—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
মুখে বললেন কষ্ট হচ্ছে না। টিকিট না পেয়ে বেঁচে গিয়েছেন। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাবেন। কিন্তু গলায় জমা অভিমান ঢাকা গেল না। পূর্বস্থলী উত্তরের বিদায়ী তৃণমূল বিধায়ক তপন চট্টোপাধ্যায় বুধবার বলেই ফেললেন, ‘‘প্রয়োজনে রাজনীতি থেকে অবসরও নিতে পারি।’’
গোড়া থেকে তৃণমূলের সঙ্গী তিনি। ডাকাবুকো নেতা বার বার বিতর্কেও জড়িয়েছেন। বাম আমলে দলের হয়ে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে গিয়ে এক বিডিওর মাথায় টোপর পরিয়ে দেওয়ায় জেল খাটতে হয় তাঁকে। বছর খানেক আগে বিধানসভার অন্দরে বিরোধী দলনেতার সঙ্গেও তর্কে জড়ান। দলের বিভিন্ন কাজ নিয়েও বিভিন্ন সময় সরব হয়েছেন তিনি। এই কেন্দ্রে ২০০১ এবং ২০০৬ সালে বহিরাগত প্রার্থী আনসার আলি মণ্ডল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। কিন্তু জেতেননি। ২০১১ সালে তৃণমূলের হয়ে তপনই জয়ের খাতা খোলেন। ২০১৬ সালে তিনি সিপিএম প্রার্থী প্রদীপকুমার সাহার কাছে হেলে গেলেও ২০২১-এ ফের বিধায়ক হন তিনি। তৃণমূলের দাবি, টিকিট পাওয়া নিয়ে নিশ্চিত ছিলেন তপন। দলের প্রতীক এঁকে দেওয়াল লিখনের কাজ শুরু হয়ে গিয়েছিল। মঙ্গলবার কলকাতার বসুন্ধরা গোস্বামীর নাম ঘোষণা হতেই ভেঙে পড়েন কর্মীদের একাংশও। তাঁদের প্রশ্ন, চেনা নেতাকে সরিয় বহিরাগত প্রার্থী কি দাগ কাটতে পারবেন?
তপন বলেন, ‘‘১৯৯৮ সালে যাঁরা এসেছেন, তাঁরা দলে মর্যাদা পাবেন না। যাঁরা পরে সিপিএম, বিজেপি থেকে এসেছেন, বার বার দল বদলেছেন, তাঁদের দামই বেশি।’’ তার পরেই তাঁর সংযোজন, ‘‘স্ত্রী ২০১৪ সালে মারা গিয়েছেন। দলের কাজের জন্য তখন সংসার দেখিনি। এখন ৭০ বছর বয়স আমার। মেয়ে, নাতনির সঙ্গে থাকব। প্রয়োজনে রাজনীতি থেকে অবসর নেব।’’ ভোটকুশলী সংস্থার বিরুদ্ধেও ক্ষোভ জানান তিনি। তাঁর দাবি, অন্যায় ভাবে রোজগার করেননি। ট্রেনে যাতায়াত করেছেন। কাউকে অন্যায় সুবিধা দেওয়ারও পক্ষপাতী নন। নতুন প্রার্থীকে নিয়ে তাঁর মন্তব্য, ‘‘দেখার আর কি আছে! যিনি প্রার্থী হয়েছেন, তিনি আমার থেকে যোগ্য। আসবেন।কর্মীদের নিয়ে ভোট করবেন। আশা করি, বেশি ব্যবধানে জিতবেন।’’
তৃণমূলের এক জেলা নেতা বলেন, ‘‘পূর্বস্থলী উত্তর কেন্দ্রে তপনদার বিকল্প নেই। প্রতিটি বুথ ওঁর চেনা। এ বারের নির্বাচনে উনি নিজেকে সরিয়ে নিলে বিরোধীরা সুবিধা পাবে।’’ এক সময় তৃণমূলে থাকলেও এই বিধানসভা এলাকার বেশ কিছু নেতা যোগ দিয়েছেন হুমায়ুন কবীরের দলে। তাঁদের মধ্যে পঙ্কজ গঙ্গোপাধ্যায় এই দলের জেলা সভাপতি। এ দিন তিনি বলেন, ‘‘এখন আর তৃণমূলের সঙ্গে আমার সম্পর্ক নেই। তবে যাঁকে তৃণমূল টিকিট দিল না, তাঁকে আরও আগে সরিয়ে দেওয়া উচিত ছিল। বিদায়ী বিধায়কই এই এলাকার ভাঙনের কারণ।’’
২০১১ সাল থেকে এই কেন্দ্রে টানা প্রার্থী হচ্ছেন সিপিএমের প্রদীপকুমার সাহা। তৃণমূলের প্রার্থী নিয়ে তাঁর দাবি, ‘‘শাসক দলের প্রার্থী পরিযায়ী। তাঁকে মানুষ ভাল ভাবে নেবেন না। তবে কে প্রার্থী, তা নিয়ে ভাবছি না। লড়াই তো হবে দলের সঙ্গে।’’ বিজেপির কাটোয়া সাংগঠনিক জেলার প্রাক্তন সভাপতি গোপাল চট্টোপাধ্যায়ের দাবি, ‘‘এই কেন্দ্রে বিজেপি বড় ব্যবধানে জিতবে। তৃণমূলের প্রার্থী বহিরাগত হওয়ার ফলে ব্যবধান বাড়বে।’’