Israel Lebanon Conflict

সংঘর্ষবিরতির চুক্তি স্বাক্ষর করল ইজ়রায়েল-লেবানন, মধ্যস্থতায় আমেরিকা! ইরান সমর্থিত গোষ্ঠী কি শান্ত হবে? সরবে ‘কাঁটা’?

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা, ইজ়রায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যু হয়েছিল। তার পর থেকেই আক্রমণের ঝাঁজ বাড়িয়ে দেয় হিজ়বুল্লা।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৭ জুন ২০২৬ ০৯:২৭
ওয়াশিংটনে চুক্তি স্বাক্ষর লেবানন এবং ইজ়রায়েলি রাষ্ট্রদূতের। উপস্থিত মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিয়োও।

ওয়াশিংটনে চুক্তি স্বাক্ষর লেবানন এবং ইজ়রায়েলি রাষ্ট্রদূতের। উপস্থিত মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিয়োও। ছবি: রয়টার্স।

আমেরিকার মধ্যস্থতায় চুক্তি স্বাক্ষর করে ফেলল ইজ়রায়েল এবং লেবানন। হিজ়বুল্লার সঙ্গে ইজ়রায়েলি সশস্ত্র বাহিনীর সংঘাত থামানোর বিষয়ে লিখিত ভাবে দুই দেশ সম্মত হয়েছে। শুক্রবার তারা আমেরিকার সঙ্গে একটি ত্রিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। তবে এতে ইরান সমর্থিত গোষ্ঠী হিজ়বুল্লাকে কতটা দমানো যাবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। কারণ, হিজ়বুল্লা ইতিমধ্যে জানিয়ে দিয়েছে, তারা চুক্তির বাস্তবায়নে কোনও সহায়তা করবে না।

Advertisement

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যু হয়েছিল। তার পর থেকেই আক্রমণের ঝাঁজ বাড়িয়ে দেয় হিজ়বুল্লা। দেশ রক্ষার প্রয়োজনে লেবাননের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইজ়রায়েল এই গোষ্ঠীর সঙ্গে সংঘাত চালাতে থাকে। লেবাননে ঢুকে পড়ে ইজ়রায়েলি সেনা। তাদের হামলায় পশ্চিম এশিয়ার এই দেশে চার হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সংবাদসংস্থা রয়টার্স। হিজ়বুল্লার আক্রমণে ইজ়রায়েলের ৩২ জন সেনা আধিকারিক এবং চার নাগরিকও নিহত হয়েছেন।

আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি ফেরানোর পথে লেবাননে ইজ়রায়েলের আগ্রাসনই ছিল অন্যতম কাঁটা। ইরান জানিয়ে দিয়েছিল, এই আগ্রাসন বন্ধ না হলে তারা কোনও চুক্তি করবে না। সেই মতো আমেরিকার মধ্যস্থতায় চুক্তি স্বাক্ষর করেছে লেবানন-ইজ়রায়েল। শুক্রবার ওয়াশিংটনে ছিলেন লেবাননের রাষ্ট্রদূত নাদা মোয়াদ এবং ইজ়রায়েলি রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লেইটার। চুক্তির আগে মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিয়ো বলেন, ‘‘একটা কঠিন যাত্রায় আজ আমরা প্রথম পদক্ষেপ করলাম। নিঃসন্দেহে এই যাত্রা কঠিন হতে চলেছে। তবে একই সঙ্গে তা গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রয়োজনীয়ও বটে।’’ পরে রুবিয়ো জানিয়েছেন, লেবানন বিষয়ক ত্রিপাক্ষিক সামরিক সমন্বয় গোষ্ঠীর মাধ্যমে এই চুক্তি বাস্তবায়নে সহায়তা করবে আমেরিকা। রাষ্ট্রপুঞ্জের সঙ্গে সমন্বয়ে ১০ কোটি ডলারের মানবিক সহায়তাও আমেরিকা প্রদান করবে। এ ছাড়া, লেবাননের সশস্ত্র বাহিনীর ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য অর্থসাহায্যের কথাও জানিয়েছে আমেরিকা, যাতে লেবাননের সমগ্র ভূখণ্ড জুড়ে সার্বভৌমত্ব জোরদার হয়।

চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, লেবাননের ভূখণ্ড থেকে সেনা সরিয়ে নেবে ইজ়রায়েল। প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, প্রাথমিক ভাবে দু’টি ‘পাইলট জ়োন’ থেকে সেনা প্রত্যাহার শুরু হবে। ইজ়রায়েলি সেনা সরে যাওয়ামাত্র সেখানকার ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ নেবে লেবাননের সেনা। লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন জানিয়েছেন, এই চুক্তির মাধ্যমে লেবাননের জনগণ একটি সম্পূর্ণ মুক্ত ভূখণ্ড পাবেন। যে যাঁর বাড়ি ফিরবেন এবং তাঁদের সার্বভৌমত্বে আর কেউ ভাগ বসাবে না। চুক্তি স্বাক্ষরের পর ইজ়রায়েলি রাষ্ট্রদূত লেইটারের কথায়, ‘‘ইরান আউট। হিজ়বুল্লা আউট। ইজ়রায়েল এবং লেবাননের মধ্যে শান্তির পথ এ বার খুলল।’’

আমেরিকা-ইরান সংঘর্ষবিরতির মউ স্বাক্ষর করেছে কিছু দিন আগে। সেই মতো গত সপ্তাহে সুইৎজ়ারল্যান্ডে দুই দেশের প্রতিনিধিরা বৈঠকও করেন। তবে হরমুজ় প্রণালীতে একটি পণ্যবাহী জাহাজে হামলাকে কেন্দ্র করে ফের উত্তেজনা ছড়িয়েছে। একে অপরকে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান ও আমেরিকা। ইজ়রায়েল-লেবানন চুক্তি শান্তি ফেরাতে পারে কি না, তা ভবিষ্যৎই বলবে।

Advertisement
আরও পড়ুন