Husband Kills Wife in Bardhaman

শ্বশুরবাড়ি গিয়ে স্ত্রীকে কুপিয়ে খুন করে পালিয়েছিলেন, হাওড়ার যুবককে গ্রেফতার করল বর্ধমানের পুলিশ

ছ’মাসের অন্তঃসত্ত্বা থাকাকালীন মহিলাকে শ্বশুরবাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। কিন্তু তার পরেও রেহাই মেলেনি। স্বামীর হাতে খুন হলেন তিনি।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১২ মে ২০২৬ ২০:৪২

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

স্ত্রীকে কুপিয়ে খুনের অভিযোগে এক বৃদ্ধকে গ্রেফতার করেছে বর্ধমান থানার পুলিশ। ধৃতের নাম সঞ্জয় পাল। হাওড়ার মালিপাঁচঘড়া থানার লালবিহারী বোস লেনে তাঁর আদি বাড়ি। বর্তমানে হাওড়ার লিলুয়া থানার কোনাবাজার এলাকায় থাকেন।

Advertisement

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ১৮ বছর আগে শহরের রথতলা পদ্মপুকুরের বাসিন্দা শিবানী দাসের সঙ্গে সঞ্জয়ের বিয়ে হয়েছিল। বিয়ের কিছু দিন পর থেকে শ্বশুরবাড়িতে শিবানীর উপর শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতন শুরু হয়। ছ’মাসের অন্তঃসত্ত্বা থাকাকালীন শিবানীকে শ্বশুরবাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।

বাপেরবাড়িতে ফিরে যান শিবানী। বর্তমানে বছর সতেরোর এক কন্যা রয়েছে তাঁর। কিন্তু বাপের বাড়িতে ফিরে গিয়েও স্বামীর হাত থেকে ‘নিস্তার’ পাননি শিবানী। তাঁর বাপের বাড়ির অভিযোগ, প্রায়শই স্ত্রীর কাছ থেকে টাকা চাইতেন সঞ্জয়। টাকা দিতে না পারলে তাঁকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হত। মাঝেমধ্যেই বর্ধমানে শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে স্ত্রীকে মানসিক নির্যাতন করতেন।

সোমবার বিকেলেও শ্বশুরবাড়ি যান সঞ্জয়। ওই সময় বাড়িতে কেবল শিবানী ছিলেন। অভিযোগ, তাঁকে একা পেয়ে রামদা দিয়ে কোপান সঞ্জয়। মহিলার চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে প্রতিবেশীরা তাঁর বাড়িতে ছুটে যান। বেশ খানিক ক্ষণ পরে তাঁকে উদ্ধার করে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু চিকিৎসক শিবানীকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এর পর মৃতার দাদা গৌতম দাস থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।

পুলিশ সূত্রে খবর, ওই অভিযোগের ভিত্তিতে রথতলা বাজার এলাকা থেকে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মঙ্গলবার ধৃতকে বর্ধমান সিজেএম আদালতে হাজির করানো হয়। তদন্তের প্রয়োজনে ধৃতকে সাত দিনের জন্য হেফাজতে চেয়েছিল পুলিশ। তবে শেষমেশ ছ’দিনের পুলিশি হেফাজত মঞ্জুর করেন সিজেএম।

Advertisement
আরও পড়ুন