ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। —ফাইল চিত্র।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেবাশ্রয় স্বাস্থ্যশিবির নিয়ে দ্বিতীয় এফআইআর দায়ের হল ডায়মন্ড হারবারে। এ বার বিষ্ণুপুর থানার পুলিশ পদক্ষেপ করল। স্থানীয় বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস (ববি)-এর অভিযোগের ভিত্তিতে বিষ্ণুপুর থানা অভিষেক এবং অন্যান্যদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে। একাধিক ধারায় রুজু করা হয়েছে মামলা। তালিকায় নাম রয়েছে অভিষেকের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়, ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানেরও।
সূত্রের খবর, ‘সেবাশ্রয়’ এবং ‘সেবাশ্রয় ২’ শিবির নিয়ে মোট ১৬টি অভিযোগ রয়েছে। তার ভিত্তিতে বিষ্ণুপুর থানার পুলিশ এফআইআর করেছে শনিবার। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারা, ওষুধ ও প্রসাধনী আইন, পিসিপিএনডিটি আইন, পারমাণবিক শক্তি আইন, জাতীয় মেডিক্যাল কমিশন (এনএমসি) আইন এবং রাজ্য ক্লিনিকাল এসটাব্লিশমেন্ট আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। অভিযুক্তদের তালিকায় প্রথমেই রয়েছেন সাংসদ অভিষেক।
এ ছাড়া আরও অনেকের নাম রয়েছে এফআইআরে। সুমিত, জাহাঙ্গির ছাড়াও সেবাশ্রয়ের অনিয়মে অভিযুক্ত প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক দিলীপ মণ্ডল। এফআইআর হয়েছে অয়ন ঘোষ দস্তিদার, শামিম আহমেদ, গৌতম অধিকারী, মেহেবাবুর গায়েন, নবকুমার বেতাল, বাবান গাজ়ি এবং একাধিক সংগঠনের বিরুদ্ধে। অজ্ঞাত পরিচয় কিছু সংগঠক, আয়োজক, চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, সরকারি কর্মচারীকেও অভিযুক্তের তালিকায় রেখেছে পুলিশ। সেবাশ্রয়ে অর্থের জোগান কোথা থেকে আসত, খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্তদের মধ্যে জাহাঙ্গির, দিলীপ আগেই গ্রেফতার হয়েছেন।
অভিযোগপত্রে ডায়মন্ড হারবারের স্বাস্থ্যশিবিরের প্রধান সংগঠক হিসাবে অভিষেকের নাম রয়েছে। বলা হয়েছে, তিনিই জনসমক্ষে ঘোষিত মুখ হিসাবে এই কর্মসূচির পরিকল্পনা, পরিচালনা এবং বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাই তাঁর ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কিছু দিন আগে অনুরূপ এফআইআর হয়েছে ডায়মন্ড হারবার থানাতেও।
সেবাশ্রয়ের বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ অনিয়মের। অভিযোগকারীদের দাবি, স্বাস্থ্যশিবির আয়োজনের ক্ষেত্রে কোনও নিয়ম মানা হয়নি। একাধিক নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই এই শিবির আয়োজন করা হত। এমনকি, ওষুধ ও যন্ত্রপাতি, চিকিৎসার সরঞ্জাম ব্যবহারের ক্ষেত্রেও অনুমোদন নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। এ ভাবে সাধারণ মানুষের জীবনকে ঝুঁকির দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগকারীদের বক্তব্য, অভিষেক ও অন্যেরা অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন স্থানে অননুমোদিত চিকিৎসাকেন্দ্র পরিচালনা করেছেন। সেখানে প্রতারণা, জালিয়াতি, অবৈধ ভাবে পরিষেবা প্রদান, বেআইনি ভাবে ওষুধ ও রোগনির্ণয়ের যন্ত্রপাতি ব্যবহার হয়েছে। পর পর দু’টি থানায় এফআইআর দায়ের হওয়ায় অস্বস্তি বাড়ল অভিষেকের।