Bizarre

১২ বছরের অসহায় কন্যাকে দত্তক নিতে চেয়েছিল পরিবার, আচরণ নিয়ে ধন্দ, পুলিশের জালে ৩৭ বছরের ‘নাবালিকা’!

সংবাদমাধ্যমের একটি প্রতিবেদন অনুসারে, ব্রাজ়িলের এক পরিবার এক বছরেরও বেশি সময় ধরে একটি ‘১২ বছর’ বয়সি অসহায় ও নির্যাতনের শিকার বালিকাকে দত্তক নেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল। পরে তারা আবিষ্কার করে যে সে আসলে ৩৭ বছর বয়সি এক মহিলা। আমান্ডা মারিয়া সুজা ডি অলিভেইরা নামের সেই তরুণীর বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬ ১৩:১৬

ছবি: সংগৃহীত।

১২ বছরের নাবালিকা সেজে দিনের পর দিন প্রতারণা। নির্যাতিত বলে দাবি করে একটি পরিবারে বিশ্বাস অর্জন করে নিয়েছিলেন ৩৭ বছরের তরুণী। ‘বালিকা’কে দত্তক নেওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছিল পরিবারের সদস্যেরা। ধীরে ধীরে সন্দেহ ঘনীভূত হতে শুরু করে তাদের মনে। সত্যি ধরা পড়ে যাওয়ার পর তাঁরা জানতে পারেন, অসহায় ও নির্যাতনের শিকার হওয়া মেয়েটি এক বছর ধরে বাড়িতে বসে সুপরিকল্পিত প্রতারণার জাল বুনছিল। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে ঘটনাটি ব্রাজ়িলের।

Advertisement

নিউ ইয়র্ক পোস্টের একটি প্রতিবেদন অনুসারে, ব্রাজ়িলের এক পরিবার এক বছরেরও বেশি সময় ধরে একটি ‘১২ বছর’ বয়সি অসহায় ও নির্যাতনের শিকার বালিকাকে দত্তক নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। পরে তারা আবিষ্কার করে সে আসলে ৩৭ বছর বয়সি এক মহিলা। আমান্ডা মারিয়া সুজা ডি অলিভেইরা নামের সেই তরুণীর বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ জানতে পারে, তিনি গ্যাব্রিয়েল নামের এক নাবালিকার ছদ্মবেশ ধারণ করে একাধিক ব্যক্তিকে ঘোল খাইয়ে ছেড়েছেন। পরিবারের নির্যাতন হাত থেকে পালিয়ে আসা এক অসহায় বালিকা হিসাবে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন পরিবার, গির্জার সদস্য এবং স্বেচ্ছাসেবকদের বিশ্বাস অর্জন করেছিলেন আমান্ডা।

তিনি প্রথমে জইনভিলের এক যাজকের কাছে গিয়ে দাবি করেন যে তিনি উত্তরাঞ্চলীয় পারা রাজ্য থেকে পরিবারের অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে পালিয়ে এসেছেন। গির্জার সদস্যেরা আর্থিক ভাবে সাহায্য করেছিলেন এবং পরে একটি স্থানীয় পরিবারের সঙ্গে তাঁর পরিচয় করিয়ে দেন। পরিবারটি তাঁকে অসহায় বালিকা ভেবে সাদরে গ্রহণ করে। পরিবারটি আমান্ডার ওষুধের খরচ বহন করেছিল, তার ১২তম জন্মদিন ধুমধাম করে উদ্‌যাপনও করেছিল। নাবালিকাকে আনুষ্ঠানিক ভাবে দত্তক নেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু করে দিয়েছিলেন পরিবারের সদস্যেরা।

যখনই তার চেহারা নিয়ে প্রশ্ন উঠত, তখনই আমান্ডা নানা অজুহাত তৈরি করতেন। তিনি লোকজনকে বোঝাতেন শৈশবের হরমোন চিকিৎসা তার শারীরিক বিকাশে প্রভাব ফেলেছিল। এ ছাড়াও বছরের পর বছর ধরে নির্যাতনের কারণে তাঁকে তাঁর আসল বয়সের চেয়ে অনেক বেশি বয়স্ক দেখাত বলে দাবি করেন তরুণী। পরিবার এই ব্যাখ্যাগুলো মেনে নিলেও, অন্য আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতদের মধ্যে সন্দেহ বাড়তে থাকে। তাঁরা খোঁজখবর নিয়ে একই ধরনের কয়েকটি ঘটনার সন্ধান পান। পুলিশে খবর দেওয়া হয়। তদন্তে উঠে আসে সাও পাওলো, রিও ডি জেনেইরো এবং মিনাস জেরাইস-সহ বিভিন্ন রাজ্যে এই ধরনের প্রতারণা তিনি করে এসেছেন।

তদন্তকারীদের অভিযোগ, নিজেকে বালিকা প্রমাণ করার জন্য শিশুসুলভ আচরণ করতেন আমান্ডা। শিশুদের মতো বোতল থেকে দুধ পান করা, চুষিকাঠি ব্যবহার করা, রাতে দুঃস্বপ্ন দেখার ভান করা। ঘটনাটি আরও অপ্রত্যাশিত মোড় নেয় যখন ডাক্তারি পরীক্ষায় তাঁর শরীরের ভেতর থেকে ২০০টিরও বেশি ধাতব সুচ পাওয়া যায়। প্রতিবেদন অনুসারে, তাঁর চামড়া ভেদ করে সুচ বেরিয়ে আসতে শুরু করার পর উদ্বেগ দেখা দেয়। পরবর্তী কালে মেডিক্যাল স্ক্যানে শরীরের ভেতরে শত শত ধাতব বস্তু পাওয়া যায়। তদন্তকারীরা মনে করেন, এই আঘাতগুলো তরুণী নিজেই করেছিলেন এবং এর উদ্দেশ্য ছিল তিনি যে গুরুতর নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন, সেই দাবিকে প্রমাণ করা। জিজ্ঞাসাবাদের সময় আমান্ডা প্রতারণার কথা স্বীকার করেন। এর পর তার বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও পরিচয় চুরির অভিযোগ আনা হয়। আপাতত মামলা চলছে। মহিলা কারাগারেই জীবন কাটছে ৩৭ বছরের ‘বালিকা’র।

Advertisement
আরও পড়ুন