বারুইপুরে দেহ ঘিরে বিক্ষোভ। — নিজস্ব চিত্র।
১২ বছরের এক কিশোরীর অস্বাভাবিক মৃত্যু। তার জেরে ক্ষিপ্ত জনতার গণপ্রহারে আর এক ব্যক্তির মৃত্যু। এই দুই ঘটনার জেরে রবিবার অশান্ত হল বারুইপুর। শিয়ালদহ-নামখানা লাইনে অবরোধের জেরে ঘণ্টাখানেক বন্ধ থাকে ট্রেন চলাচল। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা বন্ধ থাকে সড়কও। পুলিশ প্রথমে গেলে তাদের ঢিল ছুড়ে মারার অভিযোগ ওঠে উন্মত্ত জনতার বিরুদ্ধে। জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশকে লাঠিচার্জ করতে হয়। কিশোরীর বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার তাঁকে ভবানীভবনে যেতে বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। আইজি (প্রেসিডেন্সি রেঞ্জ) কঙ্করপ্রসাদ বাড়ুইয়েরও আশ্বাস, ‘‘দোষীদের রেয়াত করা হবে না।’’
শনিবার বিকেল থেকে নিখোঁজ ছিল ১২ বছরের কিশোরী। রবিবার সকালে তার বাড়ির কাছে একটি পুকুর থেকে উদ্ধার হয় দেহ। বারুইপুর থানা এলাকার ধপধপি ২ পঞ্চায়েতের সূর্যপুর হাটের ঘটনা। পরিবারের অভিযোগ, ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে তাকে। তার পরেই দেহ আটকে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন স্থানীয়দের একাংশ।
বিক্ষোভ চলাকালীন স্থানীয় এক যুবককে পিটিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠেছে। এলাকার মানুষজনের একাংশের অভিযোগ, নিহতকে সন্দেহভাজনদের সঙ্গে ঘুরতে দেখা গিয়েছে। তিনিও সন্দেহভাজন বলে দাবি কারও কারও। এই অবস্থায় ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় পুলিশ। মোতায়েন হয় বিশাল বাহিনী। শেষপর্যন্ত পুলিশ কিশোরীর দেহ উদ্ধার করে বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যায়। আইজি কঙ্করপ্রসাদ বলেন, ‘‘আমি উদ্যোগী হয়ে আজই মৃতার ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করব।’’
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, কিশোরী শনিবার বিকেলে খাবার কিনতে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল। তার পর থেকে তার খোঁজ মেলেনি। পরিবারের অভিযোগ, চার জন তাকে তুলে নিয়ে যায়। রবিবার সকালে বাড়ির অদূরে একটি পুকুরে কিশোরীর দেহ মেলে। তার পরেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। দেহ ঘিরে রেখে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন স্থানীয়েরা। পথ অবরোধ করেন। সূর্যপুর স্টেশনেও অবরোধ হয়।
ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মোতায়েন করা হয় বিশাল বাহিনী। অভিযোগ, পুলিশ লাঠিচার্জ করেছে। পাল্টা তাদের লক্ষ্য করে বিক্ষোভকারীদের একাংশ ঢিল ছোড়ে বলেও অভিযোগ উঠেছে। তাতে কয়েক জন পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন বলেও অভিযোগ। পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হতে থাকে। এই আবহে মৃতার বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন শুভেন্দু। এই ঘটনায় যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার কিশোরীর বাবাকে ভবানীভবনেও যেতে বলেছেন।
শেষপর্যন্ত রবিবার দুপুর নাগাদ পুলিশের হস্তক্ষেপে সড়ক অবরোধ তুলে নেন বিক্ষোভকারীরা। স্টেশন থেকেও সরে যান বিক্ষোভকারীরা। ট্রেন চলাচল শুরু হয় নামখানা-শিয়ালদহ লাইনে। কিশোরীর দেহ উদ্ধার করে বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশের তরফে মাইকিং করে বিক্ষোভকারীদের শান্ত হতে বলা হয়। আইজি (প্রেসিডেন্সি রেঞ্জ) কঙ্করপ্রসাদ আশ্বাস দিয়ে বলেন, ‘‘এই ঘটনার সঙ্গে যাঁরা জড়িত, সকলকে গ্রেফতার করা হবে। ফাঁসির সাজা যাতে দেওয়া হয়, সেই চেষ্টা করব। একটু আগে মুখ্যমন্ত্রী ফোন করেছিলেন। কথা দিয়েছেন, এই মামলার সঙ্গে যাঁরা জড়িত, তাঁদের কাউকে ছাড়া হবে না। যা ব্যবস্থা গ্রহণ করার করব। সব ধরনের সাহায্য করতে বদ্ধপরিকর।’’ তার পরে তিনি আরও বলেন, ‘‘আপনারা সহযোগিতা করুন। আজকের মধ্যে দেহের ময়নাতদন্ত যাতে হয়ে যায়, তা দেখছি। দরকারে আমি নিজে হাসপাতালে গিয়ে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে ভিডিয়োগ্রাফি করে ময়নাতদন্ত করাব। আমি যা বলি, তা-ই করি। সব সময় পাশে রয়েছি। কেউ রেহাই পাবে না।’’
মৃতার বাবা বলেন, ‘‘আমার সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর কথা হয়েছে। উনি আমাদের মঙ্গলবার ভবানীভবনে যেতে বলেছেন। বলেছেন, কোনও দোষীকে ছাড়া হবে না। আমাদের সব দাবি খতিয়ে দেখা হবে বলে কথা দিয়েছেন।’’