বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ। —ফাইল চিত্র।
পথদুর্ঘটনায় গুরুতর জখম হয়েছিলেন। ট্রাক থেকে বেরিয়ে আসা লোহার বিমে এফোঁড়-ওফোঁড় হয়ে গিয়েছিল বুক। কঠিন অস্ত্রোপচারে সেই রোগীকে সুস্থ করে তুলল বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ। মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরলেন বীরভূমের ২৬ বছরের এক যুবক।
গত ২৮ জুন সন্ধ্যা প্রায় ৫টা। বীরভূমের মুরারই থানার ধানগড়ার বাসিন্দা ওই যুবক বন্ধুদের সঙ্গে নলহাটি যাচ্ছিলেন। রাস্তায় লোহার বিম-ভর্তি ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয় তাঁদের গাড়ির। একটি লোহার বিম ২৬ বছর বয়সি যুবকের বুক এফোঁড়-ওফোঁড় করে দেয়। জখম হন তাঁর বন্ধুরাও। স্থানীয়দের সহায়তায় গুরুতর জখম অবস্থায় ওই যুবককে উদ্ধার করে সিউড়ি জেলা হাসপাতালে নিয়ে যায় পুলিশ। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা হয় বটে। কিন্তু রোগীর শারীরিক অবস্থা দেখে তাঁকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে স্থানান্তরিত করার পরমর্শ দেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।
সঙ্কটজনক অবস্থায় বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করানো হয়েছিল জখম যুবককে। রোগীর অবস্থা এবং গুরুত্ব বুঝে চিকিৎসকেরা শরীরে বিদ্ধ লোহার বিম না সরিয়ে জরুরি অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন। চিকিৎসকদের মতে, অসতর্ক ভাবে বিমটি সরিয়ে ফেললে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে রোগীর মৃত্যু হতে পারত। অস্ত্রোপচারের সময় দেখা যায়, আঘাতে রোগীর বাম ডায়াফ্রাম ছিঁড়ে গিয়েছে, প্লীহার হাইলাম চূর্ণবিচূর্ণ। তা ছাড়া যকৃতে গভীর ক্ষত, পাকস্থলীতে দুটি পৃথক ছিদ্র হয়েছে। জটিল অস্ত্রোপচারে একে একে সমস্ত ক্ষতের সারান চিকিৎসকেরা। রোগীর জীবন বাঁচাতে শেষমেশ প্লীহা অপসারণ (স্প্লিনেকটমি) করানোর সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসকেরা।
অধ্যাপক অমিত রায়ের নেতৃত্বে চিকিৎসক বিকাশ আনন্দ, চিকিৎসক অভীক চট্টোপাধ্যায়, চিকিৎসক সাগর জানা, চিকিৎসক সুমন ঘোষ, চিকিৎসক অর্চিতা রায়, চিকিৎসক সুমন্ত দত্ত এবং চিকিৎসক অভীক বসু অস্ত্রোপচার করেন। অ্যানেস্থেসিয়া দলে ছিলেন চিকিৎসক রৌনক ভট্টাচার্য, স্বরূপ এবং সৌরাংশু বিশ্বাস। অধ্যাপক-চিকিৎসক রায় বলেন, ‘‘গুরুতর পেনিট্রেটিং ট্রমার ক্ষেত্রে শরীরে বিদ্ধ বস্তু না সরিয়ে দ্রুত ট্রমা সেন্টারে নিয়ে আসায় রোগীর জীবনরক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। সময়মতো সঠিক সিদ্ধান্ত, দক্ষ অস্ত্রোপচার এবং চিকিৎসকদের সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলেই এই যুবককে নতুন জীবন ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।’’ হাসপাতাল সূত্রে খবর, শীঘ্রই ছুটি পাবেন ওই যুবক।