Ashokenagar ONGC

জুলাই থেকেই বাণিজ্যিক ভাবে তেল উত্তোলন শুরু অশোকনগরে! রাজ্যে শিল্পের নতুন অধ্যায়, দাবি শমীকের

২০১৮ সালে বাইগাছি ওএনজিসির কেন্দ্রে খনিজ তেল এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের বিপুল ভান্ডারের সন্ধান মেলে। ২০২০ সালের পরীক্ষামূলক ভাবে প্রায় ৩৭৫ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল উত্তোলন করা হয়।

Advertisement
রুদ্রনারায়ণ রায়
শেষ আপডেট: ২৯ জুন ২০২৬ ১৫:৩৮
ONGS Ashokenagar

অশোকনগরে ওএনজিসি-তে কাজ চলছে জোরকদমে। —নিজস্ব চিত্র।

উত্তর ২৪ পরগনার মাটি থেকে বাণিজ্যিক ভাবে উঠবে তরল সোনা। সমস্ত কিছু পরিকল্পনামাফিক এগোলে আগামী জুলাই মাস থেকেই অশোকনগরের বাইগাছি ওএনজিসি প্রকল্পে বাণিজ্যিক ভাবে খনিজ তেল উত্তোলন শুরু হয়ে যাবে। প্রাকৃতিক গ্যাসের বাণিজ্যিক উৎপাদনেরও পরিকল্পনা নিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থা। সংশ্লিষ্ট প্রকল্প শেষ হলে উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগর শুধু পশ্চিমবঙ্গে নয়, দেশের মানচিত্রেও গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞেরা। বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্যের দাবি, পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকারের আমলে শিল্প এবং কর্মসংস্থানের নতুন অধ্যায় শুরু হল।

Advertisement

অশোকনগরে এ পর্যন্ত মোট সাতটি কূপ খনন করা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে বাইগাছি কেন্দ্রের একটি কূপ থেকে জুলাই মাসের শেষ দিকে তেল উৎপাদন শুরু করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। ভুরকুন্ডা, দৌলতপুর-সহ আশপাশের এলাকাতেও খননকাজ চলছে। ভবিষ্যতে সেখান থেকেও তেল উত্তোলনের পরিকল্পনা রয়েছে। রানাঘাটেও খনিজ তেলের সন্ধান মিলেছে। সব মিলিয়ে ওএনজিসির এই প্রকল্পে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ হয়েছে।

২০১৮ সালে বাইগাছি ওএনজিসির কেন্দ্র থেকে খনিজ তেল এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের বিপুল ভান্ডারের সন্ধান মেলে। ২০২০ সালের পরীক্ষামূলক ভাবে বাইগাছি কূপ থেকে প্রায় ৩৭৫ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল তোলা হয়। বিশেষজ্ঞদের দাবি, এখানকার তেলের এপিআই গ্র্যাভিটি ৪০-৪১ (জলের তুলনায় অপরিশোধিত তেল কতটা ভারী বা হালকা তা নির্ণয় করার সূচক), যা ভারতের সর্ববৃহৎ তৈলখনি ‘বম্বে হাই’-এর সমতুল্য। এমনকি, কিছু ক্ষেত্রে আরও উন্নত মানের বলেও দাবি করছেন কেউ কেউ।

ওএনজিসির একটি সূত্রে খবর, এই কেন্দ্র থেকে উত্তোলিত অপরিশোধিত তেল পরিশোধনের জন্য ইন্ডিয়ান অয়েলের হলদিয়া শোধনাগারে নিয়ে যাওয়া হবে। বর্তমানে প্রকল্প এলাকায় ড্রিলিং রিগ এবং ড্রিল বিটের সাহায্যে প্রায় ২,৪৫০ মিটার গভীর পর্যন্ত কূপ খননের কাজ চলছে। ইতিমধ্যে ২,০০৬ মিটারেরও বেশি খননকাজ হয়ে গিয়েছে। প্রতিদিন গড়ে ১৫০ মিটার পর্যন্ত খনন হচ্ছে। তেল উত্তোলন শুরু হলে কূপ থেকে নিয়মিত তেল তুলতে ‘পাম্প জ্যাক’ ব্যবহার করা হবে। এ ছাড়া আরও অত্যাধুনিক মেশিন নিয়ে আসা হবে। এখন দু’টি শিফ্‌টে শতাধিক কর্মী কাজ করছেন অশোকনগরে।

বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ শমীক জানান, ২০১৮ সাল থেকে এই প্রকল্পের কাজ শুরু হলেও দীর্ঘদিন রাজ্য সরকারের অনুমোদন না মেলায় কাজ আটকে ছিল। সম্প্রতি প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র পাওয়ার পর প্রকল্পে গতি এসেছে। তিনি বলেন, ‘‘সংসদে একাধিক বার বিষয়টি উত্থাপন করার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিংহ পুরীর সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগের ফলে প্রকল্পটির কাজ এগিয়েছে।’’ শমীক আশাবাদী যে, জুলাই থেকেই খনিজ তেল উত্তোলন শুরু হয়ে যাবে। এই প্রকল্প থেকে রাজ্যের বিপুল রাজস্ব আয় হবে এবং অশোকনগর-সহ আশপাশের এলাকার আর্থ-সামাজিক উন্নতি ঘটবে।

নিরাপত্তার স্বার্থে অশোকনগরের ওই এলাকা উঁচু পাঁচিল দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়েছে। তবে প্রকল্পস্থলে যাওয়ার রাস্তা এখনও কাঁচা। সে জন্য ভারী যন্ত্রপাতি-সহ গাড়ি যাওয়া-আসার সমস্যা হচ্ছে। সে জন্য ওএনজিসি প্রকল্প এলাকা থেকে হাবড়া-নৈহাটি সড়ক পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণের বিষয়েও প্রশাসনিক স্তরে ভাবনাচিন্তা চলছে। পথবাতি-সহ নিরাপত্তা সংক্রান্ত পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজও চলছে।

শমীক বলছেন, ‘‘এই প্রকল্প সফল হলে, পশ্চিমবঙ্গের শিল্প এবং কর্মসংস্থান তথা দেশের জ্বালানিক্ষেত্রে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে।’’

Advertisement
আরও পড়ুন