— প্রতীকী চিত্র।
শহরতলির প্রায় সব লোকাল ট্রেন প্রান্তিক স্টেশন থেকে ছাড়ছে নির্ধারিত সময়েই। তবু সময়ে গন্তব্যে পৌঁছতে হিমশিম খাচ্ছে তারা।
পূর্ব রেলের শিয়ালদহ ডিভিশনে উত্তর এবং দক্ষিণ শাখায় বিভিন্ন গন্তব্যে যেতে ট্রেন ছাড়ছে ঘড়ির কাঁটা মিলিয়ে। ফেরার পথে বনগাঁ, নৈহাটি, কল্যাণী, ব্যারাকপুর, হাসনাবাদ, ডায়মন্ড হারবার, ক্যানিং বা বারুইপুরের মতো বিভিন্ন স্টেশন থেকে যে সব ট্রেন শিয়ালদহ অভিমুখে যাবে, তারাও ছাড়ছে সময় মতোই। কিন্তু গোল বাঁধছে তাদের গন্তব্যে পৌঁছনো নিয়ে। দু’দিকেই ব্যস্ত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছতে ক্ষেত্র বিশেষে ৫ থেকে ১৫ মিনিট পর্যন্ত দেরি হচ্ছে ট্রেনগুলির। ভোরে বা রাতের ট্রেন সময়ে পৌঁছলেও অফিসের ব্যস্ত সময়ে দেরির এই ‘অসুখ’ সারছে না। সকালে রানাঘাট, বনগাঁ, কল্যাণী, নৈহাটি, বারাসত, দত্তপুকুর বা হাসনাবাদ থেকে আসা ট্রেন শিয়ালদহে ঢুকতে প্রায়ই গড়ে কয়েক মিনিট করে দেরি করছে। কিছু ক্ষেত্রে শিয়ালদহ ঢোকার মুখে কিছুটা সময় অপেক্ষাও করতে হচ্ছে। সেই বিলম্বই বিরক্তি বাড়াচ্ছে যাত্রীদের।
সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটের বারাসত-শিয়ালদহ লোকালের গন্তব্যে পৌঁছনোর কথা সকাল ১০টা ৩২ মিনিটে। কিন্তু প্রতিদিনই সেটি দেরি করে ঢুকছে ১০টা ৪৫ বা ৫০ মিনিটে। কম-বেশি এমনই বিলম্ব হচ্ছে ব্যারাকপুর, নৈহাটি, ডানকুনি, সোনারপুর, ডায়মন্ড হারবার-সহ বিভিন্ন লোকাল ট্রেনে। ফলে প্রায়ই শিয়ালদহ থেকে সংযোগকারী ট্রেন ধরতে সমস্যায় পড়ছেন যাত্রীরা। নৈহাটির অতনু কর্মকার বলেন, ‘‘ট্রেন সময়ে ছাড়লেও শিয়ালদহ বা ব্যারাকপুর পৌঁছতে কিছুটা দেরি হচ্ছে। ফলে শিয়ালদহ মেট্রোও ফস্কে যাচ্ছে।’’ একই অভিযোগ বাঘা যতীনের নিবেদিতা সাহার। তাঁকে কাজের প্রয়োজনে বারাসতের একটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে হয়। দক্ষিণ শাখার ট্রেন দেরি করলে উত্তরের ট্রেন হাতছাড়া হওয়ার মতো পরিস্থিতি হয় তাঁরও।
কেন এই অবস্থা? রেল আধিকারিকদের দাবি, একাধিক লেভেল ক্রসিং গেট বন্ধ করার ক্ষেত্রে বিলম্বের খেসারত দিতে হচ্ছে। একটি ট্রেনের আপ ও ডাউনে যাত্রা শুরু করার সময়ের মধ্যে অতিরিক্ত সময় ধরা থাকে। ফলে ট্রেন সময়ে ছাড়লেও লেভেল ক্রসিংয়ের বিলম্বের ফলে শিয়ালদহ-সহ যে কোনও প্রান্তিক স্টেশনে ট্রেন ঢুকতে দেরি হচ্ছে। শিয়ালদহ ডিভিশনের সিনিয়র ডিভিশনাল অপারেশন্স ম্যানেজার পঙ্কজ যাদব বলেন, ‘‘শিয়ালদহ থেকে নৈহাটি পর্যন্ত ৩৭কিলোমিটার পথে ২৭টি লেভেল ক্রসিং রয়েছে। চার লাইনের সেকশনে গাড়ির ভিড় সামলাতে ভয়ানক অবস্থা হচ্ছে।’’
রেল সূত্রের খবর, সোদপুর, খড়দহ, টিটাগড়, দমদম ক্যান্টনমেন্ট, বেলঘরিয়া, ব্যারাকপুর, রানাঘাট, ঢাকুরিয়া, বারুইপুর, বাঘা যতীন— সর্বত্র একই সমস্যা। ওই সব গেটে দিনে ট্রেন ও গাড়ির সংখ্যা পরিমাপের একক ট্রেন ভেহিক্ল ইউনিট কয়েক লক্ষের বেশি। অভিযোগ, বহু জায়গায় উড়ালপুলের প্রস্তাব থাকলেও জমি-জটের কারণে তা কার্যকর করা যায়নি। রেলের তরফে এই সমস্যা নিয়ে রাজ্য সরকারকে জানানো হয়েছে। শিয়ালদহ ডিভিশনের রেলওয়ে ম্যানেজার রাজীব সাক্সেনা ট্রেনের ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও সময়ানুবর্তিতা নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। কিন্তু তাতে সমস্যা মিটছে না। পঙ্কজ বলেন, ‘‘লেভেল ক্রসিং গেটের সময় বাঁচাতে পারলে আরও ১৫-২০টি ট্রেন অতিরিক্ত চালানোর সময় বার করা যেত। তাতে ট্রেনে ভিড় কমত।’’