিয়োটির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
ভাইরাল সেই ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, নীল গদি আঁটা চেয়ার, সুসজ্জিত ঝকঝকে কামরার একটি ট্রেন ছুটে চলেছে। ভিডিয়োটিতে নতুন প্রিমিয়াম কোচের অভ্যন্তরীণ সজ্জা, আরামদায়ক আসন, আলো ঝলমলে চেহারা, আধুনিক এবং উন্নত মানের সুযোগ-সুবিধা তুলে ধরা হয়েছে। পাকিস্তান রেলওয়ে তাদের সমাজমাধ্যম অ্যাকাউন্ট থেকে ভিডিয়োটি পোস্ট করে লিখেছে, ‘‘পাকিস্তান রেলের নতুন প্রিমিয়াম কোচ শীঘ্রই আসছে!’’
তবে ভিডিয়োটি প্রকাশের পর পরই এর সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। অনেক সমাজমাধ্যম ব্যবহারকারীর দাবি, ভিডিয়োটির দৃশ্যগুলো বাস্তব নয়। বরং সেগুলি সম্পূর্ণ বা অধিকাংশই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি বলে মনে হচ্ছে। এ নিয়ে সমাজমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। পাকিস্তান রেলওয়ের সমালোচনা করে অনেকেই জানতে চান, এটি কি সত্যিই আসন্ন প্রিমিয়াম কোচের বাস্তব চিত্র, না কি শুধুই একটি এআই-নির্মিত একটি ভিডিয়ো। এ ঘটনাকে ঘিরে অসংখ্য ব্যঙ্গাত্মক এবং মজাদার মন্তব্যও ছড়িয়ে পড়েছে। এক নেটমাধ্যম ব্যবহারকারী লিখেছেন, পাকিস্তানের পক্ষে এই ট্রেন তৈরি করার চেয়ে এআই দিয়ে ভিডিয়ো বানানো সম্ভব। অন্য এক নেটাগরিকের মন্তব্য, “এআই ভিডিয়ো দেখিয়ে কোনও লাভ হবে না। প্রথমে এমন একটি ট্রেন বাস্তবে চালিয়ে দেখান।’’ তৃতীয় ব্যবহারকারীর সরস মন্তব্য, ‘‘মনে হচ্ছে এই ট্রেনে ভ্রমণ করতে পাকিস্তানিদের তাদের কিডনি বিক্রি করতে হবে।’’
সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে বিষয়টি নিয়ে পাকিস্তান রেলকে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ভিডিয়োটি এআই-নির্মিত কি না, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে কোনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেয়নি পাকিস্তান রেলওয়ে।