Donald Trump on Benjamin Netanyahu

নেতানিয়াহু জানেন কে ‘বস’: ট্রাম্প, ‘যুদ্ধবাজ’ মন্তব্যের পর কি দুই নেতার সম্পর্কে অবনতি?

ইরানের সঙ্গে আমেরিকার সংঘর্ষবিরতি এবং সমঝোতা পর্বে প্রকাশ্যেই ইজ়রায়েলের নীতির সমালোচনা করেছেন ট্রাম্প। এমনকি, নেতানিয়াহুকে তিনি ‘যুদ্ধবাজ’ প্রধানমন্ত্রী বলে কটাক্ষও করেছিলেন।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৫ জুলাই ২০২৬ ১০:০৮
(বাঁ দিকে) ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (ডান দিকে)।

(বাঁ দিকে) ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।

ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু জানেন, ‘বস’ আসলে কে! এমনই মন্তব্য করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, তাঁর এবং নেতানিয়াহুর সম্পর্ক খুব ভাল। কারণ, এই সম্পর্কে ‘বস’ কে, তা নেতানিয়াহু খুব ভাল করে জানেন।

Advertisement

ইরানের সঙ্গে আমেরিকার সংঘর্ষবিরতি এবং সমঝোতা পর্বে প্রকাশ্যেই ইজ়রায়েলের নীতির সমালোচনা করেছেন ট্রাম্প। এমনকি, নেতানিয়াহুকে তিনি ‘যুদ্ধবাজ’ প্রধানমন্ত্রী বলে কটাক্ষও করেছিলেন। তার জবাবে নেতানিয়াহু সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন, আমেরিকার কথায় চলবে না তাঁর দেশ। এমনিতে আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ। ইজ়রায়েলের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু দেশই আমেরিকা। কিন্তু ইরানের সঙ্গে সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে দুই রাষ্ট্রনেতার সম্পর্কের অবনতি হয়েছে বলে মনে করছেন কেউ কেউ। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প এবং নেতানিয়াহুর সাক্ষাৎ হতে পারে শীঘ্রই।

শনিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিয়সকে ফোনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু প্রসঙ্গে মন্তব্য করেছিলেন ট্রাম্প। বলেন, ‘‘আমাদের মধ্যে বোঝাপড়া খুব ভাল। উনি জানেন, বস কে।’’ আগামী সপ্তাহেই নেতানিয়াহুর সঙ্গে হোয়াইট হাউসে দেখা করতে পারেন বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। তাঁদের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এখনও তারিখ চূড়ান্ত হয়নি।

ট্রাম্প দাবি করলেও আগামী সপ্তাহে নেতানিয়াহুর সঙ্গে তাঁর বৈঠকের সম্ভাবনা ক্ষীণ বলে দাবি করেছেন ইজ়রায়েলি আধিকারিক। তিনি জানিয়েছেন, ৭ এবং ৮ জুলাই নেটো সম্মেলনে যোগ দিতে তুরস্কে যাচ্ছেন ট্রাম্প। তাই ওই সময়ে হোয়াইট হাউসে নেতানিয়াহু আসবেন না। তার পরের সপ্তাহে দুই রাষ্ট্রনেতার সাক্ষাৎ হতে পারে। উল্লেখ্য, শুক্রবারই ট্রাম্প এবং নেতানিয়াহু ফোনে কথা বলেছেন। ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দফতর জানিয়েছে, ‘শীঘ্রই’ তাঁরা দেখা করবেন। তবে নির্দিষ্ট করে কোনও সময় জানানো হয়নি।

ইজ়রায়েলের সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্কের অবনতির নেপথ্যে রয়েছে লেবাননে সংঘাত। ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজ়বুল্লাদের বিরুদ্ধে সেখানে একের পর এক অভিযান চালিয়েছে নেতানিয়াহুর বাহিনী। কিন্তু আমেরিকার সঙ্গে সমঝোতার আলোচনায় ইরান জানিয়ে দেয়, লেবাননে ইজ়রায়েল তাদের আগ্রাসন বন্ধ না করলে সংঘর্ষবিরতি সম্ভব নয়। এর পরেই ইজ়রায়েলকে অভিযানে রাশ টানতে বলেছিল আমেরিকা। সমঝোতার এই প্রক্রিয়াকে নেতানিয়াহুরা ভাল চোখে দেখেননি। ওয়াশিংটনের বৈঠকে সম্পর্কের উন্নতি হয় কি না, সেটাই দেখার।

Advertisement
আরও পড়ুন