VB-G RAM G Bill

পুকুর সংস্কার দিয়ে জেলায় শুরু হল জি-রামজি প্রকল্প

‘জি-রামজি’ প্রকল্পের সূচনা হয় দেশ জুড়ে। অন্ধ্রপ্রদেশের তিরুপতি থেকে এই প্রকল্পের সূচনা করা হয়। এ দিন পশ্চিম বর্ধমানের কাঁকসার বিদবিহার পঞ্চায়েতের ফুলঝোড় গ্রামে একটি পুকুর সংস্কারের মধ্য দিয়ে এই প্রকল্পের কাজ শুরু হল।

নিজস্ব সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০৪ জুলাই ২০২৬ ০১:৩৭
কাঁকসার বিদবিহার পঞ্চায়েতের ফুলঝোড় গ্রামে চালু হল পুকুর সংস্কার।

কাঁকসার বিদবিহার পঞ্চায়েতের ফুলঝোড় গ্রামে চালু হল পুকুর সংস্কার। ছবি: বিপ্লব ভট্টাচার্য।

পুরনো একশো দিনের কাজের নাম বদলে রাখা হয়েছে ‘বিকশিত ভারত-গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড অজীবিকা মিশন’ (জি-রামজি)। বৃহস্পতিবার কাঁকসা ব্লকের বিদবিহার পঞ্চায়েতের ফুলঝোড় গ্রামে একটি অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পশ্চিম বর্ধমানে এই কাজের সূচনা হয়। প্রায় চার বছর পরে এই কাজ পেয়ে খুশি ফুলঝোড়ের বাসিন্দারা।

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বছরে ১০০ দিনের কাজের পরিবর্তে ১২৫ দিন কাজ পাবেন সাধারণ মানুষ। পুকুর সংস্কার থেকে শুরু করে নানাবিধ সামাজিক উন্নয়নের কাজ করা হবে। এ দিন উপস্থিত ছিলেন মহকুমাশাসক (দুর্গাপুর) কৌশিক চট্টোপাধ্যায়, এই প্রকল্পের জেলার নোডাল অফিসার অতনু মণ্ডল, বিডিও (কাঁকসা) সৌরভ গুপ্ত-সহ আরও অনেকে।

নোডাল অফিসার অতনু বলেন, “এই প্রকল্পে স্বাস্থ্য বিষয়ক থেকে পরিবেশ সচেতনতায় বিভিন্ন কাজ করা যাবে। পাশাপাশি প্রান্তিক এলাকার মানুষজনদের কর্মসংস্থান বাড়বে। গ্রামীণ এলাকাকে সমৃদ্ধ করা যাবে এই প্রকল্পের মাধ্যমে।”

এ দিন ‘জি-রামজি’ প্রকল্পের সূচনা হয় দেশ জুড়ে। অন্ধ্রপ্রদেশের তিরুপতি থেকে এই প্রকল্পের সূচনা করা হয়। এ দিন পশ্চিম বর্ধমানের কাঁকসার বিদবিহার পঞ্চায়েতের ফুলঝোড় গ্রামে একটি পুকুর সংস্কারের মধ্য দিয়ে এই প্রকল্পের কাজ শুরু হল। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এই কাজ বছরে ১২৫ দিন করে সাধারণ মানুষকে দেওয়া হবে। ১০০ দিনের কাজের সময় যাঁদের জব কার্ড ছিল, তাঁদের পাশাপাশি বিভিন্ন জনকল্যাণ শিবিরে জব কার্ডের জন্য যাঁরা আবেদন করেছেন, তাঁরাও এই কাজের যোগ দিতে পারবেন। আগে এই কাজের জন্য মজুরি ছিল ২৬০ টাকা। এখন তা ৩০০ টাকা করা হয়েছে। কাজের পরিধিও অনেক বেড়েছে বলে দাবি প্রশাসনের।

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, সরকারি জায়গায় পুকুর খনন, নতুন নিকাশি নালা তৈরি, সেচখাল সংস্কার, সেচখাল তৈরি, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র সংস্কার, সীমানা পাঁচিল, রাস্তা তৈরির কাজ তো রয়েছে। এ ছাড়া, কোনও স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরিকাঠামোর উন্নয়ন, স্কুলের সীমানা তৈরি, গ্রামীণ এলাকার রাস্তা, বন্যাদুর্গত এলাকায় ‘ফ্লাড সেল্টার’ তৈরি, বন্যা প্রতিরোধের ব্যবস্থা করা, বনসৃজন, জঙ্গলে আগুন প্রতিরোধের ব্যবস্থা, বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ ব্যবস্থাপনা-সহ বিভিন্ন কাজ এই প্রকল্পের মাধ্যমে করা যাবে। এই মুহূর্তে জেলায় ৩১৮টি ক্ষেত্রে এই প্রকল্পের কাজ চলবে। জেলার আটটি পঞ্চায়েত এলাকায় চলছে এই কাজ। পরবর্তীতে জেলার অন্য পঞ্চায়েতেও বিভিন্ন কাজ করা হবে।

এ দিন ফুলঝোড় এলাকার কয়েক জন পুরুষ ও মহিলা কাজে যোগ দিয়েছিলেন। রিনা লোহার, বীণাপাণি লোহারদের কথায়, “বেশ কয়েক বছর পর কাজ পেয়ে খুব ভাল লাগছে। আমাদের গ্রামের লোকেদের কর্মসংস্থানের জন্য এই কাজ খুব দরকার।” পাশাপাশি তাঁদের দাবি, পুরুষদের সমান তাঁদের কাজ করতে হচ্ছে। এই জায়গাটি যদি একটু কমানো যায়, তা হলে মহিলাদের সুবিধা হয়।

মহকুমাশাসক কৌশিক বলেন, “প্রায় চার বছর পর এই কাজ শুরু হল। গ্রামের উন্নয়নের বিভিন্ন কাজ এই প্রকল্পের মাধ্যমে করা যাবে। আগের থেকে পারিশ্রমিকও বেড়েছে।”

আরও পড়ুন