বিডিও অফিসের সামনে ‘যুবসাথী’ ও খেতমজুরদের অনুদান প্রকল্পের আবেদনপত্র পূরণে সিপিএমের সহায়তা শিবির। বৃহস্পতিবার কাটোয়ায়। —নিজস্ব চিত্র।
সকাল ১০টা বাজলেই তাঁরা হাজির হয়ে যাচ্ছেন পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া ২ নম্বর বিডিও অফিসের সামনের একটি বারান্দায়। সারা দিন সেখানে বসেই লোকজনের আবেদনপত্র পূরণে সাহায্য করছেন। ওঁরা সিপিএম কর্মী। মুখে রাজ্য সরকারের সমালোচনা করলেও ‘যুবসাথী’ এবং খেতমজুরদের অনুদান প্রকল্পের আবেদনপত্র পূরণে সহায়তা করতে পিছপা হননি।
রাজ্য সরকার ঘোষণা করার পরে গত রবিবার থেকেই যুবসাথী প্রকল্প এবং খেতমজুরদের অনুদানের আবেদনপত্র গ্রহণ শুরু হয়েছে প্রশাসনিক কার্যালয়ে। দাঁইহাট শহরের কাটোয়া ২ নম্বর বিডিও অফিসে ভিড় বাড়ছে প্রতি দিনই। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, কাটোয়া ২ নম্বর ব্লকে সাতটি অঞ্চল রয়েছে। প্রতিটি অঞ্চলের জন্য আলাদা দিন নির্দিষ্ট করে আবেদনপত্র গ্রহণ করা হচ্ছে।
বুধবার ছিল আবেদন গ্রহণের চতুর্থ দিন। বৃহস্পতিবার দেখা যায়, শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও আবেদনকারীদের সহায়তার জন্য শিবির করা হয়েছে। পাশাপাশি বিডিও অফিসের সামনে বসে সিপিএমের কয়েক জন নেতাও আবেদনকারীদের ফর্ম পূরণে সাহায্য করছেন। উপস্থিত ছিলেন কাটোয়া ২ নম্বর ব্লকের জগদানন্দপুর পঞ্চায়েতের সদস্য তথা সিপিএমের এরিয়া কমিটির সদস্য মাধাই ঘোষ, এরিয়া কমিটির সদস্য কিংশুক মণ্ডল এবং প্রবীণ সিপিএম নেতা সোমদেব মণ্ডল।
মাধাই দাবি করেন, “বুধবার পর্যন্ত আমরা এক হাজারেরও বেশি মানুষের আবেদনপত্র পূরণে সহায়তা করেছি। অনেক খেটে খাওয়া গরিব মানুষ নিজেরা ফর্ম পূরণ করতে পারেন না। তাঁদের অন্যত্র টাকা দিয়ে ফর্ম পূরণ করাতে হচ্ছে। তাই আমরা স্বেচ্ছাশ্রম দিয়ে সাহায্য করছি।”
উল্লেখ্য, রাজ্য সরকারের বিভিন্ন জনমুখী প্রকল্প যেমন, যুবসাথী ও খেতমজুরদের ভাতা নিয়ে বামেদের প্রায়শই কটাক্ষ করতে দেখা যায়। এ বার সেই প্রকল্পের আবেদন প্রক্রিয়ায় সহায়তা করতে দেখা গেল তাঁদেরই নেতা-কর্মীদের। এই নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সিপিএম নেতা সোমদেব মণ্ডল বলেন, “আমরা ভবিষ্যতের কথা ভেবে সমালোচনা করছি। বেকার যুবক-যুবতীরা কাজ পাচ্ছেন না। কিছু ভাতা দিয়ে ভুলিয়ে রাখার চেষ্টা হচ্ছে। আর এই টাকা কোনও দল নিজের ঘর থেকে দিচ্ছে না, জনগণের ট্যাক্সের টাকাতেই দেওয়া হচ্ছে।”
অন্য দিকে, কাটোয়া ২ নম্বর ব্লক তৃণমূল সভাপতি পিন্টু মণ্ডল বলেন, “সিপিএম ভাষণে আছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় আছে। সাধারণ মানুষের প্রকৃত অবস্থা তারা এখনও উপলব্ধি করতে পারছে না বলেই সমালোচনা করে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাধারণ মানুষের সমস্যা বোঝেন, তাই বিভিন্ন স্তরের মানুষের জন্য একের পর এক জনমুখী প্রকল্প চালু করেছেন।”