Anandapur Fire Incident

‘বিমান দুর্ঘটনা হলে সংস্থা বা মালিকদের কেউ গ্রেফতার হন?’ আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডে আদালতে প্রশ্ন ধৃত গুদাম-মালিক গঙ্গাধরের

ধৃত গঙ্গাধর প্রশ্ন তোলেন, কী ভাবে একই সঙ্গে ‘অনিচ্ছাকৃত খুন’ এবং ‘খুনের চেষ্টা’— এই দুই ধারায় মামলা রুজু করা হল? তাঁর আইনজীবী জানান, রিমান্ড আবেদনে অভিযুক্তকে পলাতক বলা হয়েছে। তাতে তাঁদের আপত্তি রয়েছে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ ১৭:০৬
Anandapur Fire Incident

(বাঁ দিকে) ভস্মীভূত আনন্দপুরের গুদাম। গুদামের মালিক গঙ্গাধর দাস (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।

কলকাতার শহরতলি আনন্দপুরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এ পর্যন্ত এক জনকেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তিনি গুদামের মালিক তথা ডেকরেটর ব্যবসায়ী গঙ্গাধর দাস। বুধবার তাঁকে বারুইপুর মহকুমা আদালতে হাজির করায় পুলিশ। সেখানে ধৃতের যুক্তি, ‘‘দেশে বিমান দুর্ঘটনা হলে তো বিমান সংস্থার কাউকে বা বিমানের মালিককে গ্রেফতার করা হয়নি!’’ তাই শুধুমাত্র সম্পত্তি ভাড়া দেওয়ার কারণে কী ভাবে মালিক হিসাবে তাঁকে দায়ী করা হতে পারে?

Advertisement

আনন্দপুরের নাজিরাবাদ অগ্নিকাণ্ডের মামলায় বুধবার কোর্টরুম উত্তপ্ত হয় তীব্র সওয়াল-জবাবে। অভিযুক্তের পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে আইনজীবী অনির্বাণ গুহ ঠাকুরতা জানান, তাঁর মক্কেলের বয়স প্রায় ৭২ বছর। তিনি একাধিক অসুখে ভুগছেন। ৫০০–৬০০ জন মানুষ তাঁর তৈরি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। তাঁদের রুজিরুটি গঙ্গাধরের উপর নির্ভরশীল। তা ছাড়া গঙ্গাধরের তৈরি স্কুল ও কলেজ রয়েছে। এমন একজনকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ‘দোষী’ করার মানে কী? আইনজীবীর আরও বক্তব্য, ধৃত গঙ্গাধর ২০১৬ সাল থেকে ওই প্রাঙ্গণের বৈধ ‘হোল্ডার’ হলেও ২০২৩ সাল থেকে আনন্দপুরের সম্পত্তিটি তিনি ভাড়ায় দিয়ে দিয়েছেন। ভাড়ার চুক্তিতে স্পষ্ট ভাবে উল্লেখ ছিল, সেখানে কোনও বিপজ্জনক বা দাহ্য পদার্থ মজুত করা যাবে না। কিন্তু ভাড়াটেরা যদি বিপজ্জনক সামগ্রী রাখেন এবং সেখান থেকে যদি দুর্ঘটনা হয়, তখন মালিক কেন দোষী হবেন? ধৃতের আইনজীবী এ-ও জানান, ভাড়াটেরা আনন্দপুরের গুদামে কী করছিলেন, সে বিষয়ে মালিকপক্ষের কোনও হস্তক্ষেপ ছিল না।

এ ছাড়াও ধৃত গঙ্গাধর প্রশ্ন তোলেন, কী ভাবে একই সঙ্গে ‘অনিচ্ছাকৃত খুন’ এবং ‘খুনের চেষ্টা’— এই দুই ধারায় মামলা রুজু করা হল? তাঁর আইনজীবী জানান, রিমান্ড আবেদনে অভিযুক্তকে পলাতক বলা হয়েছে। তাতে তাঁদের আপত্তি রয়েছে। কারণ, পুলিশ আগের দিন ফোন করেই পূর্ব মেদিনীপুর থেকে গঙ্গাধরকে ডেকে এনেছিলেন। প্রয়োজনে পুলিশ এবং অভিযুক্তের টাওয়ার লোকেশন যাচাই করার আর্জিও জানানো হয়। উল্লেখ্য, গঙ্গাধরের বাড়ি পূর্ব মেদিনীপুরের খেজুরি থানার পূর্বচড়া এলাকায়।

আইনজীবী আরও যুক্তি দেন, দেশে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক বিমান দুর্ঘটনা হরছে। ওই সমস্ত ঘটনায় কোথাও বিমান সংস্থা বা বিমানের মালিককে গ্রেফতার করা হয়নি। তা হলে শুধুমাত্র সম্পত্তি ভাড়া দেওয়ার কারণে কী ভাবে মালিক দায়ী হতে পারেন? যে কোনও শর্তে ধৃতের জামিন মঞ্জুরের আবেদন করা হয়। প্রয়োজনে পাসপোর্ট জমা রাখার কথাও বলা হয়েছিল।

অন্য দিকে, সরকারি কৌঁসুলি জানান, আনন্দপুরের গুদামে দু’টি সংস্থা কাজ করছিল। একটি সংস্থার গুদামের দায়িত্বে ছিলেন অভিযুক্ত নিজে এবং অন্যটি ‘গঙ্গা ফ্লোরিস্ট’, সেখানে এলপিজি সিলিন্ডার, কাপড় এবং একাধিক দাহ্য পদার্থ ছিল। কর্মীরা সেখানে কাজ করার সময় কী ভাবে এমন বিপজ্জনক সামগ্রী রেখেছেন, তা দেখার দায় মালিকেরই। তিনি এর দায় এড়াতে পারেন না। অগ্নিকাণ্ডের নেপথ্যে অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না, তা জানার জন্য ধৃতকে ১০ দিনের পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হয়।

সব পক্ষের সওয়াল-জবাব শোনার পর আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত গঙ্গাধরকে পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

Advertisement
আরও পড়ুন