—প্রতীকী ছবি।
আপাতদৃষ্টিতে যা স্বাস্থ্যকর বলে মনে হয় তা শরীরের চরম ক্ষতিও ডেকে আনতে পারে। তেমনই এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হলেন চিনে বসবাসকারী ভারতীয় তরুণ। এক মাস ধরে প্রতি দিন ২-৩ কাপ চিনা পদ্ধতিতে তৈরি জেসমিন কফি পান করে লিভারের বারোটা বাজিয়ে ফেলেছেন তিনি। সাম্প্রতিক একটি ঘটনা সমাজমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর তা চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ এবং নেটাগরিক উভয়কেই হতবাক করেছে। ‘দ্যলিভার়ডক্টর’ নামে পরিচিত সিরিয়াক অ্যাবি ফিলিপস নামের এক চিকিৎসক বিদেশি ভেষজ পণ্যের লুকোনো বিপদ সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করার জন্য এক্স ও ইনস্টাগ্রামে এই উদ্বেগজনক ঘটনাটি শেয়ার করেছেন বলে সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর।
চিকিৎসকের দাবি, ভারতীয় তরুণ গুরুতর হেপাটাইটিস এবং জন্ডিসে ভুগছিলেন। তাঁর চোখ হলুদ হয়ে যায়। কালো রঙের প্রস্রাব হতে শুরু করে। হাতে ও পায়ে তীব্র চুলকানি শুরু হয়। লিভারের কার্যকারিতা পরীক্ষায় ধরা পড়ে তরুণের লিভারটি সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গিয়েছে। ভাইরাসের সংক্রমণ, ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কিংবা অ্যালকোহলের উপস্থিতি ধরা না পড়ায় প্রথমে রোগ নির্ণয় করতে পারেননি চিকিৎসকেরা। পরে তরুণ জানান তিনি তাঁর রুমমেটের দেওয়া চিনা জেসমিন কফি পান করছিলেন। এটি একটি ভেষজ গুঁড়ো দেওয়া পানীয়। পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে যে ‘জুঁই’ হিসাবে চিহ্নিত অনেক পণ্যে আসল জুঁই (জ্যাসমিনাম সাম্বাক বা গ্র্যান্ডিফ্লোরাম) থাকে না। পরিবর্তে, প্রায়শই এতে জুঁইয়ের বিষাক্ত প্রজাতি মেশানো হয়। সেই বিষে উচ্চমাত্রায় স্টেরয়েডাল গ্লাইকোসাইড থাকে। সেটি ভিটামিন ডি৩-এর মতো কাজ করে। শরীরে ক্যালশিয়ামের মাত্রা বৃদ্ধি করে। লিভার, কিডনি এবং হৃৎপিণ্ডের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।
রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছিল এবং তাঁর লিভারের হাল অত্যন্ত খারাপ ছিল। ওষুধ এবং পথ্যের পর সুস্থ হয়ে উঠছেন ওই যুবক। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন আসল জুঁইয়ের নির্যাস অল্প মাত্রায় নিরাপদ। তবে ভুল ভেষজ পণ্য অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে উঠতে পারে।