Bizarre

দুপুর ২টো বাজলেই একসঙ্গে উধাও ৪০ জন কর্মী! বসের ‘মদতে’ প্রতি দিন অফিসে চলে এক ঘণ্টার বিশেষ ‘মিটিং’

ভারতের একটি সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা এমন একটি নিয়ম চালু করেছেন, যা নেটমাধ্যমে সবাইকে অবাক ও মুগ্ধ করেছে। এটি এমন এক অফিস যেখানে প্রতি দিন দুপুর ২টোয় সব কাজ বন্ধ হয়ে যায়। ৪০ জন কর্মীর কাউকে অফিসে পাওয়া যায় না।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০১ মে ২০২৬ ১৬:২৮

ছবি: সংগৃহীত।

অফিসে প্রতি দিন চড়ুইভাতি! এমন আজব কথা কেউ শুনেছেন কোনও দিন? ঘড়ির কাঁটা দুপুর ২টো ছুঁলেই অফিসের ডেস্কে কোনও কর্মীকে পাওয়া যায় না। অফিসের ৪০ জন কর্মীই তখন ব্যস্ত খাবার ভাগ করে খেতে। পাক্কা এক ঘণ্টা কাজ থামিয়ে সকলে একসঙ্গে পিকনিকের মতো মজা উপভোগ করেন। তখন সেখানে শুধু খাওয়া, হাসি-ঠাট্টা, আড্ডা। ম্যানেজার থেকে শুরু করে ইন্টার্ন, পাশাপাশি বসে খাওয়া সারেন। কোনও বিদেশি সংস্থা নয়, অফিসে ‘১ ঘণ্টার পিকনিক’-এর ঐতিহ্য চালু করেছে ভারতেরই একটি সংস্থা।

Advertisement

সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা কাব্য কর্নাটক লিঙ্কডইনে জানিয়েছেন যে, প্রতি দিন দুপুর ২টোয় তাঁর ৪০ সদস্যের দলের সমস্ত কাজ থামিয়ে একত্রিত হয়ে খাবার খান। তিনি লিখেছেন, ‘‘প্রতি দিন অফিসে আমাদের এক ঘণ্টার পিকনিক হয়। এবং এ ব্যাপারে কোনও আপস চলে না। ডেডলাইন এবং চাপের মধ্যে থাকা বিভিন্ন বিভাগের ৪০ জনের একটি দল রয়েছে আমাদের। কিন্তু দুপুর ২টো বাজলে সকলকেই খাবারের জায়গায় পাওয়া যায়।’’ চারদিক থেকে চেয়ার টেনে আনা হয়। কর্মীরা জায়গা না পেলে দাঁড়িয়ে থাকেন, গাদাগাদি করে বসেন, এমনকি কোনায় গিয়েও বসেন। কারণ, আমাদের সংস্থায় কেউ একা খান না।’’ ওই টেবিলে কোনও পদমর্যাদার ভেদাভেদ নেই বলেও জানিয়েছেন কাব্য।

সংস্থার ম্যানেজাররা প্রায়শই দুপুরের খাবারের বিরতি চালু করার বেশি উৎসাহ দেখান। কর্মীদের ডেস্ক ছেড়ে উঠে এসে একসঙ্গে খাবার খাওয়ার জন্য উৎসাহিত করেন। এ ব্যাপারে তাঁদের সক্রিয়তাই চোখে পড়ার মতো। এক ঘণ্টা, কখনও তারও বেশি সময় পেরিয়ে যায় মধ্যাহ্নভোজোর বিরতিতে। কেউ বাড়ি থেকে আনা খাবার ভাগ করেন। কেউ খাওয়ার মাঝেই গেম খেলতে শুরু করে দেন। রোজই যেন উৎসব। সমাজমাধ্যমে সেই অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়েছেন সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা।

পোস্টটি ভাইরাল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নেটমাধ্যম ব্যবহারকারীরা কর্মক্ষেত্রের পরিবেশের সুস্থতা ও আনন্দ বজায় রাখার জন্য কাব্যের প্রশংসা করেছেন। এক নেটাগরিক লিখেছেন, ‘‘এই ধরনের সংস্কৃতিই পদমর্যাদার ঊর্ধ্বে উঠে সত্যিকারের দল গঠন করে। হাসি-ঠাট্টা এবং আন্তরিকতার সঙ্গে দুপুরের খাবার খাওয়ার টেবিল কর্মীদের মধ্যে এমন বন্ধন গড়ে তোলে যা কোনও মিটিংরুম কখনওই করতে পারে না।”

Advertisement
আরও পড়ুন