—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
যুক্তিগ্রাহ্য অসঙ্গতির (লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি) শুনানিতে হাজিরা দিতেই হল বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন যুবককে। সোমবার বাবা-মায়ের সঙ্গে শুনানিতে যান তিনি। সেখানে তাঁর ছবি তোলা হয় এবং জরুরি নথিপত্র জমা নেওয়া হয়। তবে, আরাত্রিক দে নামে ২৫ বছরের ওই যুবককে দীর্ঘক্ষণ লাইনে অপেক্ষা করানো হয়নি বলেই জানিয়েছে তাঁর পরিবার। যদিও বাড়িতে গিয়ে শুনানি করার বদলে কেন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন এক জনকে ডেকে পাঠানো হল, তা নিয়ে এ দিন আর শুনানি কেন্দ্রের কেউই কিছু বলেননি বলে পরিবারের দাবি। ওই যুবকের মা ব্রততী চৌধুরী বলেন, ‘‘কেন ওর ক্ষেত্রে কেউ বাড়িতে এলেন না, তা নিয়ে এ দিন শুনানি কেন্দ্রের আর কেউই কোনও মন্তব্য করেননি। প্রচণ্ড ভিড়ের মধ্যে এ নিয়ে আর কথা বলার সুযোগ ছিল না। তবে, আমাদের লাইনে দাঁড়াতে হয়নি।’’
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআরের শুনানির নামে বয়স্ক ও অসুস্থদের বার বার ডেকে হয়রান করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দিনকয়েক আগে এক জন বার বার এমনই তলব পেয়ে আত্মীয়ের কবরের মাটি নিয়ে শুনানি কেন্দ্রে হাজির হয়েছিলেন। ছয় বা তার বেশি সন্তান থাকার কারণেও অনেককে তলব করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। এরই মধ্যে শুনানির তলব পান অটিজ়ম থাকা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন যুবক আরাত্রিক। বিএলও-র কাছে আরাত্রিকের পরিবার তাঁর জন্মের শংসাপত্র, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় যেখানে আরাত্রিকের বাবার নাম ছিল, সেই সংক্রান্ত নথি ও ডিজ়এবিলিটি সার্টিফিকেট জমা করেন। কিন্তু তার পরেও তাঁদের শুনানিতে হাজির হতে বলা হয়।
সেই মতো চুঁচুড়ার বাসিন্দা আরাত্রিক এবং তাঁর মা-বাবা এ দিন বেলা ১২টা নাগাদ সেখানকার পুরনো কালেক্টরেট বিল্ডিংয়ে যান। সেখানে আরাত্রিকের ছবি তোলা হয়। তাঁর জন্মের শংসাপত্র, আধার কার্ড, বাবার পাসপোর্ট এবং ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় যেখানে তাঁর বাবার নাম ছিল, সেই সংক্রান্ত প্রামাণ্য নথি জমা দেওয়া হয়। আরাত্রিকের মা বলেন, ‘‘এমন সব ক্ষেত্রে ডিজ়এবিলিটি সার্টিফিকেট কেন নেওয়া হচ্ছে না, জানি না।’’ এর পরে তাঁর মন্তব্য, ‘‘দ্রুত সব মিটে গেলেও চিন্তা হচ্ছে, আবার ডাক পড়বে না তো? এ বার নথি দেওয়াতেই হয়ে যাবে কিনা, সেটাই বা কে জানে!’’ শুনানির কাজ সামলানো অফিসারেরা আরাত্রিকদের জানিয়েছেন, বিষয়টি তাঁদের কাছেও পরিষ্কার নয়। আরও কিছুর প্রয়োজন পড়বে কিনা, সেটা পরে জানানো হবে।