Kalyan Banerjee Snehasish Chakraborty

হারের পর ‘বিচার’ পেতে কোর্টে যেতে চান তৃণমূল নেতৃত্ব! তবে অনেক পরাজিত প্রার্থীই আইনি লড়াই থেকে ‘পালিয়ে যাচ্ছেন’

তৃণমূল সূত্রে খবর, এখনও পর্যন্ত সব দিক বিবেচনা করে দেখা যাচ্ছে, ৫০টির বেশি আসন নিয়ে নির্বাচনী পিটিশন দাখিল করার মতো রসদ জোগাড় করা গিয়েছে। কিন্তু বেশ কয়েকটি কেন্দ্রের ক্ষেত্রে আসল জায়গাতেই ফাঁক থেকে যাচ্ছে। রাজি হচ্ছেন না প্রার্থীরাই।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২৫ মে ২০২৬ ২১:০১
A few TMC candidates who lost the election are unwilling to file petition in court

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। —ফাইল চিত্র।

বিধানসভা ভোটে বিজেপির জয়কে আনুষ্ঠানিক ভাবে ‘স্বীকার’ করেননি তৃণমূলের সর্বময় নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গণনাকেন্দ্রে ‘লুটের’ কথা তিনি প্রথম বলেছিলেন ফলঘোষণার পরের দিন। অভিযোগ করেছিলেন, অন্তত ১৫০টি আসনে তৃণমূলকে ‘জোর’ করে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে। রবিবার ফেসবুক লাইভেও মমতা ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, তাঁর দল মামলার পথে যাবে। সেই মামলার প্রস্তুতি শুরু করেছেন তৃণমূলের আইনজীবী সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু তৃণমূলের বিড়ম্বনা বাড়িয়ে দিচ্ছেন অনেক পরাজিত প্রার্থী। নির্বাচনী পিটিশন দায়ের করার প্রক্রিয়ার মধ্যে তাঁরা জড়াতেই চাইছেন না। অর্থাৎ, তৃণমূল ঘুরে দাঁড়াতে আইনের রাস্তায় হাঁটতে চাইলেও, সেই লড়াই থেকে কার্যত পালিয়ে যাচ্ছেন অনেকে।

Advertisement

তৃণমূল সূত্রে খবর, এখনও পর্যন্ত সব দিক বিবেচনা করে দেখা যাচ্ছে, ৫০টির বেশি আসন নিয়ে নির্বাচনী পিটিশন দাখিল করার মতো রসদ জোগাড় করা গিয়েছে। কিন্তু বেশ কয়েকটি কেন্দ্রের ক্ষেত্রে আসল জায়গাতেই ফাঁক থেকে যাচ্ছে। যেমন কল্যাণ সরাসরি অভিযোগ করেছেন, প্রাক্তন পরিবহণমন্ত্রী তথা জাঙ্গিপাড়ার পরাজিত তৃণমূল প্রার্থী স্নেহাশিস চক্রবর্তীকে নির্বাচনী পিটিশন দায়ের করার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু তিনি রাজি হননি।

কল্যাণ শ্রীরামপুরের সাংসদ। তাঁর লোকসভা কেন্দ্রের মধ্যেই পড়ে জাঙ্গিপাড়া বিধানসভা। স্নেহাশিসের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে কল্যাণ বলেন, ‘‘আমার জুনিয়র স্নেহাশিসকে ফোন করেছিলেন। কিন্তু তিনি রাজনীতি থেকে সরে যাওয়ার কথা বলেছেন।’’ তাঁর আরও বক্তব্য, ‘‘২০১১ সালের আগে তো জাঙ্গিপাড়ায় কেউ ঢুকতে পারত না। আমি ২০০৯ সালে জেতার পর ২০১১ সালে জিতল, ১৫ বছর ধরে ভোগ করল আর এখন পালিয়ে যাচ্ছে।’’ লোকসভায় তৃণমূলের সংসদীয় দলের মুখ্যসচেতক কল্যাণের আরও বক্তব্য, ‘‘যারা বেশি ভোগ করেছে, তারাই এখন সরে যাচ্ছে।’’

নির্বাচনী পিটিশন নিয়ে স্নেহাশিসের অবস্থান জানতে তাঁকে ফোন করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি ফোন ধরেননি। মোবাইলে লিখিত বার্তা পাঠানোর পরে জবাবে তিনি শুধু লেখেন, ‘না’। অর্থাৎ, তিনি এই বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া দেবেন না।

কল্যাণের পুত্র শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়ও পেশায় আইনজীবী। তিনি এ বার উত্তরপাড়া থেকে তৃণমূলের টিকিটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। পরাজিত হলেও রাজনীতিতে টিকে থাকার বার্তা দিচ্ছেন। সূত্রের খবর, নির্বাচনী পিটিশনের বিষয়ে কল্যাণকে সাহায্য করছেন তিনিও। ৪ মে ফলপ্রকাশের পর থেকে নিয়ম করে মমতার বাড়িতে যাওয়া, জেলা থেকে আসা রিপোর্ট একত্রিত করে মামলার প্রস্তুতি গ্রহণ করার ক্ষেত্রেও ভূমিকা নিচ্ছেন শীর্ষণ্য। তৃণমূল সূত্রে খবর, দল মামলার ক্ষেত্রে সব রকম সাহায্য করবে। কিন্তু মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে মৌলিক দায়িত্ব প্রার্থীদেরই। তাঁরা সরে গেলে মূল উদ্দেশ্যই সাধিত হবে না।

গণনা নিয়ে তৃণমূলের একাধিক অভিযোগ রয়েছে। মমতার পাশাপাশি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও বলেছেন, বহু জায়গায় ইভিএমের সিলে থাকা ১৭-সি ফর্মের নম্বর মেলেনি। ভোটযন্ত্রের চার্জ বেশি থাকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে তৃণমূলের তরফে। সে সব নিয়ে যখন মামলার প্রস্তুতি শুরু করেছে তৃণমূল, তখন পিঠটান দিচ্ছেন দিচ্ছেন অনেক প্রার্থীই।

Advertisement
আরও পড়ুন