ছবি: এআই সহায়তায় তৈরি।
সাপ পোষার শখ খুব কম লোকেরই থাকে। তবে কুকুর বা বিড়ালের মতো মন চাইলেই সাপ পুষে ফেলা যায় না। তার জন্য সরকারের অনুমতি নিতে হয়। অনুমতিপত্র বানানোরও প্রয়োজন পড়ে। অধিকাংশ দেশেই রয়েছে এমন নিয়ম। কিন্তু চিনের এক তরুণ সে সবের ধার ধারেননি। উল্টে নিজের চার কামরার ফ্ল্যাটকে বানিয়ে তুলেছিলেন ‘সাপের সংগ্রহশালা’। তা-ও আবার যে-সে সাপ নয়, তরুণ সংগ্রহে রেখেছিলেন ৩০৯ খানা অজগর। বর্তমানে সেই ব্যক্তি চিনের কারাগারে বন্দিদশা কাটাচ্ছেন।
চিনের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাপপ্রেমী সেই তরুণের পদবি গুয়ো। গুয়োর বাড়ি চিনের ঝেজিয়াং প্রদেশের তাইজ়হৌতে। তাঁর আবাসনের এক বৃদ্ধ প্রতিবেশী আবাসনের কাছে একটি অজগরকে এক দিন ঘুরে বেড়াতে দেখেন। বিষয়টিতে তিনি যেমন শঙ্কিত হন, তেমনই মনে সন্দেহও সৃষ্টি হয়। কারণ, চিনে সাধারণত অজগর দেখতে পাওয়া যায় না। তার মধ্যে বাড়ির এত কাছে একটি অজগরকে ঘুরে বেড়াতে দেখে বৃদ্ধের মনে নানা প্রশ্ন দানা বাঁধে। তিনি পুলিশে খবর দেন।
অভিযোগ পেয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তারা বুঝতে পারে যে সাপটি সেখানে হুট করে চলে আসেনি, নিশ্চয়ই তার কোনও পালক আছেন। যিনি লোকচক্ষুর আড়ালে বেআইনি ভাবে সাপের প্রজননক্রিয়া চালাচ্ছেন। অজগরদের প্রজননক্রিয়া চালানো যে সহজ বিষয় নয়, তা চিনের পুলিশের অজানা ছিল না। অজগরদের বাঁচিয়ে রাখার জন্য প্রয়োজন অবিরাম উষ্ণতা এবং উচ্চ আর্দ্রতা। তাই পুলিশের তরফে সেই অঞ্চলের লোকজনের বিদ্যুতের বিল খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তখনই সামনে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য।
গুয়োর বিদ্যুতের বিলের অঙ্ক দেখে চোখ কপালে ওঠে তদন্তকারীদের। তাঁরা বুঝতে পারেন গুয়োই সেই ব্যক্তি, যিনি বেআইনি ভাবে সাপ পুষছেন। গুয়োর বাড়ি তল্লাশি করতে গিয়ে তদন্তকারীরা তাজ্জব বনে যান। সেখানে গিয়ে তাঁরা দেখেন যে গুয়োর চার কামরার ঘরের তিনটি ঘরই অজগরদের অধীন। বাড়ির সমস্ত আসবাব একটি ঘরে ঢুকিয়ে সেখানেই থাকছিলেন গুয়ো। বাকি ঘরগুলিতে প্লাস্টিকের বাক্সে সাপ ভরে রেখেছিলেন গুয়ো। সে সমস্ত ঘরের তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রি থেকে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রাখার জন্যই বিপুল পরিমাণ বিদ্যুতের বিল আসত।
গুয়োর বিয়ে হয়নি, তিনি সে ভাবে কোনও কাজও করেন না। পুলিশ সূত্রে খবর, ২০১৪ সালে এক বন্ধুর সঙ্গে মিলে গুয়ো চারটি অজগর কিনেছিলেন। তার পর থেকে সেই অজগরদের প্রজনন ঘটিয়ে আজ সেই সংখ্যা এসে দাঁড়িয়েছে ৩০৯-এ। চিনা মুদ্রায় প্রায় তিন কোটি ইউয়ানের সাপ উদ্ধার হয়েছে গুয়োর ফ্ল্যাট থেকে। সাপগুলিকে অনলাইনে বিক্রি করে ধনবান হওয়াই ছিল গুয়োর প্রধান লক্ষ্য। পুলিশকে গুয়ো ‘প্রাণী নির্মাতা’ হিসাবে পরিচয় দেন। জানানো হয়, অজগরগুলিকে তাঁর কোনও ভয় নেই। উল্টে তাদের থেকে রংবেরঙের সাপ তৈরি করাই ছিল তাঁর নেশা।
স্থানীয় আদালত গুয়ো-সহ তাঁর আরও দুই সহযোগীর কারাদণ্ড ঘোষণা করেছে। চিনের ফৌজদারি আইন অনুযায়ী, এই সুরক্ষিত প্রাণীগুলোর অবৈধ প্রজনন বা বিক্রির সর্বোচ্চ শাস্তি পাঁচ বছরের কারাদণ্ড। তবে গুয়ো এবং তাঁর সহযোগীদেরও পাঁচ বছরের জন্যই জেল খাটতে হবে কি না, সে সম্বন্ধে কিছু জানা যায়নি। উদ্ধার করা সাপগুলোকে নিরাপদে একটি স্থানীয় চিড়িয়াখানায় স্থানান্তর করা হয়েছে।