নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের।
যুক্তিগ্রাহ্য অসঙ্গতির (লজিক্যাল ডিস্ক্রিপেন্সি) জন্য এসআইআরের শুনানির নোটিস গিয়েছিল তাঁর বাড়িতে। হয়েছে শুনানিও। শনিবার চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় অবশ্য নাম রয়েছে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের। প্রবাসী ভারতীয় হিসাবে। শুনানির নামে ভারতরত্ন অমর্ত্যকে অপমান করা হয়েছে জানিয়ে নিন্দায় এ দিনও সরব হয়েছেন শান্তিনিকেতনের প্রতীচী বাড়ির সদস্যেরা।
মায়ের সঙ্গে বয়সের ফারাকের যুক্তি দেখিয়ে অমর্ত্য সেনকে নোটিস দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। তাঁকে এসআইআরের নোটিস দেওয়া নিয়ে বিতর্ক হয়। সমালোচনার মুখে পড়তে হয় নির্বাচন কমিশনকে। পরে, শান্তিনিকেতনের ‘প্রতীচী’ বাড়িতে শুনানিতে যান কমিশনের আধিকারিকেরা। সেখানে থেকে ২০০২ সালের ভোটার তালিকা, অমর্ত্য সেনের পাসপোর্ট, আধার কার্ড, মায়ের মৃত্যুর শংসাপত্র আধিকারিকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। শুনানির সময় 'ভারতরত্ন’ প্রাপ্তির নথি লাগবে কি না, তা কমিশনের আধিকারিকদের কাছে জানতে চাওয়া হয়। সদুত্তর দিতে পারেননি তাঁরা।
চূড়ান্ত তালিকায় অমর্ত্য সেনের নাম। নিজস্ব চিত্র
চূড়ান্ত তালিকায় নোবেলজয়ীর নাম থাকবে কি না, তা নিয়ে কিছুটা সংশয়ে ছিলেন আত্মীয়-পরিজন। এ দিন চূড়ান্ত তালিকায় তাঁর নাম থাকায় সংশয় কেটেছে। অমর্ত্য সেনের অনুপস্থিতিতে যিনি শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন, সেই মামাতো ভাই শান্তভানু সেন বলেন, “শুনানিতে আমরা কমিশনকে সব রকম ভাবে সহযোগিতা করেছিলাম। কিন্তু যা ভোগান্তি হয়েছে, তা বলার নয়। বিষয়টি নিয়ে আমরা চিন্তার মধ্যে ছিলাম। আজ চূড়ান্ত তালিকায় ওঁর নাম থাকায় আমরা খুশি।’’ তাঁর সংযোজন, ‘‘ভারতরত্ন প্রাপককে এ ভাবে শুনানির নোটিস দেওয়ার আগে নির্বাচন কমিশনের ভাবা উচিত ছিল।”
প্রতীচী বাড়ি দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা গীতিকন্ঠ মজুমদার বলেন, “আমরা অধ্যাপক অমর্ত্য সেনকে নোটিস পাঠানোকে ভাল চোখে নিইনি প্রথম থেকেই। শুনানির জন্য সমস্ত নথিপত্র আমরা কমিশনের হাতে তুলে দিয়েছিলাম। নাম থাকায় আমরা খুশি। কিন্তু অন্যায় ভাবে নোটিস দিয়ে তাঁকে যে ভাবে অপমানিত করা হয়েছে, তার প্রতিবাদ জানাচ্ছি।” প্রবীণ আশ্রমিক সুপ্রিয় ঠাকুর বলেন,“এটা ওদের (কমিশন) বোঝা উচিত যে, অমর্ত্য সেন অন্য মাপের মানুষ। ওদের (কমিশনের) এটুকু মাথায় রাখা উচিত ছিল যে, নোবেলজয়ীকে তাঁর প্রাপ্য সম্মান দেওয়া দরকার।”
ইআরও তথা মহকুমাশাসক (বোলপুর) অনিমেষকান্তি মান্না বলেন, “কমিশনের নিয়ম মেনেই শুনানি করা হয়েছিল। অমর্ত্য সেনের পরিবারের তরফে দেওয়া সমস্ত নথি সংগ্রহ করা হয়েছিল। চূড়ান্ত তালিকায় তাঁর নাম প্রকাশিত হয়েছে।”