Special Intensive Revision

সিএএ-তে আবেদন করেও কপালে ভাঁজ মতুয়াদের

সিএএ-তে আবেদন করে মেলা শংসাপত্র এসআইআর-এর নথি হিসাবে গৃহীত হবে বলে জানিয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। সে ঘোষণার জেরে সিএএ-তে আবেদন করেছেন অনেক মতুয়া।

সীমান্ত মৈত্র  
শেষ আপডেট: ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:০১

— প্রতীকী চিত্র।

কত জন আবেদন করলেন সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনে (সিএএ), আর কত জনই বা পেয়ে গিয়েছেন নাগরিকত্বের শংসাপত্র—স্পষ্ট হিসাব মিলছে না। অনেকেই জানাচ্ছেন, আবেদনের পরে মাসের পরে মাস কাটলেও শংসাপত্র পাননি। ফলে ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) পর্বে উদ্বেগ কাটছে না মতুয়াদের একটা বড় অংশের। এই আবহে শনিবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ব্যারাকপুরে দলের কর্মিসভা থেকে দাবি করেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মতুয়া, নমশূদ্রদের আতঙ্কিত করছেন। কথা দিচ্ছি, মতুয়া ও নমশূদ্রদের ভয় পাওয়ার কারণ নেই। মমতা আপনাদের ভোট কাড়তে পারবেন না।’’ তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পাল্টা বলেন, “মতুয়াদের ভয় দেখাচ্ছে কে? বিজেপি আর তাদের সাংসদ, বিধায়কেরা। বলছেন, বাংলাদেশিদের নাম বাদ দিতে গেলে পাঁচ লক্ষ নাম বাদ মানতে হবে। তাঁরাই বলেছেন, খসড়া তালিকা প্রকাশের পরে, বাদের সংখ্যা এক কোটি পেরোবে।’’

সিএএ-তে আবেদন করে মেলা শংসাপত্র এসআইআর-এর নথি হিসাবে গৃহীত হবে বলে জানিয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। সে ঘোষণার জেরে সিএএ-তে আবেদন করেছেন অনেক মতুয়া। তাঁদের অনেকের নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নেই। বিজেপির দাবি, অনেকেই আবেদনের ভিত্তিতে শংসাপত্র পাচ্ছেন। যদিও তৃণমূলের প্রশ্ন, কত জন নাগরিকত্বের শংসাপত্র পেলেন, সে সংখ্যা স্পষ্ট করে জানানো হোক।

কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী তথা একটি ‘অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসঙ্ঘ’-এর সঙ্ঘাধিপতি শান্তনু ঠাকুরের নেতৃত্বে গত কয়েক মাস ধরে মতুয়াদের পীঠস্থান, উত্তর ২৪ পরগনার ঠাকুরনগরের ঠাকুরবাড়িতে হয়েছে সিএএ-তে আবেদনের শিবির। শান্তনুর দাবি, রাজ্যে ১ কোটি ২০ লক্ষ মতুয়া আছেন। শিবিরে গত সাত মাসে প্রায় ৭৬ হাজার মানুষ আবেদন করেছেন। তাঁর দাবি, “দেড় হাজার মানুষ নাগরিকত্বের শংসাপত্র পেয়েছেন। বাকিরাও দ্রুত পাবেন।”

ঠাকুরবাড়িতেই গাইঘাটার বিজেপি বিধায়ক তথা আর একটি ‘অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসঙ্ঘ’-এর সঙ্ঘাধিপতি সুব্রত ঠাকুরের নেতৃত্বে চলা সিএএ-শিবির থেকে গত ছ’মাসে প্রায় তিন হাজার মানুষ আবেদন করেছেন বলে দাবি। সুব্রত জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে আড়াইশোর বেশি নাগরিকত্বের শংসাপত্র পেয়েছেন। শিবির হয়েছে রাজ্যের অন্যত্রও। তবে সে সব জায়গা থেকে ঠিক কত জন নাগরিকত্বের শংসাপত্র পেয়েছেন, তার নির্দিষ্ট সংখ্যা মেলেনি।

তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ তথা অন্য ‘অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসঙ্ঘ’-এর সঙ্ঘাধিপতি মমতা ঠাকুরের দাবি, রাজ্যে মতুয়া ভোটারের সংখ্যা প্রায় দু’কোটি। অনেকের কাছেই নির্বাচন কমিশনের নির্দিষ্ট নথিপত্র নেই। তিনি বলেন, “সিএএ-তে আবেদন করে কোনও মতুয়া উদ্বাস্তু নাগরিকত্বের শংসাপত্র পেয়েছেন জানা নেই। পেয়ে থাকলে বিজেপি সামনে আনুক।”

সিএএ-তে আবেদন করে শংসাপত্র পেয়েছেন বাগদার সুমনকুমার মজুমদার। জানান, ১৯৯২ সালে বাংলাদেশ থেকে এসেছিলেন। মাস পাঁচেক আগে সিএএ-তে আবেদন করে কয়েক দিন আগে শংসাপত্র পেয়েছেন। আবেদনকারী মনোরঞ্জন মৃধা অবশ্য বলেন, ‘‘আমাদের কাছে অন্য নথিপত্র নেই। তাই সিএএ-তে আবেদন করেছি। কবে শংসাপত্র পাব জানি না। শুনানির মধ্যে নাগরিকত্বের শংসাপত্র না পেলে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাবে বলে মনে হচ্ছে!”

সিপিএমের উত্তর ২৪ পরগনা জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য সত্যসেবী কর বলছেন, ‘‘সিএএ-তে আবেদনকারীর অনুপাতে শংসাপত্র পাওয়া মতুয়ার সংখ্যা নগণ্য। আমরা গোড়া থেকেই বলছি, সবচেয়ে বেশি নাম মতুয়াদেরই কাটা যাবে।’’

আরও পড়ুন