HS Exam Candidate

সন্তান কোলেই পরীক্ষা শেষ করল সদ্য মা হওয়া তরুণী

সন্তানের জন্মের পরেই স্বামী শেখ ওসমান গনিকে জাসমিনারা জানান, শেষ পরীক্ষাটি তিনি দিতে চান। বিষয় ছিল স্বাস্থ্য ও শারীরশিক্ষা।

নিজস্ব সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১০:১২
হাসপাতালে বসে পরীক্ষা দিচ্ছে জাসমিনারা।

হাসপাতালে বসে পরীক্ষা দিচ্ছে জাসমিনারা। — সমরেশ মণ্ডল।

সদ্যোজাত সন্তান কোলে হাসপাতালের শয্যায় বসে উচ্চ মাধ্যমিকের শেষ পরীক্ষা দিলেন সাগরের মন্দিরতলা গ্রামের জাসমিনারা খাতুন।

বছর ঊনিশের জাসমিনারা বামনখালি এমপিপি হাই স্কুলের ছাত্রী। তাঁর পরীক্ষা কেন্দ্র ছিল কৃষ্ণনগর উচ্চ বিদ্যালয়ে। প্রসবের সময় ঘনিয়ে এলেও এত দিন সব ক’টি পরীক্ষাই তিনি কেন্দ্রে গিয়েই দিয়েছেন। কিন্তু বৃহস্পতিবার ভোরে হঠাৎই প্রসব যন্ত্রণা শুরু হয়। তড়িঘড়ি পরিবারের সদস্যরা তাঁকে ভর্তি করান সাগর গ্রামীণ হাসপাতালে। ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই জন্ম নেয় তাঁর পুত্রসন্তান।

সন্তানের জন্মের পরেই স্বামী শেখ ওসমান গনিকে জাসমিনারা জানান, শেষ পরীক্ষাটি তিনি দিতে চান। বিষয় ছিল স্বাস্থ্য ও শারীরশিক্ষা। স্ত্রীর ইচ্ছাকে গুরুত্ব দিয়ে স্কুলের সঙ্গে যোগাযোগ করেন ওসমান। উদ্যোগী হন স্কুল কর্তৃপক্ষও। বামনখালি এমপিপি হাই স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সৌমিত্র দাস দ্রুত ব্যবস্থা করেন, যাতে হাসপাতালেই পরীক্ষা নেওয়া যায়।

শুক্রবার নির্ধারিত সময়ের আগেই এক জন পুলিশ কর্মী ও এক শিক্ষক প্রশ্নপত্র নিয়ে পৌঁছে যান হাসপাতালে। বেলা বারোটায় সদ্যোজাতকে কোলে নিয়েই পরীক্ষা দিতে শুরু করেন জাসমিনারা। পরে শিশুকে ঘুম পারিয়ে পরীক্ষা শেষ করেন। তার মাঝে একাধিকবার অবশ্য শিশুকে খাইয়েছেন। পরে তিনি জানান, পরীক্ষা ভালই হয়েছে। জাসমিনারার কথায়, “শেষ পরীক্ষাটা না দিতে পারলে খুব খারাপ লাগত। ছেলের জন্মের পরও যে পরীক্ষা দিতে পেরেছি, সেটাই সবচেয়ে ভাল লাগছে।”

ভিন্ রাজ্যে সেলাইয়ের কাজ করে স্বামী শেখ ওসমান গনি। তিনি বলেন, “ওর মনের জোরই সব। সেই জোরেই প্রসবের পর দুর্বল শরীর নিয়েও পরীক্ষা দিয়েছে।”

উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার সাগর ব্লকের সেন্টার ইনচার্জ তথা সুন্দরবন জনকল্যাণ সঙ্ঘ বিদ্যা নিকেতন হাই স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অশোক মণ্ডল বলেন, “পরীক্ষার্থীর বিশেষ পরিস্থিতির কথা শুনেই হাসপাতালেই পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়। শিক্ষার অধিকার থেকে কেউ যেন বঞ্চিত না হয়, সেটাই আমাদের লক্ষ্য।”

আরও পড়ুন