TMC MLA

বিদ্রোহীদের বয়ানে ‘সভানেত্রী’ মমতাই! বিধানসভায় ঋতব্রতকে ‘দলনেতা’ চেয়ে স্পিকারকে চিঠি দিলেন তৃণমূলের ৫৮ বিধায়ক

সইকাণ্ড প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই তৃণমূলে ফাটল চওড়া হতে শুরু করে। বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসাবে বর্ষীয়ান তৃণমূল বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাবের চিঠিকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সূত্রপাত।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০৩ জুন ২০২৬ ১৩:০৩
A section of TMC MLAs submits a letter to Speaker Rathin Banerjee proposing Ritabrata Banerjee\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\\'s name as the Leader of the Opposition in West Bengal Assembly

স্পিকার রথীন্দ্র বসুকে চিঠি দিলেন বিদ্রোহী তৃণমূল বিধায়কেরা। ছবি: সংগৃহীত।

ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসাবে চেয়ে বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসুকে চিঠি দিলেন তৃণমূলের বিদ্রোহীরা। ঋতব্রত ছাড়া ওই চিঠিতে ৫৮ জন বিধায়কের সই রয়েছে। সেখানে শুধু বিরোধী দলনেতা নন, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় কারা তৃণমূলের উপদলনেতা হবেন, তা-ও উল্লেখ করা হয়েছে। সন্দীপন সাহা, জাভেদ খান, সাবিনা ইয়াসমিন এবং শিউলি সাহার নাম উপদলনেতা হিসাবে প্রস্তাব করা হয়েছে। মুখ্যসচেতক হিসাবে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে আখরুজ্জামানের নাম। সেই চিঠি গ্রহণ করেছেন স্পিকার। উল্লেখ্য, তৃণমূলের বিদ্রোহী বিধায়কদের জমা দেওয়া সেই চিঠিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই সভানেত্রী হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

Advertisement

সইকাণ্ড প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই তৃণমূলে ফাটল চওড়া হতে শুরু করে। বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসাবে বর্ষীয়ান তৃণমূল বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাবের চিঠিকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সূত্রপাত। অভিযোগ ওঠে, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পিকার রথীন্দ্র বসুকে যে প্রস্তাব পাঠান তাতে অনেক তৃণমূল বিধায়কের সই জাল করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, ঋতব্রত এবং সন্দীপন সাহাই সই জাল করার বিষয়টি বিধানসভাকে জানান। তার পরেই হেয়ার স্ট্রিট থানায় এফআইআর দায়ের হয়। তদন্ত শুরু করে পুলিশ। সেই তদন্তে পুলিশকে সাহায্য করছে সিআইডি। ঘটনার তদন্তে নেমে ইতিমধ্যেই সিআইডি ১৩ জন বিধায়কের সঙ্গে কথা বলেছে।

সইকাণ্ড নিয়ে চাপানউতরের মধ্যে জল্পনা জোরালো হতে থাকে তৃণমূল কি ভেঙে চুরমার হয়ে যাচ্ছে? শুধু তা-ই নয়, বিরোধী দলনেতা কাকে করা হবে, তা নিয়ে টানাপড়েন শুরু হয়ে যায় তৃণমূলের অন্দরে। ঋতব্রত, সন্দীপনকে আগেই বহিষ্কার করে তৃণমূল। তার পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে ভাঙন জোরাল হতে থাকে। একে একে অনেক বিধায়কই তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু করেন। বাড়তে থাকে তৃণমূলে বিদ্রোহী বিধায়কদের সংখ্যা।

কোন দিকে পাল্লা ভারী, তা নিয়ে টানাপড়েন শুরু হয় তৃণমূলের অন্দরে। অনেকে আবার দাবি করেন, বিদ্রোহীরা ‘নতুন’ তৃণমূল। প্রশ্ন উঠতে শুরু করে আদৌ মমতার হাতে থাকবে তৃণমূলের প্রতীক, না কি বিদ্রোহীদের কাছে যাবে? সেই জল্পনা-কল্পনার মধ্যেই মঙ্গলবার আবার শোভনদেবকে অবিলম্বে বিরোধী দলনেতার মর্যাদা দেওয়ার দাবি জানিয়ে বিধানসভার স্পিকারকে চিঠি পাঠান অভিষেক। স্পিকার কলকাতায় নেই বলে সেই চিঠি অবশ্য বিধানসভায় গ্রহণ করা হয়নি। বুধবার বিধানসভায় আসেন স্পিকার। আর তার পরেই স্পিকারের ঘরে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করেন ঋতব্রতের নেতৃত্বে কয়েক জন তৃণমূল বিধায়ক। ৫৮ জন বিধায়কের স্বাক্ষর সংবলিত চিঠি জমা দেন তাঁরা। সেই চিঠি স্পিকার গ্রহণ করেন। তবে মঙ্গলবার কুণাল ঘোষ এবং অসীমা পাত্রকে দিয়ে পাঠানো অভিষেকের চিঠি গ্রহণ করেননি স্পিকার।

বিদ্রোহী বিধায়কদের দেওয়া চিঠি আনুষ্ঠানিক ভাবে গ্রহণ করলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাননি স্পিকার। সূত্রের খবর, ওই বিধায়কদের বিকেল ৪টে পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলেছেন তিনি। এই সময়ের মধ্যে ওই চিঠিতে করা বিধায়কদের স্বাক্ষর খতিয়ে দেখা হবে।

তৃণমূলের বিদ্রোহী বিধায়কদের চিঠিতে মমতাকে সভানেত্রী হিসাবে উল্লেখ করা নিয়ে নতুন জল্পনা শুরু হয়। যদিও বাগনানের বিধায়ক অরুণাভ সেন বলেন, “আমি আজও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নেত্রী হিসাবে মানি। কিন্তু কোনও দিনও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নেতা মানিনি, মানব না, মানতে পারব না। ৬ তারিখের বৈঠকে অভিষেককে যখন অভিবাদন জানাতে দাঁড়াতে বলা হয়েছিল, সেই সময় একমাত্র আমিই উঠে দাঁড়াইনি।’’ তার পরেই জানান, তাঁরা বিরোধী দলনেতা নির্বাচিত করে স্পিকারকে চিঠি দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা, উপদলনেতা এবং মুখ্যসচেতক কে হবেন, এ নিয়ে পরিষদীয় নিয়মের জটিলতায় পড়তে হয়েছে পূর্বতন শাসকদলকে। ৪ মে ভোটের ফলঘোষণার পরে ৬ মে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর কালীঘাটের বাড়িতে জয়ী বিধায়কদের বৈঠকে ডেকেছিলেন। সে দিনই দলের প্রস্তাবে বিধায়কেরা হাত তুলে সায় দেন, পরিষদীয় দলের নেতা, উপ দলনেতা এবং মুখ্যসচেতক কে হবেন, তা ঠিক করুন দলনেত্রী মমতা। তার পর শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় ও অসীমা পাত্রকে উপদলনেতা এবং ফিরহাদ হাকিমকে মুখ্যসচেতক করার কথা জানানো হয় তৃণমূলের তরফে। ৬ মে বৈঠক থেকে বেরিয়ে একাধিক বিধায়ক সংবাদমাধ্যমে বলেছিলেন, পরিষদীয় দলের নেতা বা অন্যান্য পদাধিকারী কে হবেন, তা ঠিক করার ভার দেওয়া হয়েছে মমতাকে। বিধানসভা অভিষেকের চিঠি প্রত্যাখ্যান করলে ১৯ মে কালীঘাটে ফের যে বৈঠক হয়, সেখানে পরিষদীয় দলের সিদ্ধান্তে স্বাক্ষর করানো হয় বিধায়কদের। একাধিক বিধায়ক জানিয়েছিলেন, সেই সই তাঁদের করানো হয়েছিল ৬ মে তারিখের কার্যবিবরণীতে। এখানেই মূল জটিলতা তৈরি হয় বলে সূত্রের খবর।

Advertisement
আরও পড়ুন