ছবি: এক্স থেকে নেওয়া।
বেসমেন্টের পার্কিং এলাকায় তরুণী সফ্টঅয়্যার ইঞ্জিনিয়ার এবং তাঁর পাঁচ বছরের কন্যাকে চাপা দিল দ্রুত গতিতে আসা একটি গাড়ি। গুরুতর আহত হয়েছেন ওই তরুণী। সন্তানের অবস্থা স্থিতিশীল। ভয় ধরানো ঘটনাটি ঘটেছে নয়ডার সেক্টর ৭৯-এর একটি আবাসিক ভবনে, যা আবাসিক এলাকায় বেপরোয়া গাড়ি চালানোর বিষয়ে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। সেই ঘটনার ভিডিয়োও ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে। ভাইরাল হয়েছে ভিডিয়োটি। যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় আহত ওই সফ্টঅয়্যার ইঞ্জিনিয়ারের নাম কৃতিকা শর্মা। তাঁকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। অন্য দিকে, তাঁর পাঁচ বছরের কন্যা সামান্য আঘাত পেলেও প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। জানা দিয়েছে, কৃতিকা এবং তাঁর পরিবার যখন গাড়ি থেকে জিনিসপত্র নামিয়ে অ্যাপার্টমেন্টের দিকে যাচ্ছিলেন, তখনই দুর্ঘটনাটি ঘটে। একটি গাড়ি দ্রুত গতিতে বেসমেন্ট পার্কিং এলাকায় ঢুকে পড়ে এবং কৃতিকা ও তাঁর মেয়েকে ধাক্কা দেয়।
ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, পার্কিং জ়োনে নির্ধারিত গতির চেয়ে অনেক বেশি গতিতে গাড়িটি চলছিল। গাড়িটি এসে সোজা ধাক্কা মারে কৃতিকা ও তাঁর মেয়েকে। দু’জনেই মাটিতে পড়ে যান এবং গাড়ির নীচে আটকা পড়েন। চিৎকার শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং উদ্ধারকাজ শুরু করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কৃতিকা বেশ কয়েক মিনিটগাড়ির নীচে আটকা পড়ে ছিলেন। তাঁর স্বামী অরুণ শর্মা মেয়েকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে পারলেও, কৃতিকাকে মুক্ত করতে স্থানীয় বাসিন্দাদের গাড়িটি উঁচিয়ে ধরতে হয়েছিল। এর পরেই পরিবারটিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কৃতিকার স্বামী অরুণ জানিয়েছেন, দুর্ঘটনায় তাঁর স্ত্রী গুরুতর জখম হয়েছেন। মেডিক্যাল পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, তাঁর পাঁজরের হাড় এবং কলারবোন (কণ্ঠাস্থি) ভেঙে গিয়েছে। মাথায় এবং পেটেও জোর আঘাত লেগেছে। এ ছাড়া গাড়ির নীচে আটকা পড়ে থাকার সময় গাড়ির তাপের কারণে তাঁর শরীরে একাংশ পুড়ে গিয়েছে বলেও খবর। চিকিৎসকেরা তাঁর পাঁজরে এবং কাঁধে অস্ত্রোপচার করেছেন। বর্তমানে হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন তিনি। অন্য দিকে, তাঁর কন্যাকে প্রাথমিক চিকিৎসার পরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘাতক গাড়ির চালককে ইতিমধ্যেই হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে সেক্টর ১১৩ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে (আবাসন চত্বরে) পৌঁছোয় এবং তদন্ত শুরু করে। অনিল নামের এক ব্যবসায়ী, যিনি গাড়িটি চালাচ্ছিলেন, তাঁকে আটক করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের কারও কারও অভিযোগ, দুর্ঘটনার সময় অনিল মদ খেয়েছিলেন। তবে পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ডাক্তারি পরীক্ষায় মদ্যপানের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অনিলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তদন্তের অংশ হিসাবে পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান খতিয়ে দেখছে।
সফ্টঅয়্যার ইঞ্জিনিয়ার এবং তাঁর কন্যার দুর্ঘটনার ভিডিয়োটি পোস্ট করা হয়েছে ‘ডেভ (রোড সেফটি: সিটি অ্যান্ড হাইওয়েস)’ এবং ‘নাও নয়ডা’ নামের এক্স হ্যান্ডল থেকে। ইতিমধ্যেই বহু মানুষ দেখেছেন সেই ভিডিয়ো। লাইক এবং কমেন্টের বন্যা বয়ে গিয়েছে। ভিডিয়োটি দেখার পর নেটাগরিকদের অনেকে যেমন বিস্ময় প্রকাশ করেছেন, তেমনই আবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেকে।