ছবি: ভিডিয়ো থেকে নেওয়া।
মশার বংশকে বাঁচিয়ে রাখতে নিজেরই রক্ত পান করান এক গবেষক! ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিয়োয় তাঁকে গবেষণাগারে প্রতিপালিত মশাদের নিজের রক্ত খাওয়াতে দেখা গিয়েছে। মশা ও অন্যান্য কীটপতঙ্গ নিয়ে গবেষণা করেন মেলবোর্নের বাসিন্দা ওই তরুণী। তাঁর গবেষণাগারে ঝাঁকে ঝাঁকে মশাকে কী ভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা হয় তারই একটি চিত্র তুলে ধরেছেন একটি ভিডিয়োয়। সমাজমাধ্যমে সেই ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসতেই তা ভাইরাল হয়েছে। যদিও এই ভিডিয়োটির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
ভাইরাল হওয়া সেই ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, তিনি মশাভর্তি একটি পাত্র টেবিলের কাছে এনে বাক্সটির ভিতরে একটি নল রাখেন। এর পর তিনি নলের মুখ দিয়ে হাত ঢুকিয়ে দেন। ফলে ঝাঁকে ঝাঁকে মশা এসে সরাসরি তাঁর হাতের উপর বসে। পতঙ্গগুলি রক্ত খেতে শুরু করে। পরবর্তী যে দৃশ্যটি ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে তা দেখে দর্শক হতবাক হয়ে যান। মশা কামড়ানোর পর গবেষকের কনুই পর্যন্ত লাল হয়ে গিয়েছিল। সারা হাতে অসংখ্য ছোট ছোট কামড়ের দাগ দেখা যায়। তবে গবেষককে ভিডিয়োয় বলতে শোনা যায়, এই অস্বস্তি সহনীয় এবং সাময়িক। তাঁকে জল দিয়ে হাতটি ঠান্ডা করতে দেখা যায়। ঠান্ডা জল চুলকানি ও ফোলা ভাব কমাতে সাহায্য করে। তাঁর দাবি, কামড়ের দাগগুলি সাধারণত চার ঘণ্টার মধ্যে মিলিয়ে যায়। তাঁকে বলতে শোনা যায়, “মশার কামড়ে আমার কখনও তেমন তীব্র প্রতিক্রিয়া হয়নি। কিন্তু রক্ত খাওয়ার ঠিক পরেই কামড়ের জায়গায় চুলকানি হয়।”
পোস্টের ক্যাপশনে পতঙ্গবিদ ব্যাখ্যা করেছেন যে, তাঁর গবেষণাগারের বেশির ভাগ মশার কলোনি সম্পূর্ণ ভাবে পরীক্ষাগারে তৈরি এবং নিরাপদ। তাঁর কথায়, “আমরা যে মশার কলোনিগুলো রক্ষণাবেক্ষণ করছি, তার বেশির ভাগই গবেষণাগারে তৈরি। আমাদের রক্তপান করানোর জন্য নিরাপদ।” কৃত্রিম রক্ত সরবরাহ ব্যবস্থা স্থাপন ও পরিষ্কার করতে অনেক সময় লাগে। গবেষক জানিয়েছেন, গবেষণাগারের বিশেষ ধরনের মশার জন্য কৃত্রিম রক্ত ব্যবহার করা হয়। বিদেশ থেকে আনা বা মাঠ থেকে সংগ্রহ করা মশা সেখানে রাখা হয়।
ভিডিয়োটি ইনস্টাগ্রামে ‘মোজ়েনিকিউ’ নামের অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশ্যে আসার সঙ্গে হাজার হাজার নেটাগরিক তাঁদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। বহু নেটাগরিক ভিডিয়োটি দেখে অবিশ্বাস, উদ্বেগ এবং কৌতূহল প্রকাশ করেন। এক জন নেটাগরিক লিখেছেন, “দয়া করে ভারত থেকেও কিছু নিয়ে যান। এতে আমরা ডেঙ্গি ও ম্যালেরিয়া থেকে মুক্ত থাকতে পারব।’’