Bakkhali Murder

বকখালিতে বেড়াতে নিয়ে গিয়ে বধূকে খুন! ২৩ দিন নিখোঁজ থাকার পর বালির নীচ থেকে দেহ উদ্ধার, ধৃত প্রেমিক

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, জয়নগরের বকুলতলা থানা এলাকার বাসিন্দা রাবিয়ার সঙ্গে এলাকারই বাসিন্দা জহিরুলের বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ছিল।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২০ জুন ২০২৬ ১৩:৪৩
অভিযুক্ত যুবককে নিয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ। নিজস্ব চিত্র।

অভিযুক্ত যুবককে নিয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ। নিজস্ব চিত্র।

টানা ২৩ দিন ধরে নিখোঁজ থাকার পর বকখালির হেনরি আইল্যান্ডের গভীর জঙ্গল থেকে উদ্ধার হল এক বধূর পচাগলা দেহ। মৃতার নাম রাবিয়া ফকির (৩৪)। তাঁকে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ। পুলিশ সূত্রে খবর, প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে বালির নীচে দেহ পুঁতে রাখা হয়েছিল। এই ঘটনায় অভিযুক্ত প্রেমিক জহিরুল সর্দারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

Advertisement

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, জয়নগরের বকুলতলা থানা এলাকার বাসিন্দা বিবাহিতা রাবিয়ার সঙ্গে এলাকারই বাসিন্দা জহিরুলের বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ছিল। কিন্তু কিছু দিন ধরে তাঁদের সম্পর্কে টানাপড়েন ও অশান্তি শুরু হয় বলে দাবি। এর পর গত ২৬ মে হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যান রাবিয়া। পরিবারের পক্ষ থেকে বকুলতলা থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়। তদন্তে নেমে গত ১৮ জুন জহিরুলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পুলিশের দাবি, জেরার মুখে অভিযুক্ত স্বীকার করেন, ২৬ মে রাবিয়াকে বকখালিতে নিয়ে গিয়ে হেনরি আইল্যান্ডের গভীর জঙ্গলে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন এবং বালি চাপা দিয়ে দেহ লুকিয়ে রেখেছেন। শুক্রবার ধৃতকে সঙ্গে নিয়ে বকুলতলা ও ফ্রেজারগঞ্জ কোস্টাল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে। মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য কাকদ্বীপ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

মৃতার ভাই আশরফ ফকিরের অভিযোগ, তাঁর দিদিকে প্রেমের জালে ফাঁসিয়েছিলেন জহিরুল। তার পর তাঁকে খুন করে দেহ পুঁতে দেন। উপযুক্ত শাস্তির দাবি করেছেন তিনি।

সুন্দরবন পুলিশ জেলার সুপার বিশ্বচাঁদ ঠাকুর বলেন, ‘‘ভদ্রমহিলার বাড়ি বারুইপুর পুলিশ জেলার অন্তর্গত। সেখানে প্রথমে নিখোঁজ ডায়েরি হয়। পরে ওই পুলিশ জেলার তদন্তকারী দল জেরা করে এই ঘটনার কথা জানতে পারে। আমাদের সাহায্য চাওয়া হয়। তার পরে দেহ উদ্ধার হয়েছে।’’

এ ব্যাপারে বারুইপুর পুলিশ জেলার এসপি অরবিন্দ কুমার আনন্দ বলেন, ‘‘নিহত বধূ এবং অভিযুক্ত, দু’জনেই বিবাহিত। দু’জনের মধ্যএ বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ছিল। অভিযুক্তের দাবি, মহিলা এই সম্পর্ককে শিখন্ডী খাড়া করে মাঝে মাঝে টাকা চাইতেন এবং ব্ল্যাকমেল করতেন। সম্পর্কের কথা সকলকে জানিয়ে দেবেন বলে ভয় দেখাতেন। অভিযুক্তের দাবি, সেই কারণেই তিনি খুন করেছেন। তাঁর আরও দাবি, শ্বাসরোধ করে খুন করেছেন বধূকে। যদিও ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এখনও আসেনি। ওই রিপোর্টে এলেই সব কিছু স্পষ্ট হবে ঠিক কী হয়েছিল।’’

Advertisement
আরও পড়ুন