(বাঁ দিকে) মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী সৌরভ দাস। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (ডান দিকে)। —নিজস্ব ছবি।
তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসের সৌজন্যে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিতে পারল পূর্ব বর্ধমানের সৌরভ দাস। মাধ্যমিকের ফর্ম পূরণ করতে না-পেরে বিষপান করেছিল পরিযায়ী ওই শ্রমিক-ছাত্র। সেই খবর অভিষেকের ক্যামাক স্ট্রিটের দফতরে যেতে তারাই উদ্যোগ নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে। তার পর নির্বিঘ্নে প্রথমপত্রের পরীক্ষা দিয়েছে ওই ছাত্র।
পূর্ব বর্ধমানের রায়না থানার দুর্গাদাস হাই স্কুলের ছাত্র সৌরভ। ওই স্কুলের পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষাকেন্দ্র উচালন হাই স্কুলে। সোমবার অন্যান্য সহপাঠীর সঙ্গে পরীক্ষা দিয়েছে সৌরভও। তবে রাস্তাটা সহজ ছিল না।
স্থানীয় সূত্রে খবর, মাধবডিহি থানার বাসিন্দা সৌরভ গত বুধবার আত্মহত্যার চেষ্টা করে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করানো হয়েছিল। পরিবারের দাবি, সৌরভের এমন পদক্ষেপের কারণ, মাধ্যমিক।
দশম শ্রেণিতে পড়াশোনা করতে করতেই কিছু দিনের জন্য কাজে চলে যেতে হয়েছিল ওই নাবালককে। পারিবারিক অর্থাভাবে বাইরে শ্রমিকের কাজ করত সে। তবে মাধ্যমিক পরীক্ষা দেওয়ার ইচ্ছা ছিলই। কিন্তু ঠিক কত দিনের মধ্যে ফর্ম পূরণ করতে হবে, সেই খবর ছিল না ছেলেটির কাছে। সেখান থেকেই গন্ডগোল। স্কুলের প্রধানশিক্ষক শিবমণি গণ বলেন, ‘‘যোগাযোগ করা হয়েছিল। কিন্তু ওই ছাত্রকে তখন পাওয়া যায়নি। গত বুধবার সে ফর্ম পূরণ করতে এসেছিল। কিন্তু তত ক্ষণে পোর্টাল বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ছেলেটি বাড়ি ফিরে যায়। তার পর শুনি ও বিষপান করেছে। কিন্তু আমাদের কিছু করার ছিল না।’’
বিভিন্ন মাধ্যম থেকে ওই খবর পেয়ে তৃণমূল সাংসদ অভিষেকের অফিস থেকে যোগাযোগ করে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে। অতিরিক্ত জেলাশাসক অমিয়কুমার দাস বিষয়টি জানার পেরে ছাত্রের খোঁজ নেন। কিন্তু সে পরীক্ষা দিতে পারবে কি না, তা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। ঘটনাক্রমে বর্ধমানের শাসকদলের এক যুবনেতা গোটা বিষয়টি দলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেকের অফিসকে জানান। ছেলেটি যাতে পরীক্ষা দিতে পারে তা নিশ্চিত করতে স্কুল পরিদর্শক-সহ জেলা প্রশাসনের তরফে তৎপরতা শুরু হয়।
জানা গিয়েছে, জেলাশাসকের চিঠি পেয়ে পরীক্ষা শুরুর আগে মাধবডিহির চকচন্দনপুর হাই স্কুলের ওই ছাত্রকে অ্যাডমিট কার্ড দিয়েছে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ। পর্ষদের এক কর্তার কথায়, ‘‘প্রত্যেকের তৎপরতার জন্য ওই ছাত্রকে দিয়ে পোর্টালে ফর্ম পূরণ করানো হয়েছে। পরীক্ষা শুরুর আগে অ্যাডমিট কার্ড পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।’’
জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষা দিতে পেরে খুশি সৌরভ। জানিয়েছে, মোটের উপর ভালই হয়েছে পরীক্ষা।
অন্য দিকে, সোমবার বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের বেডে বসে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছে এক অসুস্থ ছাত্র। কয়েক দিন আগে ‘কাফ সিরাপ’ ভেবে পোকামাকড় মারার ওষুধ খেয়ে নিয়েছিল সে। সোমবার নিজের জন্মদিনে মাধ্যমিকের প্রথমপত্রের পরীক্ষা দিয়েছে সে।