শওকত মোল্লার পুত্রের ক্যাফে। —নিজস্ব চিত্র।
নির্বিচারে ম্যানগ্রোভ ধ্বংস করে নদীর চর দখল করে বিশাল ক্যাফেটেরিয়া বানিয়েছেন। শওকত মোল্লার পুত্র ইমরান মোল্লার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠেছিল ভোটের ফলপ্রকাশের পরপরই। এ বার মাতলার চরের সেই ক্যাফে ভাঙার জন্য নোটিস দিল প্রশাসন। সাত দিনের মধ্যে নিজ উদ্যোগে ক্যাফে না ভাঙলে তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়কের পুত্রের ক্যাফেতে বুলডোজ়ার চলবে বলে প্রশাসনের একটি সূত্রে খবর।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার মৌখালিতে মাতলা নদীর চর ভরাট করে তৈরি হয়েছিল ‘অরণ্যের কূলে’ নামক ক্যাফে। মালিকের নাম ইমরান। সেই সময় তাঁর বাবা জেলার প্রভাবশালী নেতা তথা ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক। স্থানীয়দের অভিযোগ, সেই প্রভাবের বলে বেআইনি কাজ করেছিলেন। মাতলার চরে বিশাল জমি দখল করে নির্মাণ গড়ে তুলেছিলেন বিধায়ক ও তাঁর পরিবার। বিধানসভা ভোটে শওকতের হারের পর তাঁর বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দায়ের হয়। তারই একটি এই বিতর্কিত ক্যাফে। এর মধ্যে ভাঙড়ের বিস্ফোরণ মামলায় এনআইয়ের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন শওকত। তার আগে তাঁর পুত্র ইমরানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে গিয়েছিলেন তদন্তকারীরা। তখনই ওই ক্যাফের বিষয়ে তথ্যতালাশ করতে প্রশাসনের তরফে নোটিস সাঁটানো হয় ‘অরণ্যের কূলে’র গেটে। এ বার সেই ক্যাফে ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে ক্যানিং মহকুমা প্রশাসন।
সম্প্রতি ক্যানিংয়ের এসডিও-র তরফে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, আগামী সাত দিনের মধ্যে ক্যাফেটেরিয়াটি নিজ উদ্যোগে ভেঙে ফেলতে হবে মালিকপক্ষকে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তা না করা হলে প্রশাসন নিজেই উচ্ছেদ অভিযান চালাবে এবং সেই খরচ বহন করতে হবে ক্যাফের মালিক অর্থাৎ শওকতের ছেলে ইমরানকেই।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে এর আগে ১৮ জুনের মধ্যে জমি সংক্রান্ত সমস্ত বৈধ নথি জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল ইমরানকে। জানা গিয়েছে, শুনানিতে উপস্থিত হয়েছিলেন ইরফানের আইনজীবী। কিন্তু জমির বৈধ নথি তাঁরা দেখাতে পারেননি। তার পরেই এই পদক্ষেপ করছে প্রশাসন।