—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
যাঁরা বন্ধ ঘরে সালিশি সভা ডেকে জরিমানার নিদান দিয়েছিলেন দেওয়ানদিঘির জগদাবাদের তৃণমূল নেতাকে, ক্ষমতার পালাবদলের আগে তাঁদের কয়েক জন তৃণমূলই করতেন বলে গ্রামবাসীর একাংশের দাবি। ২০১১ সালের পরে ওই অভিযুক্তরা তৃণমূলের সঙ্গে ভিড়ে সিপিএমের এক শিক্ষককে জরিমানাও করেন বলে অভিযোগ। ধৃত বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে রাজ্যের শৃঙ্খলাকমিটির কাছে রিপোর্ট পাঠিয়েছে বর্ধমান-দুর্গাপুর সাংগঠনিক জেলা কমিটি।
জরিমানার চাপে তৃণমূলের প্রাক্তন কর্মাধ্যক্ষ স্বরূপ রানার আত্মহত্যার ঘটনায় দলের নেতাদের নাম জড়ানোয় অস্বস্তিতে পড়েছে বিজেপি নেতৃত্ব। জেলা সভাপতি অভিজিৎ তা এলাকার মণ্ডল সভাপতির সঙ্গে বৈঠক করেছেন। যে ঘটনার জন্য বিজেপির গায়ে কাদা লেগেছে, তাতে অভিযুক্তদের শাস্তি প্রাপ্য বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। ‘আইন নিজের হাতে তুলে নিলে দল পাশে থাকবে না। প্রশাসনের কাজে দল নাকও গলাবে না’, এই বার্তাও দেওয়া হচ্ছে।
দেওয়ানদিঘির জগদাবাদের এই মৃত্যু, বিজেপি অন্দরে অনেক প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। দলীয় রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, অনেক গ্রামেই জরিমানা করা হচ্ছে। না দিলে একঘরে করে রাখা হচ্ছে। মণ্ডলের নেতৃত্বের ইন্ধনে বুথ কমিটির কর্মীরা নানা হুমকি-হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, ভোটের ঠিক আগে বা ক্ষমতার পালাবদলের পরে ‘হঠাৎ’ বিজেপি হওয়া লোকেরাই মূলত স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বকে জরিমানা-বয়কট করার পথে হাঁটছেন। আর তাঁদের সঙ্গে থাকছেন ২০১৯ সালের পরে সিপিএম ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া স্থানীয়রা।
বিজেপির বর্ধমান-দুর্গাপুর সাংগঠনিক জেলার মুখ্য মুখপাত্র কল্যাণ মাজি বলেন, “একদম বুথ পর্যন্ত দলীয় ভাবে চিঠি পাঠিয়ে প্রত্যেককে সতর্ক করা হয়েছে। প্রতিটি সভায় অনুশাসন লঙ্ঘন করা থেকে আইন নিজের হাতে নেওয়া যাবে না বলে সতর্ক করা হয়েছে।” দলের বর্ধমান উত্তরের মণ্ডল সভাপতি (১) রাজকুমার সাউ বলেন, “জগদাবাদের ঘটনা থেকে শিক্ষা নিতে হবে।”
বিজেপি নেতাদের স্পষ্ট বার্তা, তোলাবাজি, গোষ্ঠী কোন্দল করলেও রেহাই মিলবে না। সেই কারণে বর্ধমান উত্তরের দলীয় প্রার্থী সঞ্জয় দাস, জামালপুরের মণ্ডল সভাপতি প্রধানচন্দ্র পাল, তোলাবাজিতে অভিযুক্ত বর্ধমানের দুই যুব নেতাকেও শাস্তির মুখে পড়তে হয়েছে।