—প্রতীকী চিত্র।
এক নাবালিকাকে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠল পূর্ব বর্ধমানে। বুধবার রাতে বছর ষোলোর মেয়েটিকে বাড়ির কাছে নদীর পাড়ে একটি বন্ধ ইটভাটায় নিয়ে গিয়ে মাদক জাতীয় কিছু খাইয়ে গণধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ। পুলিশ তদন্তে নেমে ঘটনাস্থলের কাছ থেকেই সাত জনকে গ্রেফতার করে। ধৃতদের মধ্যে এক জন নাবালক। বাকিদের বয়স ১৯-২০ বছর। ভোটের মধ্যে এমন ঘটনায় শোরগোল পড়েছে জেলায়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের খবর, বুধবার রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ মেয়েটিকে পূর্বপরিচিত এক তরুণ ইটভাটায় ডেকে নিয়ে যায়। অভিযোগ, কথাবার্তার মাঝেই তাকে জোর করে মাদক খাইয়ে দেওয়া হয়। তার পরে গণধর্ষণ করা হয়। ধৃতদের মধ্যে এক জন মোবাইলে ঘটনার ভিডিয়ো, ছবি তুলে রাখে বলেও অভিযোগ। নাবালিকা অসুস্থ হয়ে পড়ে। কোনও রকমে বাড়ি ফিরে পরিবারকে ঘটনার কথা জানায়। রাতেই থানায় অভিযোগ করে পরিবার। পুলিশ ঘটনাস্থল ও অভিযুক্তদের বাড়িতে তল্লাশি চালায়। রাতেই ধরা হয় সবাইকে।
কংগ্রেস নেতা রণজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের অভিযোগ, “এ রাজ্যে অপরাধীরা সাজা পায় না বলেই আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে। তৃণমূলের আমলে অল্পবয়সিদের মধ্যে অপরাধ প্রবণতা বাড়ছে বলেই এমন ঘটনা ঘটছে।” বিজেপি নেতা অভিজিৎ ভট্টাচার্যেরও দাবি, “ভঙ্গুর প্রশাসন এবং স্কুলে মূল্যবোধ শেখানোর অভাবেই কম বয়সে অনেকে বিপথে যাচ্ছে।”
জেলা তৃণমূল সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়ের যদিও দাবি, “যে কোনও ঘটনা নিয়েই বিরোধীরা নোংরা রাজনীতি করতে নেমে পড়ে। ঘটনার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেফতার করেছে। বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলিতে ধর্ষকদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এটাই পার্থক্য।”
বৃহস্পতিবার নির্যাতিতার ডাক্তারি পরীক্ষা করানো হয়। ধৃতদের আদালতে তোলা হলে, নাবালককে বর্ধমানের একটি হোমে পাঠানো হয়। বাকিদের দু’দিন পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। আদালত চত্বরে দাঁড়িয়ে ধৃত নাবালকের মা দাবি করেন, “আমার ছেলে কিছু জানত না। বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে গিয়েছিল। ওরা ফাঁসিয়ে দিল।”