পুরকর্মীর কাছে গিয়ে ‘খোঁজ’ বিজেপি নেতার। —নিজস্ব চিত্র।
রবিবার ছুটির দিনে অশোকনগর-কল্যাণগড় পুরভবনে তৃণমূল কাউন্সিলর তথা সিআইসি সদস্য সমীর দত্তের উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা। বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের হাতে প্রহৃত হলেন এক পুরকর্মী। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গেলেন স্থানীয় বিধায়ক থেকে পুলিশ। বিজেপির অভিযোগ, ছুটির দিনে পুরসভা থেকে নথি সরানোর চেষ্টা হচ্ছিল। যদিও অভিযোগের প্রমাণ মেলেনি।
স্থানীয় সূত্রে খবর, উত্তেজনার শুরু রবিবার দুপুরে। অশোকনগর-কল্যাণগড় পুরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর সমীরের উপস্থিতির খবর পেয়ে সেখানে জড়ো হয়েছিলেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। তাঁদের অভিযোগ, ছুটির দিনে পুরভবনে ঢুকে গুরুত্বপূর্ণ নথি, ফাইল সরানোর চেষ্টা হচ্ছে। অভিযোগের প্রমাণ মেলেনি। তবে বিজেপি দাবি করে, পুরসভার সিসিটিভি ফুটেজ দেখলেই পরিষ্কার হয়ে যাবে সব। কিন্তু পুরপ্রধানের গ্রেফতারির পর থেকে তালাবন্ধ তাঁর ঘর। তাই সিসিটিভি ফুটেজও মেলেনি। অন্য দিকে, পুরভবনের অন্দরে দেখা যায়, অন্নপূর্ণা যোজনা ও আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের ডেটা এন্ট্রির কাজ চলছিল। পুরসভার বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকেরা জানান, কাজের চাপ থাকায় রবিবারও পুরসভা খোলা রাখা হয়েছিল। এক কর্মী জানান, কাউন্সিলর সমীর মাসিক জ্বালানি তেলের বরাদ্দ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে পুরসভায় কাজে গিয়েছিলেন। ঠিক সেই সময় শুরু হয় বিক্ষোভ।
বিজেপি অভিযোগ করে, বর্তমানে পুরপ্রধান ছাড়া কাউন্সিলরদের সরকারি ভাবে জ্বালানি তেলের কোনও বরাদ্দ নেই। তা হলে দীর্ঘদিন ধরে কী ভাবে সিআইসি সদস্যদের নামে প্রতি মাসে ৩০ লিটার করে তেলের বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে? এ-ও অভিযোগ করা হয়েছে, বিজেপি কর্মীরা পুরসভায় পৌঁছোতেই সমীর দ্রুত সেখান থেকে বেরিয়ে যান। তার পর পুরসভার দায়িত্বে থাকা স্যানিটারি ইনস্পেক্টরকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখানো হয়। ওই পুরকর্মীকে মারধরের অভিযোগও ওঠে। পুরআধিকারিকের দাবি, কাজের প্রয়োজনেই স্যানিটারি ইনস্পেক্টরকে ডাকা হয়েছিল।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে যায় অশোকনগর থানার পুলিশ। পরে অশোকনগরের বিজেপি বিধায়ক সময় হিরাও ঘটনাস্থলে যান। বিধায়কের নির্দেশে আপাতত অন্নপূর্ণা যোজনা ও আয়ুষ্মান ভারতের ডেটা এন্ট্রির কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে বলে খবর। তবে গন্ডগোল-বিক্ষোভ এবং তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রেক্ষিতে সমীর দত্তের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া গিয়েছে। বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্ব জানাচ্ছেন, পুরনির্বাচনকে সামনে রেখে পুরসভার গুরুত্বপূর্ণ নথি সুরক্ষিত রাখতে প্রয়োজনে রাত জেগে তাঁদের কর্মীরা পাহারা দেবেন।