Viral Video

সোনা খুঁজতে দুর্গম গুহায় গোপনে পাড়ি, প্রকৃতির রোষে ১০ দিন আটকে পাঁচ তরুণ! নাটকীয় উদ্ধারের ভিডিয়ো ভাইরাল

সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, পাঁচ জন গ্রামবাসী সোনার আকরিক ও অন্যান্য মূল্যবান খনিজ পদার্থের সন্ধানে ১৯ ও ২০ মে গুহাটিতে প্রবেশ করেছিলেন। প্রবল বৃষ্টির কারণে দ্রুত গুহার মধ্যে নেমে আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি দেখা দেয়। আটকে পড়েন তাঁরা।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০১ জুন ২০২৬ ১৮:৪৫

ছবি: রয়টার্স।

সোনা খুঁজতে যাওয়াটই কাল হয়ে দাঁড়াল পাঁচ জনের। দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলের একটি জলমগ্ন গুহার গভীরে, ১০ দিন ধরে আটকে রইলেন অভিযাত্রীরা। গত ২৭ মে তাঁদের খোঁজ পাওয়ার পর উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে থেকে নাটকীয় ভাবে উদ্ধার করা হয় ওই পাঁচ জনকে। সংবাদ প্রতিবেদন অনুসারে ঘটনাট ঘটেছে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একমাত্র স্থলবেষ্টিত দেশ লাওসে। সোনার লোভে দুর্গম এলাকায় পাড়ি দিয়ে গুহার গভীরে আটকে পড়েন তাঁরা। সেই উদ্ধার অভিযানের একটি ভিডিয়ো প্রকাশ্যে এসেছে। যদিও এই ভিডিয়োটির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।

Advertisement

সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, পাঁচ জন গ্রামবাসী সোনার আকরিক ও অন্যান্য মূল্যবান খনিজ পদার্থের সন্ধানে ১৯ ও ২০ মে গুহাটিতে প্রবেশ করেছিলেন। প্রবল বৃষ্টির কারণে দ্রুত গুহার মধ্যে নেমে আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি দেখা দেয়। বালি, নুড়ি ও আবর্জনা বহনকারী জলের স্রোত সুড়ঙ্গগুলির মধ্যে দিয়ে প্রবল বেগে ঢুকে তাদের বেরোনোর পথ বন্ধ হয়ে যায়। মাটির কয়েকশো মিটার নীচে অভিযাত্রীরা আটকে পড়েছিলেন। আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে দেশি-বিদেশি ডুবুরি, ইঞ্জিনিয়ার ও স্বেচ্ছাসেবকদের একটি দল একজোট হয়েছিল। তাঁরা দিনরাত লড়াই করে বন্যা, মাটির ধস এবং প্রায় অন্ধকার পরিবেশের মতো চরম প্রতিকূল পরিস্থিতির বিরুদ্ধে লড়াই করে জটিল ও বিপজ্জনক অভিযান সফল করেন।

দলটির এক সদস্য বন্যার সময় গুহা থেকে বেরোতে সক্ষম হন এবং কর্তৃপক্ষকে খবর দেন। ফলে লাওসের রাজধানী ভিয়েনতিয়েন থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত এই পার্বত্য অঞ্চলে উদ্ধার অভিযান সম্ভব হয়। গুহার প্রবেশপথে পৌঁছোনোর জন্য উদ্ধারকারীদের অবিরাম বৃষ্টির মধ্যে খাড়া ও পিচ্ছিল রাস্তার মধ্যে দিয়ে প্রায় চার কিলোমিটার চড়াই বেয়ে হাঁটতে হয়েছিল। গুহার প্রবেশপথটি এতটাই সঙ্কীর্ণ ও এবড়োখেবড়ো ছিল যে এক জন মানুষ কোনও মতে তাতে ঢুকতে পারবেন।

ভিতরে পরিস্থিতি আরও বেশি বিপজ্জনক ছিল। উদ্ধারকারীরা পরে সংবাদমাধ্যমে বর্ণনা করেছেন, তাঁরা জলের নীচে এমন সরু পথ দিয়ে এগিয়েছেন যেখানে ঘোরারও জায়গা ছিল না। ছিল শুধু নড়বড়ে কাদামাটির দেওয়াল-সহ হাড়কাঁপানো ঠান্ডা। ঘোলাটে জল এতটাই ঘন ছিল যে ডুবুরিরা নিজেদের হাতও দেখতে পাচ্ছিলেন না। প্রায় ৩০ মিনিট ধরে উদ্ধার অভিযানটি চলার পর প্রথম জীবিত ব্যক্তি গুহা থেকে বেরিয়ে আসেন। পরে আরও চার জন। এক্স হ্যান্ডলের ‘রোনালচেরসান’ নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করা হয়েছে। উদ্ধার অভিযান চালানো দলটি জানিয়েছে পাঁচ জনকে জীবিত অবস্থায় সফল ভাবে উদ্ধার করা হয়েছে।

Advertisement
আরও পড়ুন