কাকদ্বীপের সভায় প্রধানমন্ত্রী। ছবি: সমরেশ মণ্ডল।
কাকদ্বীপে নির্বাচনী সভায় এসে গঙ্গাসাগরে সেতুর দাবিতে সরব হলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বৃহস্পতিবার কাকদ্বীপের স্পোর্টস কমপ্লেক্সের মাঠে দলীয় প্রার্থীদের সমর্থনে একটি সভা করেন মোদী। সেখানেই একের পর এক স্থানীয় সমস্যা তুলে ধরে রাজ্যের তৃণমূল পরিচালিত সরকারকে বেঁধেন তিনি। গঙ্গাসাগর সেতুর প্রসঙ্গ টেনে রাজ্য সরকারকে এক হাত নেন মোদী।
তিনি বলেন, “প্রতি নির্বাচনের আগে গঙ্গাসাগর সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও ভোট মিটতেই তা অধরা থেকে যায়। এখনও মূল ভরসা ফেরি পরিষেবা, যা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়ে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত একটি পাকা সেতু তৈরি হয়ে ওঠেনি।” তাঁর অভিযোগ, “বাংলায় দুর্যোগ, ঘূর্ণিঝড় বা পূর্ণিমা-অমাবস্যা কটালের সময়ে বহু মানুষের ঘরবাড়ি ভেসে যায়, ফসলের ক্ষতি হয়। কিন্তু সেই সব সমস্যার স্থায়ী সমাধানে রাজ্য সরকারের কোনও কার্যকর উদ্যোগ নেই।” কেন্দ্রীয় সরকার দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য আর্থিক সাহায্য পাঠালেও তা সাধারণ মানুষের হাতে পৌঁছয় না বলে অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। এই প্রসঙ্গে রাজ্যের শাসকদলের দুর্নীতি, কাটমানি, এবং সিন্ডিকেট রাজের অভিযোগ তোলেন তিনি। তৃণমূলের পাল্টা দাবি, সেতু তৈরির সমস্ত ব্যবস্থা করেছে রাজ্য সরকারই। প্রধানমন্ত্রী সেতু তৈরিতে কেন্দ্রীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিলেন না কেন, সেই প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল।
প্রশাসন সূত্রের খবর, গত বছর গঙ্গাসাগর মেলায় এসে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গঙ্গাসাগর সেতুর শিলান্যাস করেন। এরপরেই নির্মাণকারী সংস্থা প্রাথমিক কাজ শুরু করে। কাকদ্বীপের লট-৮ এলাকায় প্রায় ২০ বিঘা জমি লিজ়ে নিয়ে সেখানে নির্মাণ সামগ্রী মজুত, যন্ত্রপাতি স্থাপন এবং কর্মীদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। মথুরাপুরের তৃণমূল সাংসদ বাপি হালদার বলেন, “পরিকল্পিত ভাবে রাজনৈতিক বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই সেতুর শিলান্যাস করেছেন। প্রকল্পের কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীকে বার বার আবেদন জানানো হলেও কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে কোনও সহযোগিতা মেলেনি। সাগরদ্বীপের মানুষের উন্নয়ন বা পুণ্যার্থীদের সুবিধা নিয়ে কেন্দ্রের কোনও আন্তরিকতা নেই। প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে শুধু সমস্যার কথাই তুলে ধরেছেন, কিন্তু সমাধানের জন্য সহযোগিতার কোনও বার্তা দেননি।”