—প্রতীকী চিত্র।
কোথাও পুরসভার কর্মীদের বাড়ির সামনে বিক্ষোভ, কোথাও বাড়িতে ঢুকে প্রধানকে মারধর— অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না মেলাকে কেন্দ্র করে এমন নানা অভিযোগ উঠল রবিবার।
পূর্ব বর্ধমানের কালনা ২ ব্লকের অকালপৌষ পঞ্চায়েতের প্রধান তৃণমূলের শ্যামল গড়াই অভিযোগ করেন, অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না পাওয়া-সহ নানা বিষয় নিয়ে সম্প্রতি এলাকায় হুমকির মুখে পড়ছিলেন। সে কথা স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বকে জানান। কেন দলের নেতাদের তা জানিয়েছেন, সেই প্রশ্ন তুলে রবিবার সকালে বিজেপির কয়েক জন কর্মী তাঁর বাড়িতে ঢুকে ঘুম থেকে তুলে তাঁকে মারধর করে বলে প্রধানের অভিযোগ। ডিমও ছোড়া হয়, দাবি তাঁর। স্থানীয় বিজেপি নেতা পার্থপ্রতিম তা বলেন, “কেন এমন ঘটনা, খোঁজ নিয়ে দেখছি।”
নদিয়ার শান্তিপুরে পুরসভার দু’জন কর্মীর বাড়ির সামনে বিক্ষোভ দেখান অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না পাওয়া কয়েক জন মহিলা। শহরের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের কয়েক জন বিক্ষোভকারীর দাবি, ‘অযোগ্য’ বলে তাঁদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু তার কারণ জানানো হচ্ছে না। একই অভিযোগে শহরের ২১ নম্বর ওয়ার্ডেও এক পুরকর্মীর বাড়িতে বিক্ষোভ হয়।
পুরুলিয়ার বান্দোয়ানের বাসিন্দা আদরি মাহাতোর অভিযোগ, “জুনে টাকা পেয়েছি। জুলাইয়ে তা না পেয়ে পোর্টালে খোঁজ নিতে গিয়ে দেখি, আমার আবেদন বাতিল হয়েছে! এক বার টাকা দেওয়ার পরেও আবেদন বাতিল হল কী করে?” বাঁকুড়ার তালড্যাংরার তনুশ্রী পাত্রের দাবি, “অনেক আগে আবেদনপত্র জমা দিলেও, টাকা পেলাম না।”
ঝাড়গ্রামের গোপীবল্লভপুরের বিধায়ক অমিয় কিস্কুর কাছে গিয়ে এ দিন ক্ষোভ প্রকাশ করেন কয়েক জন মহিলা। অমিয় বলেন, “প্রকৃত উপভোক্তারা অন্নপূর্ণা যোজনা পাবেন। ধৈর্য ধরতে বলেছি।” গড়বেতার বিজেপি বিধায়ক প্রদীপ লোধা এক ভিডিয়ো-বার্তায় দাবি করেছেন, “এক শ্রেণির অফিসার কোথাও কোথাও হয়তো চক্রান্তের বশে এমন কাজ করেছেন, যাতে আমাদের সরকারের বদনাম হয়।” গড়বেতা ১ ব্লক প্রশাসনের এক আধিকারিক শুধু বলেন, “যে আবেদনগুলি সাময়িক ভাবে বাতিল করা হয়েছিল, সেগুলির বাড়ি বাড়ি গিয়ে তদন্তের নির্দেশিকা পেয়েছি।”