মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। —ফাইল চিত্র।
রাজ্যের চা শ্রমিকদের উন্নয়নের জন্য ৩১৩ কোটি টাকা বরাদ্দ করল সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রবিবার সকালে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে জানিয়েছেন, কোন খাতে কত টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। কেন্দ্রের চা শ্রমিক উন্নয়ন প্রকল্পই এ বার এ রাজ্যে চালু করা হচ্ছে। শনিবার সরকারের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শুভেন্দু জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গে ‘প্রধানমন্ত্রী চা শ্রমিক প্রোৎসাহন যোজনা’ (পিএমসিএসপিওয়াই) চালু করা হচ্ছে। তাতে মোট ৩১৩.৩০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এর ফলে চা শ্রমিকদের জীবনে আমূল পরিবর্তন আসতে চলেছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সমাজমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, ‘‘আমাদের পরিশ্রমী চা শ্রমিকদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং সার্বিক উন্নয়নে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাই আমাদের রাজ্য স্তরের কমিটি পিএমসিএসপিওয়াই চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরা চা শ্রমিকদের জীবন বদলে দিতে চলেছি।’’
চা শ্রমিকদের উন্নয়ন প্রসঙ্গে শনিবার যে বৈঠক হয়েছে, তার সভাপতিত্বে ছিলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ অগ্রবাল। এ ছাড়া, বৈঠকে ছিলেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরের সচিব, মহিলা ও শিশু উন্নয়ন দফতরের সচিব, রাজ্য অর্থ দফতরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ দফতরের প্রধান সচিব, পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায় উন্নয়ন দফতরের সচিব এবং পশ্চিমবঙ্গ সমগ্র শিক্ষা মিশনের প্রজেক্ট ডিরেক্টর।
কোন খাতে কত টাকা বরাদ্দ করা হচ্ছে? মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, মূলত তিনটি খাতে বরাদ্দ হয়েছে— শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং আশ্রয় যোজনা। চা শ্রমিক শিক্ষা যোজনায় (সিএসএসওয়াই) মোট ১৭৭ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হচ্ছে। শ্রমিকদের পরিবারের জন্য শিক্ষাগত পরিকাঠামো এবং শিক্ষার গুণগত মানের উন্নয়নের লক্ষ্যেই এই বরাদ্দ। চা শ্রমিক স্বাস্থ্যসুরক্ষা যোজনায় (সিএসএসএসওয়াই) বরাদ্দ করা হয়েছে ৭২ কোটি টাকা। চা বাগান সংলগ্ন এলাকায় স্বাস্থ্য পরিকাঠামো এবং চিকিৎসা পরিষেবার উন্নয়নের লক্ষ্যে এই টাকা কাজে লাগানো হবে।
এ ছাড়া, চা শ্রমিক আশ্রয় যোজনায় (সিএসএওয়াই) বরাদ্দ হয়েছে ৬৩ কোটি টাকা। এর মাধ্যমে পাহাড়ি এলাকায় ৮৮টি এবং সমতলে ২৩৩টি, মোট ৩২১টি বিশ্রামাগার তৈরি করা হবে। তাতে অফ-গ্রিড সৌরবিদ্যুৎ থেকে শুরু করে বিশুদ্ধ পানীয় জল, আরামদায়ক বসার জায়গা, পরিচ্ছন্ন শৌচাগার— সমস্ত আধুনিক সুযোগসুবিধা পাওয়া যাবে। শুভেন্দু জানিয়েছেন, এই প্রকল্প পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতর। তারা স্বাস্থ্য দফতর, পশ্চিমবঙ্গ সমগ্র শিক্ষা মিশন এবং বিভিন্ন জেলা প্রশাসনগুলির সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখবে।