ছবি: সংগৃহীত।
একেই বলে উলটপুরাণ। চুরি করতে এসে ধরা পড়ে খোদ পুলিশের সাহায্যে চেয়ে বসল চোরবাবাজি। ঠিক যেন টানটান সিনেমা। চুরি করতে গিয়ে গৃহকর্তার বাড়িতে আটকে গেল দুই চোর। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে ওড়িশার বাসন্তী কলোনিতে চুরির চেষ্টা করতেই দুই সন্দেহভাজন অভিযুক্তকে এলাকার বাসিন্দারা বাড়ির ভেতরে আটকে দেয়। গণপিটুনির হাত থেকে রেহাই পেতে বাধ্য হয়ে তারা পুলিশের শরণাপন্ন হয়। পুলিশ হেল্পলাইন ১১২-এ ফোন করে উদ্ধারের আর্তি জানায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে গণপিটুনি প্রতিরোধ করে। অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে পুলিশ। অভিযুক্তদের হেফাজত থেকে পরিত্যক্ত চোরাই গয়না উদ্ধার করে এবং অভিযোগকারীকে তা ফেরত দেয়।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, গত ২৯ এপ্রিল রাতে বাসন্তী কলোনিতে চুরির চেষ্টার সময় একটি বাড়ির ভেতরে আটকা পড়েন দুই সন্দেহভাজন। তাঁরা নিজেরাই পুলিশের সাহায্য চাইতে বাধ্য হন। পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্ত সিমব্রাম্ব ওরফে নানক সিংহ এবং সত্যেন্দ্র কুমার সিংহ একটি বাড়িতে চুরির উদ্দেশ্যে হানা দেন। বাড়িটিতে সেই সময় বাড়িওয়ালা বা ভাড়াটিয়া কেউই ছিলেন না। বাড়িটি জমিদার গণেশ বিসওয়ালের। আর একতলায় ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকেন মাধব কিষাণ। বাড়ি খালি থাকার সুযোগ নিয়ে ওই দু’জন একটি আলমারি খুলে সোনা ও রুপোর গয়না চুরি করে বলে অভিযোগ।
চোরেদের পরিকল্পনা ভেস্তে দেন এক বৃদ্ধ প্রতিবেশী। গভীর রাতে টেলিভিশন দেখার সময় বাড়িটি থেকে সন্দেহজনক শব্দ শুনে অন্য বাসিন্দাদের সতর্ক করে দেন। কয়েক মিনিটের মধ্যেই স্থানীয়েরা ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে দ্রুত পদক্ষেপ করেন। বাসিন্দারা বাড়ির মূল দরজা ও ছাদে যাওয়ার পথ বন্ধ করে দেন। ফলে অভিযুক্ত চোর পালিয়ে যাওয়ার আগেই বাড়ির ভেতরে আটকা পড়ে। রাত প্রায় আড়াইটের দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাড়িটি থেকে ওই দু’জনকে উদ্ধার করেন। যদিও কিছু উত্তেজিত স্থানীয় বাসিন্দা পুলিশকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন বলে খবর।
সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য উদিতনগর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পরদিন সকালে, বাড়ির ভাড়াটিয়া মাধব থানায় এফআইআর দায়ের করেন। জিজ্ঞাসাবাদের সময় অভিযুক্তেরা গয়না চুরির কথা স্বীকার করেন। তাঁদের দাবি, আতঙ্কিত হয়ে তাঁরা চুরি করা জিনিসপত্র বাড়ির ভেতরে ফেলে রেখেছিল। পুলিশ পরে গয়নাগুলো উদ্ধার করে অভিযোগকারীকে ফেরত দেয়। পুলিশ আধিকারিক জেকে সাহু জানিয়েছেন, এই চুরির মামলায় দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। দু’জনের বিরুদ্ধেই ফৌজদারি মামলা রয়েছে।