আগুনে পুড়ে যাওয়া সেই কামরা খতিয়ে দেখে ফরেনসিক দল। — নিজস্ব চিত্র।
পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা আজিমগঞ্জ প্যাসেঞ্জারের কামরায় আগুন লাগার ঘটনায় এ বার তদন্ত শুরু করল ফরেনসিক দল। সোমবার ঘটনাস্থলে যায় বিশেষজ্ঞ দল। নমুনা সংগ্রহ করে তারা। একই সঙ্গে বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পূর্ব রেলও। এক আধিকারিক জানিয়েছেন, কী ভাবে আগুন লাগল তা দেখা হচ্ছে। ঘটনাস্থলে ওই সময়কার সিসিটিভি ফুটেজে কয়েক জনের গতিবিধি লক্ষ করা গিয়েছে। অনুমান, বাইরে থেকেই ওই কামরায় আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
রবিবার ভোরে কাটোয়া স্টেশনের দু’নম্বর প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে ছিল ৫৩৪৩৫ আপ আজিমগঞ্জ প্যাসেঞ্জার। সকাল ৬টায় ট্রেনটি ছাড়ার কথা। তবে ভোর সাড়ে ৪টে নাগাদ আচমকা ওই ট্রেনের একটি কামরায় আগুন ধরে যায়। কী ভাবে আগুন লাগল, তা ভাবাচ্ছে রেল আধিকারিকদের। সোমবার সকালে ঘটনাস্থল পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে খতিয়ে দেখেন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞেরা। সকাল থেকেই দুর্গাপুর থেকে যাওয়া রাজ্য ফরেনসিক দলের আঞ্চলিক তদন্তকারীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করেন।
জানা গিয়েছে, ফরেনসিক দল প্রথমেই আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত কামরাটিকে ঘিরে রেখে সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণ শুরু করে। কামরার ভেতরে কোনও দাহ্যবস্তু ছিল কি না, আগুনের উৎসস্থল কোথায়— মূলত এই দু’টি বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে পরীক্ষা চালানো হয়। বিশেষজ্ঞেরা কামরার বিভিন্ন অংশ থেকে নমুনা সংগ্রহ করেন এবং সম্ভাব্য দাহ্য পদার্থের উপস্থিতি খতিয়ে দেখেন। শুধু রাজ্য নয়, কেন্দ্রীয় ফরেনসিক দলও ঘটনাস্থলে যায়। কেন্দ্রীয় ফরেনসিক বিভাগের সহকারী আধিকারিক ডক্টর পাওয়ার রমেশ জানান, আগুনের সূত্রপাত কোথা থেকে হয়েছে তা নির্দিষ্ট ভাবে চিহ্নিত করতে কামরার মেঝে, সিটের অংশ, বৈদ্যুতিক সংযোগ ও জানলার পাশের অংশ বিশেষ ভাবে পরীক্ষা করা হয়েছে। গোটা প্রক্রিয়ার ভিডিয়ো রেকর্ডিং করা হয়।
যদিও প্রাথমিক ভাবে রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, যখন আগুন লাগে ট্রেনটিতে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ ছিল। তবুও সমস্ত সম্ভাবনাকেই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত নমুনা পরীক্ষাগারে পাঠানো হবে বলে জানান বিশেষজ্ঞেরা। রেল সূত্রে খবর, ফরেনসিক রিপোর্ট হাতে পেলেই স্পষ্ট হবে এই অগ্নিকাণ্ড নিছক দুর্ঘটনা, না কি এর নেপথ্যে রয়েছে অন্য কোনও কারণ।
সোমবার সন্ধ্যায় পূর্ব রেলের আইজি অমিয়নন্দন সিন্হা কাটোয়া স্টেশনে যান। আজিমগঞ্জ প্যাসেঞ্জারের ওই কামরাটি পরিদর্শন করেন। পরে তিনি জানান, কী ভাবে আগুন লাগল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার সময়ে কয়েক জনের গতিবিধি লক্ষ করা গিয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরায়। তবে ফরেনসিক দলের তদন্তে ঘটনার সত্যতা জানা যাবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
আগুনে পুড়ে যাওয়া কামরাটিকে কাটোয়া স্টেশনের ‘কারসেডে’ সরিয়ে রাখা হয়েছে। প্রমাণ যাতে নষ্ট না-হয় তার জন্য কড়া নিরাপত্তা বলয়ে সেটাকে ঘিরে রাখা হয়েছে।