Pranit More Controversy

‘এই ঘৃণা, কটাক্ষেরই যোগ্য আমি’, বিরিয়ানি বিতর্কে মুখ খুললেন প্রণীত, আলোচনায় এ বার মধুরও

কৌতুকশিল্পী প্রণীত মোরের পরে এ বার আলোচনায় মধুর বিরিল। তাঁর এক পুরনো মন্তব্য আবার উঠে এসেছে আলোচনায়।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬ ১৪:৪৪
প্রণীতের পরে বিতর্কে মধুর

প্রণীতের পরে বিতর্কে মধুর ছবি: সংগৃহীত।

এই মুহূর্তে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে কৌতুকশিল্পী প্রণীত মোরে। এরই মধ্যে আর এক কৌতুকশিল্পী মধুর বিরিলের এক পুরনো মন্তব্য উঠে এসেছে আলোচনায়। ছড়িয়ে পড়েছে তাঁর একটি পুরনো ভিডিয়ো। তা ছড়িয়ে পড়তেই কৌতুকশিল্পী নিষ্ক্রিয় করে দিয়েছেন তাঁর সমাজমাধ্যমের পাতা।

Advertisement

ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিয়োয় কী রয়েছে? সেখানে মধুরকে ধর্ষণ সংক্রান্ত একটি মন্তব্য করতে শোনা যায়। ধর্ষণের পরে কিছু অপরাধী কেন খুনের পথ বেছে নেয়, তা নিয়ে ক্লিপটিতে তিনি মন্তব্য করছেন বলে অভিযোগ। তাঁর এই বক্তব্যকে বহু দর্শক ‘অসংবেদনশীল’ এবং ‘আপত্তিকর’ বলে চিহ্নিত করেছেন।

এক্স হ্যান্ডেলে এক ব্যবহারকারী ভিডিয়োটি ভাগ করে লেখেন, “প্রণীতের পরে এ বার মধুর। ধর্ষণ-পীড়িতদের নিয়ে এমন অসংবেদনশীল মন্তব্যের কোনও জায়গা নেই। ‘ডাঙ্ক’ কমেডির নামে যা খুশি বলা হচ্ছে। কঠোর পদক্ষেপ করা প্রয়োজন।”

আরও এক ব্যবহারকারী ‘ন্যাশনাল কমিশন ফর উওম্যান’-কে ট্যাগ করে কৌতুকশিল্পীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। অনেকেই অভিযোগ করেছেন, সংবেদনশীল সামাজিক বিষয়কে হাস্যরসের উপাদান হিসাবে ব্যবহার করা অত্যন্ত দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয়।

এক জন লেখেন, “রসিকতার জন্য অনেক বিষয় রয়েছে। কিন্তু কিছু ক্ষণের হাসাহাসির জন্য এমন স্পর্শকাতর বিষয় বেছে নেওয়া দুঃখজনক।” মধুরের শো-এর দর্শকের প্রতিও হতাশা প্রকাশ করেন তিনি।

বিতর্ক ক্রমশ তীব্র হওয়ার মধ্যেই মধুর তাঁর সমাজমাধ্যমের পাতা বন্ধ করেছেন বলে জানা গিয়েছে। যদিও এই বিষয়ে তাঁর পক্ষ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি সামনে আসেনি।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি প্রণীতও একটি ভাইরাল স্ট্যান্ড-আপ ক্লিপের জেরে বিতর্কে জড়ান। মঞ্চ থেকে দর্শকের সঙ্গে তিনি কথোপকথন মগ্ন ছিলেন। সেই সময়ে উপস্থিত এক তরুণ দর্শকের মন্তব্য নিয়েই বিতর্ক তৈরি হয়েছে। হিমাংশু জাংরা নামে ২৩ বছরের তরুণ জানান, তিনি এক মহিলার সঙ্গে রেস্তরাঁয় গিয়েছিলেন। সেখানে বিরিয়ানির জন্য তিনিই ৩৭০ টাকার বিল মেটান। ৩৭০ টাকার বিরিয়ানি খাওয়ানো মানেই মহিলার সঙ্গে শারীরিক ভাবে ঘনিষ্ঠ হওয়ার ছাড়পত্র মেলে— এমনই বার্তা প্রেরিত হয়েছে সেই যুবকের মন্তব্যে। অবলীলায় ওই যুবক বলেন, “৩৭০ টাকার বিরিয়ানি খাইয়েছি, কিছু তো করব! পয়সা উসুল তো করতে হবে।” এই কথা শুনে প্রণীতকেও হাসতে দেখা যায়।

বিতর্কে প্রথমে চুপ থাকলেও কৌতুকশিল্পী ভুল বুঝতে পেরে জনসমক্ষে ক্ষমাও চেয়েছেন। ১৩ জুন, সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিয়োবার্তা ভাগ করে নেন তিনি। প্রণীত স্বীকার করেন যে, তাঁর মন্তব্যের জন্য যে সমালোচনা ও ক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছে, তা তাঁর প্রাপ্য। ভিডিয়োতে প্রণীত বলেন, “আপনারা সবাই আমার ক্রাউড-ওয়ার্কের সেই ভিডিয়োটি দেখেছেন, যার জন্য আমি প্রচুর ঘৃণা ও সমালোচনার মুখে পড়েছি। আমার মনে হয়, আমি এই কটাক্ষের যোগ্য। কারণ, যাঁর সঙ্গে আমি ক্রাউড-ওয়ার্ক করছিলাম, তিনি বেশ কিছু অবমাননাকর মন্তব্য করেছিলেন। উপস্থিত দর্শকেরা সেই কথায় হাসছিলেন। আমিও সেই পরিবেশে ভেসে গিয়েছিলাম এবং বিচারবোধের ক্ষেত্রে আমার ভুল হয়েছিল।”

প্রণীত আরও ইঙ্গিত দেন যে, পরিস্থিতির চাপে তিনি এমন কিছু মন্তব্য করে ফেলেছিলেন, যা করা উচিত হয়নি। আগামী দিনে যে তিনি সতর্ক থাকবেন, সেই বার্তাও দিয়েছেন।

Advertisement
আরও পড়ুন